শনিবার ● ৭ নভেম্বর ২০২৬ ● ২২ কার্তিক ১৪৩৩

শিরোনাম: আত্রাইয়ে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত   ৭ নভেম্বর না হলে দেশ ভারতীয় আগ্রাসন থেকে মুক্ত হতনা: নাসের রহমান   শরণখোলায় বিপ্লব ও‌ সংহতি দিবস পালিত    আজানের প্রতি সম্মান জানিয়ে ছয় মিনিট নীরবে দাঁড়িয়ে থাকলেন প্রধানমন্ত্রী   কবিতা চত্বরে ম্যাজিস্ট্রেটের অভিযানে বৃদ্ধার দোকান ও নামাজঘর উচ্ছেদ   গ্রাম পুলিশের বেতন-ভাতা ও অবসরকালীন সুবিধা বাড়ালেন প্রধানমন্ত্রী   সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় নারী ও শিশুসহ ৭ বাংলাদেশি নিহত   
রাশিয়া থেকে দীর্ঘমেয়াদে এলএনজি-এলপিজি আমদানি করতে চায় বাংলাদেশ
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ৭ নভেম্বর, ২০২৬, ১:৫৪ পিএম   (ভিজিট : ৪৭)

সংগৃহীত ছবি

সংগৃহীত ছবি

দেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা পূরণে রাশিয়া থেকে দীর্ঘমেয়াদে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) ও তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) আমদানিতে আগ্রহী বাংলাদেশ। এ লক্ষ্যে দুই দেশের মধ্যে জ্বালানি সরবরাহ ও সম্ভাব্য সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

ইথেনসমৃদ্ধ গ্যাস প্রক্রিয়াজাতকরণ কমপ্লেক্সের অংশ হিসেবে গ্যাস সরবরাহের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা ছাড়াও রাশিয়ার সাখালিন-২ প্রকল্প ও পোর্টোভায়া এলএনজি প্ল্যান্ট থেকে জ্বালানি আমদানির বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) ঢাকায় অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ-রাশিয়া আন্তসরকার কমিশনের (আইজিসি) বাণিজ্য, অর্থনীতি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতাবিষয়ক পঞ্চম বৈঠকে এসব বিষয়ে আলোচনা হয়।

বাংলাদেশের পক্ষে বৈঠকে অংশ নেন অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) ইউরোপ উইংয়ের কর্মকর্তারা। অন্যদিকে রাশিয়ার ফেডারেল এজেন্সি ফর ফিশারিজের প্রধান এবং কমিশনের রুশ অংশের চেয়ারম্যান ইলিয়া শেস্তাকভের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল অংশ নেয়।

বৈঠকে রাশিয়ার জ্বালানি প্রতিষ্ঠান গ্যাজপ্রম জানায়, বাংলাদেশ আগ্রহ প্রকাশ করলে সাখালিন-২ প্রকল্প থেকে এলএনজি সরবরাহের বিষয়ে পেট্রোবাংলা ও সাখালিন এনার্জির মধ্যে সরাসরি আলোচনা এগিয়ে নিতে তারা সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। পাশাপাশি উস্ট-লুগা প্ল্যান্ট থেকে এলএনজি সরবরাহ এবং পোর্টোভায়া এলএনজি প্ল্যান্ট থেকে গ্যাস আমদানির সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা করতে আগ্রহী প্রতিষ্ঠানটি।

জ্বালানি সরবরাহের পাশাপাশি বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্যিক লেনদেন নিষ্পত্তিতে বিকল্প পেমেন্ট ব্যবস্থা চালু, রুশ ব্যাংকগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সরাসরি যোগাযোগ এবং জ্বালানি খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণেও আগ্রহ দেখিয়েছে মস্কো।

পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার কারণে প্রচলিত আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং ব্যবস্থায় লেনদেনের জটিলতা এড়াতে ডিজিটাল আর্থিক উপকরণসহ বিকল্প পেমেন্ট ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে রাশিয়া। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ঋণের কিস্তি পরিশোধে তৈরি হওয়া জটিলতাও এ উদ্যোগের অন্যতম কারণ।

জ্বালানি ও আর্থিক খাতের পাশাপাশি তেল-গ্যাস অনুসন্ধান, সার সরবরাহ, কৃষি, শিল্প উৎপাদন, বিনিয়োগ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি খাতে বাংলাদেশের সঙ্গে অংশীদারত্ব বাড়াতে চায় রাশিয়া।

এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে ইআরডির এক কর্মকর্তা দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে (টিবিএস) জানান, বৈঠকে দুই দেশের প্রতিনিধিরা ব্যাংকিং ও আর্থিক লেনদেন, জ্বালানি, কৃষি, শিল্প, শিক্ষা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিসহ দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার বিভিন্ন ক্ষেত্র পর্যালোচনা করেছেন।

বৈঠকে অংশ নেওয়া এক কর্মকর্তা জানান, দুই দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের অর্থ পরিশোধে বিকল্প ব্যবস্থা গড়ে তোলার বিষয়টিকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছে রাশিয়া। পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার কারণে রুশ ব্যাংকগুলোর সঙ্গে প্রচলিত আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং চ্যানেলে লেনদেন বাধাগ্রস্ত হওয়ায় এ উদ্যোগ নিতে চায় মস্কো।

