রবিবার ● ৮ নভেম্বর ২০২৬ ● ২৩ কার্তিক ১৪৩৩

শিরোনাম: ৫ আগস্টের পর ভোল পাল্টে বিএনপির পরিচয়ে? মোঃ ফিরোজ মিয়াকে ঘিরে অতীত ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন, নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি   ঢাকা দক্ষিণ বিএনপির নতুন আহ্বায়ক আবদুস সালাম, সদস্য সচিব রবিন   শেখ হাসিনাকে সাজাপ্রাপ্ত অপরাধী মনে করে বাংলাদেশ: আইনমন্ত্রী   জয়পুরহাটের ডিসিকে অপসারণে ছাত্রদলের ৭২ ঘণ্টার আলটিমেটাম   ১৯ নভেম্বর লালমনিরহাট সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান   এসআরবির নতুন মহাপরিচালকের দায়িত্বে ফারুক আহমেদ   প্রথম ধাপে ১ হাজার ৫০টি ইউনিয়নে ইউপি নির্বাচন: ইসি সচিব   
শীতে ৪ ডিগ্রিতে নামতে পারে তাপমাত্রা, আসতে পারে ৬টি শৈত্যপ্রবাহ
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: রোববার, ৮ নভেম্বর, ২০২৬, ১২:২২ পিএম   (ভিজিট : ১২৪)

সংগৃহীত ছবি

সংগৃহীত ছবি

আগামী তিন মাসে দেশের ওপর দিয়ে ৪ থেকে ৬টি মৃদু থেকে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। এর মধ্যে ২ থেকে ৩টি তীব্র আকার ধারণ করতে পারে। এসব শৈত্যপ্রবাহের সময় দেশের কোনো কোনো এলাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে আসার আশঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

নভেম্বর থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত সময়ের দীর্ঘমেয়াদি আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। অধিদপ্তরের পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) ও দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসবিষয়ক বিশেষজ্ঞ কমিটির চেয়ারম্যান মো. মমিনুল ইসলাম স্বাক্ষরিত পূর্বাভাসে শৈত্যপ্রবাহের পাশাপাশি কুয়াশা, বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ ও ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টির সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের সংজ্ঞা অনুযায়ী, তাপমাত্রা ৮ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকলে তাকে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ, ৬ থেকে ৮ ডিগ্রির মধ্যে থাকলে মাঝারি এবং ৪ থেকে ৬ ডিগ্রির মধ্যে থাকলে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ বলা হয়। তাপমাত্রা ৪ ডিগ্রির নিচে নেমে গেলে সেটিকে অতি তীব্র শৈত্যপ্রবাহ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

শৈত্যপ্রবাহের সম্ভাব্য সময় ও অঞ্চল সম্পর্কে আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ ড. মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক জানান, ডিসেম্বর মাসে সাধারণত এক থেকে দুটি মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। বিশেষ করে দেশের উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলের রাজশাহী, রংপুর এবং খুলনা বিভাগের কিছু এলাকায় তাপমাত্রা ৮ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নেমে আসতে পারে।

তিনি জানান, জানুয়ারিতে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহের সম্ভাবনা বেশি। এ সময় এক থেকে দুটি তীব্র শৈত্যপ্রবাহও বয়ে যেতে পারে। তখন কোনো কোনো এলাকায় তাপমাত্রা ৪ থেকে ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকতে পারে।

এই তিন মাসে শেষরাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন এলাকায় এবং নদ-নদীর অববাহিকায় মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে। অন্যান্য এলাকায় হালকা থেকে মাঝারি কুয়াশার সম্ভাবনা রয়েছে। ঘন কুয়াশার কারণে দিন ও রাতের তাপমাত্রার পার্থক্য কমে গিয়ে শীতের অনুভূতি বাড়তে পারে।

তবে সামগ্রিকভাবে এ সময়ে দেশের দিন ও রাতের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি থাকতে পারে বলে পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে।

এর ব্যাখ্যায় ড. আবুল কালাম মল্লিক বলেন, এল নিনো সক্রিয় থাকা এবং বৈশ্বিক উষ্ণতার প্রভাবে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে গড় তাপমাত্রা কিছুটা বেশি থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। এ কারণে এবারের শীত মৌসুম স্বাভাবিকের তুলনায় উষ্ণ হতে পারে। তবে বিভিন্ন সময়ে তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নেমে শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।

তিনি বলেন, শৈত্যপ্রবাহ থাকলেও অতি তীব্র শৈত্যপ্রবাহের সংখ্যা, স্থায়িত্ব ও বিস্তৃতি তুলনামূলক কম হতে পারে। সব মিলিয়ে এবারের শীতকাল কিছুটা উষ্ণ থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

এ আবহাওয়াবিদ আরও বলেন, এল নিনোর সক্রিয়তার কারণে শৈত্যপ্রবাহের সংখ্যা ও স্থায়িত্ব নিয়ে কিছুটা অনিশ্চয়তা রয়েছে। তাই পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে সতর্ক থাকতে হবে।

