রবিবার ● ১৮ অক্টোবর ২০২৬ ● ২ কার্তিক ১৪৩৩

শিরোনাম: জেডআরএফের ২৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান   ককরোচ জনতা পার্টির পর এবার মোদির বিরুদ্ধে নামছে ‘মাছি জনতা পার্টি’   গ্রামীণ কল্যাণের ৬৬৬ কোটি টাকা কর পরিশোধের রায় স্থগিত   শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষে রণক্ষেত্র উত্তরা, ১৫০০ জনকে আসামি করে ২ মামলা   শরণখোলায় গৃহবধূর মৃত্যু, কথিত স্বামী পলাতক   প্রবাসে থেকেও প্রতিটি সংকটে মানুষের পাশে ছিলেন তারেক রহমান: রিজভী   নিরাপদ সড়ক দিবস উপলক্ষে ৩০০ চালকের দৃষ্টি পরীক্ষা, বিনামূল্যে চশমা বিতরণ   
বিভিন্ন সময়ে সেনাবাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্নের অপচেষ্টা হয়েছে: প্রধানমন্ত্রী
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: রোববার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৪০ এএম   (ভিজিট : ৯৭)

সংগৃহীত ছবি

সংগৃহীত ছবি

বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর সুনাম ও ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর জন্মের ইতিহাস স্বাধীনতা ও মহান মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত।

রোববার (১৮ অক্টোবর) সকালে আয়োজিত ‘ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড প্রদান অনুষ্ঠান-২০২৬’-এ বক্তব্য দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, একজন সেনা পরিবারের সদস্য হিসেবে তিনি সেনাবাহিনীর পরিবেশেই বেড়ে উঠেছেন। তাই আজ ভিন্ন পরিচয়ে অনুষ্ঠানে উপস্থিত হলেও এ পরিবেশ তাঁর কাছে নতুন নয়।

পেশাগত সাফল্য ও কৃতিত্বের স্বীকৃতি হিসেবে ৭ ও ৩২ ফিল্ড রেজিমেন্ট আর্টিলারি, ২৫ এয়ার ডিফেন্স রেজিমেন্ট, ৯ ইঞ্জিনিয়ার ব্যাটালিয়ন, ৫৬ ও ৫৭ ইস্ট বেঙ্গল এবং প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড অর্জন করায় সংশ্লিষ্ট ইউনিটগুলোর সদস্যদের অভিনন্দন জানান তিনি।

তারেক রহমান বলেন, ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড কেবল একটি পতাকা নয়; এটি একটি ইউনিটের ইতিহাস, ঐতিহ্য, শৃঙ্খলা, আত্মত্যাগ, পেশাদারত্ব এবং দেশের প্রতি অঙ্গীকারের প্রতীক।

তিনি আরও বলেন, জাতীয় পতাকার গৌরবময় উড্ডয়ন আমাদের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও অসংখ্য মানুষের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। এই পতাকা অর্জনের মধ্য দিয়ে দায়িত্ব আরও নিষ্ঠার সঙ্গে পালনের নতুন শপথ নিতে হয়। পতাকার মর্যাদা অক্ষুণ্ন রাখা প্রত্যেক সেনাসদস্যের পবিত্র দায়িত্ব।

মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে সেনাবাহিনীর জন্মের ইতিহাস জড়িত

সেনাবাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন সময়ে সশস্ত্র বাহিনীর সুনাম নষ্টের চেষ্টা হয়েছে। তবে মনে রাখতে হবে, বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর জন্ম স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে।

তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি বাহিনী নিরস্ত্র বাঙালির ওপর বর্বরোচিত হামলা শুরু করলে চট্টগ্রামে অষ্টম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের তৎকালীন উপ-অধিনায়ক মেজর জিয়াউর রহমান ‘উই রিভোল্ট’ ঘোষণা করেন।

প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, শুধু বিদ্রোহের ঘোষণা দিয়েই থেমে থাকেননি জিয়াউর রহমান। তিনি অষ্টম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে ফিরে বাংলাভাষী কর্মকর্তা ও সৈনিকদের একত্র করেন এবং তাঁদের সশস্ত্র সংগ্রামে অংশ নেওয়ার নির্দেশ দেন।

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের লেখা ‘একটি জাতির জন্ম’ নিবন্ধের উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, সেখানে ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ রাত ২টা ১৫ মিনিটে ব্যাটালিয়নের কর্মকর্তা, জেসিও ও জওয়ানদের সশস্ত্র সংগ্রামে অবতীর্ণ হওয়ার নির্দেশ দেওয়ার কথা তুলে ধরা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জিয়াউর রহমানের লেখা এসব তথ্য ১৯৭২ সালে দৈনিক বাংলা, ১৯৭৪ সালে সাপ্তাহিক বিচিত্রা এবং ১৯৮০ সালে দৈনিক দেশ-এর বিশেষ ক্রোড়পত্রে প্রকাশিত হয়েছিল।

তিনি আরও বলেন, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি বাহিনীর গণহত্যার বিরুদ্ধে প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ ও অষ্টম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের বাংলাভাষী সেনাসদস্যরা সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। পরদিন ২৬ মার্চ জিয়াউর রহমান সশস্ত্র সংগ্রামে অংশ নেওয়ার নির্দেশ দেন এবং ২৭ মার্চ কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা দেন।

