
সংগৃহীত ছবি
নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়ার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নিয়ে রসিকতা করেছেন দক্ষিণ আফ্রিকায় জন্ম নেওয়া নাভি পিল্লাই। তিনি বলেছেন, আরও বেশি করতালি পেলে হয়তো পুরস্কারটি ট্রাম্পের সঙ্গে ভাগ করে নিতে পারেন। তবে পিল্লাইকে ‘আমেরিকা ও ইসরায়েলের বিদ্বেষী’ আখ্যা দিয়ে তাঁর নোবেল পুরস্কারপ্রাপ্তির সমালোচনা করেছেন ট্রাম্প। গাজায় গণহত্যা নিয়ে পিল্লাইয়ের নেতৃত্বাধীন তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদনকে কেন্দ্র করেই মূলত এই বিরোধ।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মহাসচিব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একটি ভিডিও প্রকাশ করেছেন। এতে নোবেল পুরস্কার ঘোষণার পর জার্মানির নুরেমবার্গে পিল্লাইকে করতালি দিয়ে অভিনন্দন জানাতে দেখা যায়। এ সময় রসিকতা করে পিল্লাই বলেন, ‘আপনারা যদি আরেকটু বেশি করতালি দেন, তাহলে হয়তো এই পুরস্কার ট্রাম্পের সঙ্গে ভাগ করে নিতে পারি।’
জাতিসংঘের স্বাধীন আন্তর্জাতিক তদন্ত কমিশনের (সিওআই) প্রধান হিসেবে নিজের কাজের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন পিল্লাই। জাতিসংঘের পক্ষে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেওয়া এই কমিশনের কাজ নয়। গত বছর কমিশনটি গাজায় গণহত্যা সংঘটিত হওয়ার বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে।
পিল্লাই বলেন, ‘আমি সর্বশেষ যে কাজটি করেছি, তা হলো গাজা নিয়ে প্রতিবেদন জমা দেওয়া, যেখানে সেখানে যা ঘটছে, তাকে গণহত্যা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ওই প্রতিবেদনের পর অনেকে তাঁর সাহসের প্রশংসা করেছেন, যা তাঁকে বিস্মিত করেছে। তাঁর ভাষায়, ‘সত্য কথা বলতে সাহসের প্রয়োজন হবে কেন?’
অন্যদিকে, নোবেল শান্তি পুরস্কার ঘোষণার পর নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে একটি পোস্ট শেয়ার করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেখানে পিল্লাইকে ‘বিদ্বেষী’ আখ্যা দেওয়ার পাশাপাশি তাঁর পুরস্কারপ্রাপ্তিকে নোবেল শান্তি পুরস্কারের অবমাননা বলে উল্লেখ করা হয়।
পোস্টে বলা হয়, নোবেল কমিটি পিল্লাইকে পুরস্কার দিয়ে নিজেদের এমনভাবে বিব্রত করেছে, যা কখনো মুছে ফেলা যাবে না। পিল্লাইকে আমেরিকা ও ইসরায়েলের ‘নির্লজ্জ বিদ্বেষী’ আখ্যা দিয়ে অভিযোগ করা হয়, তিনি নিজের পদে থেকে সন্ত্রাসীদের উদ্যাপন করেছেন এবং হামাসকে পুরস্কৃত করেছেন।
পোস্টে আরও দাবি করা হয়, পিল্লাইয়ের নেতৃত্বাধীন তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদনটি ছিল ‘ভুয়া তদন্ত’। ওই প্রতিবেদনে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ তোলা এবং বিচারের দাবি জানানোর সমালোচনা করা হয়। পিল্লাইয়ের বিশ্বাসযোগ্যতা ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় তাঁর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়। একই সঙ্গে নোবেল কমিটির অতীত সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে পোস্টে ইয়াসির আরাফাতকে শান্তি পুরস্কার দেওয়ার প্রসঙ্গও উল্লেখ করা হয়।
ট্রাম্পের পক্ষে দেওয়া ওই পোস্টে তাঁর বিভিন্ন কূটনৈতিক উদ্যোগের প্রশংসা করা হয়। এতে বলা হয়, আব্রাহাম চুক্তির মাধ্যমে তিনি মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রেখেছেন এবং চুক্তিটির পরিধি বাড়ানোর চেষ্টা করছেন। পাশাপাশি জিম্মিদের দেশে ফিরিয়ে আনা, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের প্রচেষ্টা, ইরানের ভূমিকা মোকাবিলা এবং গাজা পুনর্গঠনের উদ্যোগের কথাও তুলে ধরা হয়। পোস্টটির দাবি, এ ধরনের উদ্যোগের স্বীকৃতি দিতেই নোবেল শান্তি পুরস্কার প্রবর্তন করা হয়েছিল।
এর আগেও একাধিকবার নিজেকে নোবেল শান্তি পুরস্কারের যোগ্য দাবিদার হিসেবে তুলে ধরেছেন ট্রাম্প। গত বছর নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়া ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেত্রী মারিয়া করিনা মাচাদো তাঁর পদক ট্রাম্পের হাতে তুলে দিয়েছিলেন।