শীতের পাশাপাশি আগামী তিন মাসে বঙ্গোপসাগরে ২ থেকে ৪টি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে। এর মধ্যে এক থেকে দুটি লঘুচাপ ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এ বিষয়ে ড. আবুল কালাম মল্লিক বলেন, অক্টোবর ও নভেম্বর মাস সাধারণত বাংলাদেশে ঘূর্ণিঝড়প্রবণ সময়। প্রতিবছর এ সময়ে বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ সৃষ্টি হয়। কোনো কোনোটি শক্তি সঞ্চয় করে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে।

তিনি জানান, এ সময়ে সূর্যের দক্ষিণায়নের কারণে দিনের দৈর্ঘ্য কমে এবং রাতের দৈর্ঘ্য বাড়ে। একই সঙ্গে বঙ্গোপসাগর এলাকায় সূর্যের আলো বেশি পড়ায় সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়। এটি একটি স্বাভাবিক প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া। তবে প্রতিবছর এমন পরিস্থিতি তৈরি হয় না। এ ধরনের ব্যবস্থাকে আবহাওয়াবিজ্ঞানের ভাষায় ক্ষণস্থায়ী বা ট্রানজিয়েন্ট সিস্টেম বলা হয়।

বৃষ্টিপাতের বিষয়ে পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আগামী তিন মাসে দেশে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাত হতে পারে। নভেম্বর মাসে বিভাগগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি হতে পারে চট্টগ্রামে, ৩৫ থেকে ৪০ মিলিমিটার। বরিশালে ৩০ থেকে ৪০ মিলিমিটার বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

এ ছাড়া ঢাকা, সিলেট ও খুলনা বিভাগে ১৫ থেকে ২৫ মিলিমিটার, ময়মনসিংহ ও রাজশাহী বিভাগে ১০ থেকে ১৫ মিলিমিটার এবং রংপুর বিভাগে ৪ থেকে ৮ মিলিমিটার বৃষ্টি হতে পারে।

ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে বৃষ্টির পরিমাণ আরও কমে আসতে পারে। ডিসেম্বরে ঢাকা বিভাগে ৮ থেকে ১০ মিলিমিটার এবং সিলেটে ১০ থেকে ১৫ মিলিমিটার বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। জানুয়ারিতে খুলনা বিভাগে ১০ থেকে ১৪ মিলিমিটার এবং ঢাকা বিভাগসহ অন্যান্য অঞ্চলে ৬ থেকে ১০ মিলিমিটার বৃষ্টি হতে পারে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আবহাওয়ার বিভিন্ন উপাত্ত, ঊর্ধ্বাকাশের আবহাওয়ার পরিস্থিতি, জলবায়ু মডেল এবং বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা অনুমোদিত আন্তর্জাতিক কেন্দ্রগুলোর পূর্বাভাস বিশ্লেষণ করে এই দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাস তৈরি করা হয়েছে। এতে এল নিনো ও লা নিনা পরিস্থিতিও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।

দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাস তৈরির প্রক্রিয়া সম্পর্কে ড. মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক বলেন, ১৯৪৮ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত অক্টোবর ও নভেম্বর মাসে বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ সৃষ্টির তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, এ সময়ে গড়ে এক থেকে তিনটি লঘুচাপ তৈরি হয়। এর মধ্যে কোনো কোনোটি শক্তি সঞ্চয় করে ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে। দীর্ঘ সময়ের এসব তথ্যের গড় চিত্র বিশ্লেষণ করেই দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাস দেওয়া হয়।

তবে এ ধরনের পূর্বাভাসে অনিশ্চয়তা তুলনামূলক বেশি থাকে বলে জানান তিনি। এ কারণে দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসের পাশাপাশি আবহাওয়া অধিদপ্তরের নিয়মিত দৈনন্দিন পূর্বাভাস অনুসরণের ওপরও গুরুত্ব দেন এই আবহাওয়াবিদ।

এদিকে গত অক্টোবর মাসে দেশে স্বাভাবিকের তুলনায় ৬৮ শতাংশ কম বৃষ্টিপাত হয়েছে। ওই মাসে দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় সিলেটে, ৩৭ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গত ১৭ অক্টোবর এ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়।

অন্যদিকে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায়, ১৫ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গত ২৭ অক্টোবর এ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত মাসে দেশের সর্বোচ্চ, সর্বনিম্ন ও গড় তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় যথাক্রমে ১ দশমিক ৮, ০ দশমিক ৪ ও ১ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি ছিল।









  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ


সম্পাদক ও প্রকাশক: ড. কাজী এরতেজা হাসান
সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
সাউথ ওয়েস্টার্ন মিডিয়া গ্রুপ


©ডেইলি ভোরের পাতা ডটকম


©ডেইলি ভোরের পাতা ডটকম

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫।
ফোন:৮৮-০২-৪১০১০০৮৭, ৪১০১০০৮৬, বিজ্ঞাপন বিভাগ: ৪১০১০০৮৪, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৪১০১০০৮৫
অনলাইন ইমেইল: [email protected] বার্তা ইমেইল:[email protected] বিজ্ঞাপন ইমেইল:[email protected]