প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, ২০২৬, ১২:২৭ এএম (ভিজিট : ২১২)

ফাইল ছবি
মহেশখালীর এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল থেকে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকায় দেশে গ্যাস সংকট আরও তীব্র হয়ে উঠেছে। তবে সংকট মোকাবিলায় সামিটের এলএনজি টার্মিনাল থেকে সর্বোচ্চ সক্ষমতায় গ্যাস সরবরাহ অব্যাহত রাখা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ড ও পরবর্তী কারিগরি ত্রুটির কারণে গ্যাস সরবরাহ ব্যাহত হয়। টার্মিনালটি মেরামত করে পুনরায় সচল করতে কয়েক দিন সময় লাগার কথা জানানো হয়েছিল। এ সময়ে সামিটের টার্মিনাল থেকে অতিরিক্ত গ্যাস সরবরাহের মাধ্যমে ঘাটতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।
পেট্রোবাংলা-সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, মহেশখালীতে আমদানি করা এলএনজি গ্যাসে রূপান্তর করে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের জন্য দুটি ভাসমান টার্মিনাল রয়েছে। এর একটি পরিচালনা করে এক্সিলারেট এনার্জি এবং অন্যটি সামিট। এক্সিলারেটের টার্মিনাল বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর সামিটের টার্মিনাল থেকে প্রতিদিন প্রায় ৫০ কোটি ঘনফুটের কাছাকাছি গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছিল।
এর ফলে শিল্পকারখানা, বিদ্যুৎ উৎপাদন, সিএনজি স্টেশন এবং আবাসিক গ্রাহকদের ওপর গ্যাস সংকটের প্রভাব পড়ে। বিভিন্ন এলাকায় গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় ভোগান্তি বাড়ে এবং অনেক শিল্পকারখানার উৎপাদন ব্যাহত হয়।
তবে পরবর্তী সময়ে এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনাল আংশিকভাবে চালু করা হয়। ৬ আগস্ট ভোররাত থেকে ওই টার্মিনাল জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ শুরু করে এবং প্রাথমিকভাবে ঘণ্টায় নয়, প্রতিদিন প্রায় ১১৫ মিলিয়ন ঘনফুট হারে গ্যাস সরবরাহের কথা জানানো হয়।
জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছিল, টার্মিনাল চালু হওয়ার পর গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে আরও দুই থেকে তিন দিন সময় লাগতে পারে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দুই টার্মিনাল থেকে সরবরাহ স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরলে গ্যাস সংকটের চাপ কিছুটা কমবে। তবে দেশের চাহিদার তুলনায় গ্যাস সরবরাহে দীর্ঘদিনের ঘাটতি থাকায় স্থায়ী সমাধানের জন্য দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বাড়ানো এবং এলএনজি সরবরাহ অবকাঠামো শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।