
সংগৃহীত ছবি
ভারতের ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) তিন নেতা অভিজিৎ দীপকে, সৌরভ দাস ও আশুতোষ রানকাকে আটকের পর অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে গেছে পুলিশ। তাঁদের কোথায় রাখা হয়েছে, সে বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। অভিজিৎ দীপকেকে গুরুগ্রামে নেওয়া হয়েছে বলে ছড়িয়ে পড়া তথ্যও অস্বীকার করেছে সেখানকার পুলিশ।
ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের পরিকল্পনা করেছিল সিজেপি। ওই কর্মসূচিতে যোগ দিতে দিল্লি বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর দলটির তিন নেতাকে আটক করা হয়। তাঁদের আটকের ঘটনায় ভারতের বিভিন্ন স্থানে রাজনৈতিক উত্তেজনা ও বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।
দিল্লিতে আটক মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দিল্লির সাউথ অ্যাভিনিউয়ে তাঁর বাসভবনের সামনে থেকে আটক করেছে পুলিশ। বেআইনি জমায়েতের অভিযোগে তাঁকে আটক করা হয় বলে জানা গেছে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দোলা সেন ও ডেরেক ও’ব্রায়েনসহ তৃণমূল কংগ্রেসের নেতাদের নিয়ে বাসভবনের সামনে ধর্নায় বসেছিলেন। এ সময় দিল্লি পুলিশ তাঁদের সেখান থেকে সরে যেতে বলে। তবে তাঁরা অবস্থান অব্যাহত রাখলে পুলিশ তাঁদের আটক করে।
আইসার জাতীয় সভাপতি নেহা বোরা আটক
ভারতের অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (আইসা) জাতীয় সভাপতি নেহা বোরাকে আটক করেছে পুলিশ। তাঁকে পুলিশের একটি বাসে রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে। এ সময় বাসটি ঘিরে বিক্ষোভ করেন আন্দোলনকারীরা।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে এবং ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ার প্রতিবাদে আয়োজিত কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটে।
আইসা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানায়, দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের পরিকল্পনা থাকলেও নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার থাকায় কর্মসূচির স্থান পরিবর্তন করে দিল্লি হাটে নেওয়া হয়েছে।
চণ্ডীগড়ে মনীশ সিসোদিয়াকে আটকের অভিযোগ
ভারতের চণ্ডীগড়ে আম আদমি পার্টির (আপ) নেতা মনীশ সিসোদিয়াকে পুলিশ আটক করেছে বলে অভিযোগ করেছে দলটি। শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে এ অভিযোগ করা হয়। পোস্টের সঙ্গে ঘটনার কয়েকটি ভিডিওও প্রকাশ করেছে দলটি।
পোস্টে আপের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সমালোচনা করে বলা হয়, তাঁরা ভিন্নমতের কণ্ঠ দমিয়ে রাখতে পারবেন না। তবে সিসোদিয়াকে আটকের বিষয়ে পুলিশের বিস্তারিত বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
যন্তর মন্তরের বিক্ষোভে নেতৃত্ব দেবেন অজিঙ্কা শিন্ডে
সিজেপির তিন নেতা আটক থাকায় দিল্লির যন্তর মন্তরে প্রস্তাবিত বিক্ষোভে দলের সাংগঠনিক দায়িত্বপ্রাপ্ত অজিঙ্কা শিন্ডে নেতৃত্ব দেবেন। অভিজিৎ দীপকের আগে থেকে ধারণ করা একটি ভিডিওবার্তায় এ তথ্য জানানো হয়েছে।
সিজেপি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানিয়েছে, সম্ভাব্য গ্রেপ্তারের আশঙ্কায় দীপকে আগের রাতেই ভিডিওটি ধারণ করেছিলেন।
কেজরিওয়ালের বাসভবনে কঠোর নিরাপত্তার অভিযোগ
আম আদমি পার্টির জাতীয় আহ্বায়ক অরবিন্দ কেজরিওয়ালের বাসভবনে দিল্লি পুলিশ কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা জারি করেছে বলে অভিযোগ করেছে দলটি।
শনিবার (১০ অক্টোবর) দলটির পক্ষ থেকে এ অভিযোগ করা হয়। এর আগে শুক্রবার কেজরিওয়াল জানিয়েছিলেন, তিনি ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা সিজেপির পরিকল্পিত বিক্ষোভে যোগ দেবেন।
সিজেপি নেতাদের আটকে মহুয়া মৈত্রের ক্ষোভ
দিল্লি বিমানবন্দরে সিজেপির তিন নেতাকে আটকের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তৃণমূল কংগ্রেসের সংসদ সদস্য মহুয়া মৈত্র। পুলিশের এ পদক্ষেপকে ‘কাপুরুষোচিত’ বলে আখ্যা দিয়েছেন তিনি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে মহুয়া মৈত্র সিজেপি নেতাদের আটকের সমালোচনা করেন। তাঁর মন্তব্যকে কেন্দ্র করে ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আয়োজিত বিক্ষোভে যোগ দিতে দিল্লি বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর সিজেপির তিন নেতাকে আটক করা হয়।
মুম্বাইয়ে আটক তুষার গান্ধী
ভারতের মুম্বাইয়ে আটক হয়েছেন মহাত্মা গান্ধীর প্রপৌত্র ও অধিকারকর্মী তুষার গান্ধী। মুম্বাই পুলিশের হাতে আটক হন তিনি।
সিজেপির প্রতি সমর্থন জানিয়ে মুম্বাইয়ের আগস্ট ক্রান্তি ময়দানে আয়োজিত একটি বিক্ষোভে তাঁর যোগ দেওয়ার কথা ছিল। তবে কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার আগেই তাঁকে আটক করা হয়।
দিল্লিজুড়ে কঠোর নিরাপত্তা
সিজেপির প্রস্তাবিত বিক্ষোভ ঘিরে দিল্লিজুড়ে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। রাজধানীতে ৪০ হাজারের বেশি দিল্লি পুলিশ ও কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর (সিএপিএফ) সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও এলাকায় বসানো হয়েছে ব্যারিকেড ও স্পাইক স্ট্রিপ।
নির্বাচনী তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় কথিত অনিয়মের অভিযোগ তুলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করছেন বিক্ষোভকারীরা। কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে যন্তর মন্তরসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় নজরদারি ও তল্লাশি জোরদার করা হয়েছে।
সিজেপির নেতাদের আটক, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের বিরুদ্ধে পুলিশের পদক্ষেপ এবং বিক্ষোভস্থলে ব্যাপক নিরাপত্তা মোতায়েনের ঘটনায় ভারতের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে উত্তেজনা আরও বেড়েছে।