প্রকাশ: শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৫৬ এএম (ভিজিট : ১৫৯)

সংগৃহীত ছবি
নাটোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজের বিরুদ্ধে ওঠা নৈতিক স্খলনের অভিযোগ ও সাম্প্রতিক বিতর্কিত ঘটনাকে কেন্দ্র করে তার দলীয় পদ নিয়ে সিদ্ধান্তহীনতায় রয়েছে নাটোর জেলা বিএনপি। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার জেলা কমিটির না থাকায় বিষয়টি দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সন্ধ্যায় সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান নাটোর জেলা বিএনপির সদস্যসচিব আসাদুজ্জামান আসাদ।
আব্দুল আজিজ জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক। জেলা বিএনপি নেতাদের ভাষ্য, দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী জেলা আহ্বায়ক কমিটির কোনো যুগ্ম আহ্বায়কের বিরুদ্ধে বহিষ্কারসহ সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা তাদের নেই। এ কারণে তার দলীয় পদ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দায়িত্ব কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের ওপর ন্যস্ত করা হয়েছে।
সম্প্রতি গুরুদাসপুর পৌর ছাত্রদলের সদস্যসচিব শাকিল ইসলাম হত্যা মামলায় আব্দুল আজিজের বড় ছেলে নূরুজ্জামান মিন্টুকে গ্রেপ্তার করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পরে তাকে রিমান্ডে নেওয়া হয়। এর পরদিন ২৮ অক্টোবর সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজের একটি আপত্তিকর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। পরপর এসব ঘটনায় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। একই সঙ্গে নৈতিক স্খলনের অভিযোগ তুলে তার সংসদ সদস্য ও দলীয় পদ থেকে পদত্যাগের দাবিও ওঠে।
এ পরিস্থিতিতে করণীয় নির্ধারণে শুক্রবার সকাল ১০টায় নাটোর জেলা পরিষদ হলরুমে জরুরি বিশেষ সভা আহ্বান করে জেলা বিএনপি। জেলা আহ্বায়ক কমিটির অধিকাংশ সদস্যের উপস্থিতিতে সভাটি টানা আট ঘণ্টা চলে।
সভায় শাকিল হত্যা মামলায় রিমান্ডে থাকা এমপিপুত্র মিন্টুর বিরুদ্ধে ওঠা সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ এবং আব্দুল আজিজের ভাইরাল ভিডিও নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। পরে সদস্যদের মতামত গ্রহণ ও দলের গঠনতন্ত্র পর্যালোচনা শেষে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার এখতিয়ার জেলা কমিটির নেই বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
জেলা বিএনপির সদস্যসচিব আসাদুজ্জামান আসাদ বলেন, ‘আমরা সবগুলো ঘটনা নিয়ে আলোচনা করেছি। আমাদের কাছে আব্দুল আজিজের পরিচয় তিনি জেলার সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক। এ ছাড়া তিনি একজন জাতীয় সংসদ সদস্যও। তাই গঠনতন্ত্র মোতাবেক জেলা কমিটির ক্ষমতা নেই কোনো যুগ্ম আহ্বায়কের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার। সর্বসম্মতিক্রমে এ বিষয়ে যেকোনো পদক্ষেপ গ্রহণের সিদ্ধান্ত দলের হাইকমান্ডের ওপর ন্যস্ত করেছে কমিটি।’
এদিকে, শাকিল ইসলাম হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার নূরুজ্জামান মিন্টুর তিন দিনের রিমান্ড শেষে আরও সাত দিনের রিমান্ড চেয়েছে মামলার তদন্তকারী সংস্থা জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। শুক্রবার গুরুদাসপুর আমলি আদালতের বিচারক মেহেদী হাসানের আদালতে এ আবেদন করা হয়। শুনানি শেষে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম জানান, তদন্তের অগ্রগতির স্বার্থে গ্রেপ্তার নূরুজ্জামান মিন্টুকে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন। এ কারণে আদালতের কাছে বিধি অনুযায়ী সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে।