
রাজধানীর মিরপুর-১-এর রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পর শাহ আলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর আলমকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। পুলিশের বিরুদ্ধে হামলায় যোগসাজশ ও দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার অভিযোগও উঠেছে।
ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) হেডকোয়ার্টারের পুলিশ কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমেদের সই করা এক কার্যালয় আদেশে ওসিকে প্রত্যাহারের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
ডিএমপি জানায়, রাড্ডা ক্লিনিকে হামলার ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পর তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল। শনিবার রাতে কমিটি তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়। ওই প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই জাহাঙ্গীর আলমকে প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
আদেশে বলা হয়, ডিএমপির মিরপুর বিভাগের শাহ আলী থানার নিরস্ত্র পুলিশ পরিদর্শক (ওসি) জাহাঙ্গীর আলমকে কেন্দ্রীয় সংরক্ষণ দপ্তরের সদর সপ্তর ও প্রশাসন বিভাগে সংযুক্ত করা হয়েছে। আদেশটি অবিলম্বে কার্যকর হবে।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে মাথায় লাল কাপড় ও মুখোশ পরা ২৫০ জনের বেশি ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্র নিয়ে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা চালায় বলে প্রতিষ্ঠানটির অভিযোগ। হামলাকারীরা সেখানে থাকা দুই নিরাপত্তাকর্মীকে জিম্মি করে। পরে ক্লিনিকের মূল্যবান যন্ত্রপাতি, ওষুধ, ভ্যাকসিন, ফ্রিজ, এসি, নগদ টাকা ও অন্যান্য সামগ্রী লুট করে স্থাপনায় ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয়।
প্রতিষ্ঠানটির দাবি, এ ঘটনায় তাদের প্রায় দেড় কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।
রাড্ডা কর্তৃপক্ষের অভিযোগ অনুযায়ী, হামলাকারীরা সরকারি ইপিআই টিকা, টিকাদান কর্মসূচির সরকারি রেজিস্টার ও নথিপত্র, পরিবার পরিকল্পনার বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ও উপকরণ, ওষুধ ও ভ্যাকসিনের পাশাপাশি প্রায় ১১ লাখ ৪০ হাজার টাকা নগদ নিয়ে যায়।
এ ছাড়া প্রায় ৪৫ লাখ টাকা মূল্যের একটি আল্ট্রাসনোগ্রাম মেশিন, একটি জেনারেটর, তিনটি ফ্রিজ, তিনটি এসি, সিসিটিভি ক্যামেরা, তিনটি স্টিলের আলমারি, পাঁচটি স্টিলের ফাইল কেবিনেট, ল্যাবরেটরির বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ও রিএজেন্টও লুট করা হয়েছে বলে দাবি করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
তাদের অভিযোগ, দুটি টিভি, দুটি কম্পিউটার, দুটি ল্যাপটপ, দুটি প্রিন্টারসহ চেয়ার-টেবিল ও অন্যান্য আসবাবপত্রও নিয়ে যাওয়া হয়েছে।