
সংগৃহীত ছবি
রাজধানীর ইসিবি চত্বরে কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের ব্রাউনফিশ স্টুডিওতে ভাঙচুর ও সংশ্লিষ্ট জমিতে হামলার ঘটনায় মূল পরিকল্পনাকারীসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
রোববার বিকেলে ক্যান্টনমেন্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ জানায়, স্টুডিওটি যে জমিতে অবস্থিত, সেই জমির মালিক নিউ গিনি প্রপার্টিজ লিমিটেডের সঙ্গে এলাকার অন্য জমির মালিকদের বিরোধের জেরে হামলার ঘটনা ঘটে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—হামলার মূল পরিকল্পনাকারী শাহরিয়ার, ভাসানটেক বস্তির মো. মামুন এবং মজুমদার মোড় এলাকার আসলাম ও মুন্না।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, নিউ গিনি প্রপার্টিজের কাছ থেকে একটি ফ্লোর ভাড়া নিয়ে সেখানে স্টুডিও স্থাপন করেছিলেন সালমান মুক্তাদির। হামলার সময় স্টুডিওটি ভাঙচুর করা হয়।
সালমান মুক্তাদিরের অভিযোগ, শনিবার দিবাগত রাতে দুটি ট্রাকে করে লোকজন এসে স্টুডিওতে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর করে। রাত পৌনে ২টার দিকে ব্রাউনফিশ স্টুডিওর ফেসবুক পেজ থেকে লাইভে এসে তিনি বলেন, ‘একটু আগে এখানে হামলা হয়েছে এবং পুরো স্টুডিও ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে।’
পরে সালমান মুক্তাদির অভিযোগ করেন, হামলাকারীদের মূল লক্ষ্য ভবনের মালিক হতে পারেন এবং তার কাছে চাঁদা দাবি করা হয়ে থাকতে পারে।
তবে ক্যান্টনমেন্ট থানার ওসি মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন বলেন, নিউ গিনি প্রপার্টিজ ওই জমিতে একটি গেট নির্মাণ করে অন্য জমির মালিকদের যাতায়াত বন্ধ করে দিয়েছিল। চলাচলে সমস্যার কারণে ক্ষুব্ধ হয়ে প্রতিপক্ষের লোকজন সেখানে যায়।
তিনি বলেন, ‘আমরা ইতোমধ্যে মূল পরিকল্পনাকারীকে গ্রেপ্তার করেছি। বাকিদের গ্রেপ্তারে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’
এদিকে রোববার দুপুরে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, প্রাথমিকভাবে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, এটি প্রায় ৩৫ কাঠা জমি নিয়ে দুই পক্ষের বিরোধের ঘটনা। এক পক্ষ নিউ গিনি প্রপার্টিজ এবং অন্য পক্ষ একজন অবসরপ্রাপ্ত জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভাষ্য, প্রাথমিক প্রতিবেদনে জানা গেছে, অবসরপ্রাপ্ত ওই কর্মকর্তার পক্ষের কিছু লোক রাতের অন্ধকারে জমিটি দখলের চেষ্টা করতে সেখানে গিয়েছিল।
এ ঘটনায় নিউ গিনি প্রপার্টিজের পক্ষ থেকে ক্যান্টনমেন্ট থানায় মামলা করা হয়েছে বলে জানা গেছে।