প্রকাশ: বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৪২ এএম (ভিজিট : ১৬৯)

সংগৃহীত ছবি
ইরানকে এক বিলিয়ন ডলার ঋণ দেওয়ার প্রস্তুতি চূড়ান্ত করেছে রাশিয়া। তেহরান প্রয়োজনীয় ব্যাংক হিসাবের তথ্য দিলেই ঋণের অর্থ স্থানান্তর করা হবে। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ফার্স নিউজ এজেন্সি এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঋণের অর্থ ছাড়ের প্রক্রিয়া প্রায় চূড়ান্ত হলেও অর্থটি কোন খাতে ব্যয় করা হবে, তা নিয়ে ইরান সরকারের বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে। এ কারণে অর্থ স্থানান্তরের প্রক্রিয়া আটকে আছে।
এ ঋণকে ইরানকে রাশিয়ার পরিকল্পিত ২০ বিলিয়ন ডলারের ঋণের প্রথম কিস্তি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। ইরানের পরিকল্পনা ও বাজেট সংস্থা ঋণের অর্থ দিয়ে যানবাহন আমদানির পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।
তবে তেল মন্ত্রণালয় অর্থটি তেলশিল্পের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম কেনায় ব্যয়ের প্রস্তাব দিয়েছে। অন্যদিকে কৃষি মন্ত্রণালয় চায়, অর্থটি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য আমদানিতে ব্যবহার করা হোক। অর্থ ব্যবহারের বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়ায় রাশিয়াকে প্রয়োজনীয় ব্যাংক হিসাবের তথ্য দেয়নি ইরান সরকার।
এদিকে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে নিজস্ব মুদ্রার ব্যবহার বাড়ানো এবং পশ্চিমা নিয়ন্ত্রিত আর্থিক ব্যবস্থার ওপর নির্ভরতা কমাতে অর্থনৈতিক ও আর্থিক সহযোগিতা আরও জোরদারের চেষ্টা করছে ইরান ও রাশিয়া।
গত জুনে রাশিয়ার সঙ্গে ব্যাংকিং ও মুদ্রা সহযোগিতা বাড়াতে রুবলভিত্তিক বাণিজ্য বোর্ড প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিল ইরান। সে সময় দেশটির এক আইনপ্রণেতা জানিয়েছিলেন, মস্কো তেহরানকে ২০ বিলিয়ন ডলারের রুবলভিত্তিক ঋণ দিতে পারে। এ ঋণের বার্ষিক সুদের হার ৬ শতাংশ হতে পারে বলেও তিনি জানান।
ইরানের তেল রপ্তানি, ব্যাংকিং খাত ও আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থায় প্রবেশাধিকারের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে তেহরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়িয়েছে ওয়াশিংটন। ইরানের সঙ্গে লেনদেনে সহযোগিতার অভিযোগে বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধেও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করছে যুক্তরাষ্ট্র।
গত সেপ্টেম্বরে রাশিয়ার ভিটিবি ব্যাংকের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়। ওয়াশিংটনের অভিযোগ, ব্যাংকটি নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত ইরানি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে করেসপন্ডেন্ট ব্যাংকিং সম্পর্ক বজায় রেখেছিল। এছাড়া ইরানে অর্থ স্থানান্তর ও নিষেধাজ্ঞা এড়াতে সহায়তার অভিযোগে বিভিন্ন আর্থিক নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।