প্রকাশ: রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:০১ পিএম (ভিজিট : ৬৪)

চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোকে কেন্দ্র করে জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও অভিনেতা সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা, ব্যাপক ভাঙচুর এবং মালামাল লুটের অভিযোগ উঠেছে। বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে এই চাঁদাবাজির অভিযোগ এনেছেন তিনি।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে রাজধানীর ইসিবি চত্বরের 'নিউগ্রিনি প্রপার্টিজে' এই হামলার ঘটনা ঘটে।
স্টুডিওর কর্মকর্তারা জানান, রাত সাড়ে ১০টার দিকে প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ জনের একটি সশস্ত্র দল হঠাৎ স্টুডিওতে ঢুকে তাণ্ডব শুরু করে। হামলাকারীদের কয়েকজনের হাতে চাপাতি ও আগ্নেয়াস্ত্র ছিল। তারা অস্ত্রের মুখে কর্মীদের জিম্মি করে মোবাইল ফোন, মানিব্যাগ এবং স্টুডিওর গুরুত্বপূর্ণ ইলেকট্রনিক ও শুটিং যন্ত্রপাতি নিয়ে যায়।
ঘটনার সময় সালমান মুক্তাদির ঢাকার বাইরে ছিলেন। খবর পেয়ে দ্রুত বিমানে ঢাকায় ফিরে স্টুডিও পরিদর্শনের পর ফেসবুক লাইভে এসে তিনি ক্ষোভ ও ক্ষয়ক্ষতির চিত্র তুলে ধরেন।
লাইভে তিনি সরাসরি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, “ভিডিওটা স্পেশালি আমাদের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের জন্য। আপনি প্লিজ কোনো টেনশন নেবেন না, বাংলাদেশে এটি এখন সাধারণ বিষয়।”
হামলার প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করে সালমান বলেন, “যাঁরা হামলা করেছেন, তাঁরা হয়তো জানতেন না এটি আমার জায়গা। ভবনের মূল মালিক সম্ভবত আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে যুক্ত, তাঁর কাছেই হয়তো চাঁদা দাবি করা হয়েছিল। ভবনের মালিকের ওপর প্রতিশোধ নিতে গিয়ে মাঝখান থেকে আমাদের ক্ষতি করে ফেলা হয়েছে। আমাদের পুরো স্টুডিওটা ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে।”
সরাসরি অভিযোগ তুলে তিনি আরও বলেন, “বিএনপির লোকজন যারা এটি করেছ, এটা তোমাদের চাঁদাবাজি। কেন তোমরা আমার স্বপ্নটা নষ্ট করলে?”
তবে সালমান মুক্তাদিরের এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিএনপির স্থানীয় বা কেন্দ্রীয় কোনো নেতার প্রতিক্রিয়া তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকেও হামলাকারীদের পরিচয় নিয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।
স্টুডিওতে ক্লায়েন্টদের গুরুত্বপূর্ণ শুটিংয়ের ফুটেজ ও মূল্যবান যন্ত্রপাতি থাকায় বড় ধরনের আর্থিক ও পেশাগত ক্ষতির মুখে পড়েছেন বলে জানান সালমান। তবে এই ধাক্কার পরও কাজ থামাবেন না বলে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন এবং ঘটনায় আইনি পদক্ষেপ হিসেবে মামলা দায়েরের কথা নিশ্চিত করেছেন।