প্রধানমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধে একজন সেনা কর্মকর্তার এই ঐতিহাসিক ভূমিকা সশস্ত্র বাহিনীর জন্য গৌরব ও অনুপ্রেরণার উৎস। এ কারণেই দেশের জনগণ সেনাবাহিনীর সাফল্যকে বাংলাদেশের সাফল্য হিসেবে বিবেচনা করে।

শৃঙ্খলা ও জনগণের আস্থাই সেনাবাহিনীর প্রকৃত শক্তি

একটি আধুনিক সশস্ত্র বাহিনীর সক্ষমতা শুধু অস্ত্র, সরঞ্জাম কিংবা জনবলের ওপর নির্ভর করে না বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর মতে, শৃঙ্খলা, দক্ষতা, নেতৃত্ব, নৈতিকতা, প্রশিক্ষণ, জনগণের আস্থা এবং চেইন অব কমান্ডই একটি বাহিনীর প্রকৃত শক্তির ভিত্তি।

তারেক রহমান বলেন, সরকার সশস্ত্র বাহিনীকে আরও প্রযুক্তিনির্ভর, দক্ষ, শৃঙ্খলাবদ্ধ, পেশাদার ও আধুনিক হিসেবে গড়ে তোলার কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে।

তিনি বলেন, দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সশস্ত্র বাহিনীর সব পর্যায়ের কর্মকর্তা ও সৈনিক সংবিধান, আইন, সামরিক বিধিবিধান এবং মানবিক মূল্যবোধের প্রতি অবিচল থাকবেন—এটাই জনগণের প্রত্যাশা।

আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধি

বিশ্বের নিরাপত্তা পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যুদ্ধের ধরন ও কৌশলেও ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। স্থল, সমুদ্র ও আকাশের পাশাপাশি সাইবার স্পেস, মহাকাশ, ড্রোন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ইলেকট্রনিক যুদ্ধ এবং তথ্যভিত্তিক সক্ষমতা এখন জাতীয় নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

এই বাস্তবতায় দেশের প্রতিরক্ষা প্রস্তুতিকে সময়োপযোগী করে গড়ে তোলার কার্যক্রম চলছে বলে জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকায়নের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় অস্ত্র, গোলাবারুদ ও প্রতিরক্ষাসামগ্রী দেশেই উৎপাদনের লক্ষ্যে দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্প গড়ে তোলার ওপর সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে।

তবে প্রযুক্তি কখনোই মানুষের বিকল্প হতে পারে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, এমন সমন্বিত প্রতিরক্ষা সক্ষমতা গড়ে তুলতে হবে, যাতে প্রযুক্তিগত উন্নয়নের পাশাপাশি সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনী প্রয়োজনের সময় সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারে।

দুর্যোগ মোকাবিলা ও শান্তিরক্ষায় সেনাবাহিনীর ভূমিকা

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সশস্ত্র বাহিনী শুধু দেশের প্রতিরক্ষার দায়িত্বই পালন করে না; বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, অগ্নিকাণ্ডসহ বিভিন্ন জাতীয় দুর্যোগ ও জরুরি পরিস্থিতিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পাশাপাশি বিদেশে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনেও বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন।

তিনি বলেন, সেনাসদস্যদের কল্যাণ, আবাসন, চিকিৎসা, শিক্ষা, প্রশিক্ষণ, পেশাগত উন্নয়ন এবং অবসর-পরবর্তী সামাজিক নিরাপত্তার বিষয়গুলো সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে।

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, জাতীয় পে-স্কেলে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের বেতন ও ভাতা ১০০ থেকে ১৩৮ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। এ ছাড়া সেনাসদস্যদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে ‘ওয়ান র‍্যাংক, ওয়ান পেনশন’ বাস্তবায়নের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় অঙ্গীকার

বক্তব্যের শেষাংশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতীয় স্বার্থ, সার্বভৌমত্ব ও আত্মমর্যাদা রক্ষা হবে আগামীর বাংলাদেশের মূল অঙ্গীকার। বাংলাদেশ পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সমতার ভিত্তিতে বিশ্বের সব দেশের সঙ্গে বন্ধুত্ব ও সহযোগিতার সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করতে চায়।

অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য নবম পদাতিক ডিভিশনের সংশ্লিষ্ট সদস্যদের ধন্যবাদ জানিয়ে বক্তব্য শেষ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।









  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ


সম্পাদক ও প্রকাশক: ড. কাজী এরতেজা হাসান
সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
সাউথ ওয়েস্টার্ন মিডিয়া গ্রুপ


©ডেইলি ভোরের পাতা ডটকম


©ডেইলি ভোরের পাতা ডটকম

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫।
ফোন:৮৮-০২-৪১০১০০৮৭, ৪১০১০০৮৬, বিজ্ঞাপন বিভাগ: ৪১০১০০৮৪, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৪১০১০০৮৫
অনলাইন ইমেইল: [email protected] বার্তা ইমেইল:[email protected] বিজ্ঞাপন ইমেইল:[email protected]