এর আগে বাংলাদেশে রুশ ব্যাংকের শাখা চালু, ভারতীয় মুদ্রায় বাণিজ্যিক লেনদেন নিষ্পত্তি এবং দুই দেশের মধ্যে পৃথক পেমেন্ট অবকাঠামো গড়ে তোলার প্রস্তাব দিয়েছিল রাশিয়া। এবারের বৈঠকেও বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

ইআরডির নথি অনুযায়ী, রাশিয়ান এক্সপোর্ট সেন্টার গ্রুপের আওতাধীন এক্সিম ব্যাংক অব রাশিয়া বাংলাদেশের আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা বাড়াতে আগ্রহী। দুই দেশের বৈদেশিক বাণিজ্য চুক্তির আওতায় আমদানি-রপ্তানি লেনদেন নিষ্পত্তির পাশাপাশি ডিজিটাল আর্থিক উপকরণ ব্যবহার করে বিকল্প পেমেন্ট ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায় প্রতিষ্ঠানটি।

এ উদ্দেশ্যে বাংলাদেশের আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ ও সহযোগিতা সম্প্রসারণের প্রস্তাব দিয়েছে রুশ পক্ষ।

এর পেছনে অন্যতম কারণ রাশিয়ার ওপর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার প্রভাব। রাশিয়ার অর্থায়নে নির্মাণাধীন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ঋণের কিস্তি পরিশোধেও এ নিষেধাজ্ঞার প্রভাব পড়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, সোনালী ব্যাংকে রাশিয়ার ঋণ পরিশোধের জন্য জমা রাখা অর্থ নিষেধাজ্ঞার কারণে সংশ্লিষ্ট রুশ ব্যাংকে স্থানান্তর করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যিক লেনদেন সচল রাখার পাশাপাশি রূপপুর প্রকল্পের ঋণ পরিশোধের জটিলতা দূর করাও বিকল্প পেমেন্ট ব্যবস্থা গড়ে তোলার অন্যতম উদ্দেশ্য।

তবে বিকল্প লেনদেন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে রাশিয়া যে এক্সিম ব্যাংক অব রাশিয়া এবং এর মূল প্রতিষ্ঠান রাশিয়ান এক্সপোর্ট সেন্টারের সঙ্গে কাজ করার প্রস্তাব দিয়েছে, সেই প্রতিষ্ঠান দুটিও মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছে।

এ কারণে প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সরাসরি সহযোগিতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে আইনি ও আর্থিক জটিলতা রয়েছে বলে জানিয়েছেন ইআরডির কর্মকর্তারা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের আমদানি পরিশোধসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে রাশিয়া থেকে পণ্য আমদানির বিপরীতে বাংলাদেশ ১৩৬ কোটি ২৫ লাখ ডলার পরিশোধ করেছে।

### জ্বালানি, সার ও বিনিয়োগে সহযোগিতা বাড়ানোর উদ্যোগ

জ্বালানি খাতে বাংলাদেশ ও রাশিয়ার দীর্ঘদিনের সহযোগিতা রয়েছে। দুই দেশের অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত সম্পর্কের সবচেয়ে বড় উদাহরণ রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্প। এ প্রকল্পে অর্থায়ন, প্রযুক্তি ও কারিগরি সহায়তা দিচ্ছে রাশিয়া।

ইআরডির তথ্য অনুযায়ী, ১৯৭২ সাল থেকে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক বিদ্যমান। এর ধারাবাহিকতায় ২০১৩ সালের ১৫ জানুয়ারি রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে কারিগরি ও আর্থিক সহযোগিতার জন্য দুই দেশের মধ্যে স্টেট এক্সপোর্ট ক্রেডিট চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

এ ছাড়া রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় জ্বালানি প্রতিষ্ঠান গ্যাজপ্রম ২০১২ সাল থেকে বাংলাদেশে গ্যাস অনুসন্ধানের কাজে যুক্ত রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি ভোলায় একাধিক কূপ খনন করেছে। ২০২৩ সালে ভোলায় আরও পাঁচটি কূপ অনুসন্ধানের জন্য চিহ্নিত করে গ্যাজপ্রম ইন্টারন্যাশনাল।

খাদ্যনিরাপত্তা ও কৃষি উৎপাদনের ক্ষেত্রেও বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক অংশীদার রাশিয়া। বিশেষ করে গম ও পটাশ সার আমদানিতে দেশটির সঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক রয়েছে।

এবারের বৈঠকের কার্যপত্রে সার সরবরাহ বাড়ানো এবং কৃষি গবেষণায় যৌথ উদ্যোগ নেওয়ার বিষয়ে দুই দেশের আগ্রহের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি কৃষি ও শিল্প খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণ এবং দুই দেশের কোম্পানিগুলোর মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ চুক্তি বাস্তবায়নে আর্থিক ও অ-আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।

বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে দুই দেশের সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক যোগাযোগ আরও জোরদার করতে চায় রাশিয়া।

এ লক্ষ্যে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় উন্নয়ন করপোরেশন ভিইবি.আরএফ (VEB.RF) এবং ইনভেস্ট বাংলাদেশের মধ্যে সহযোগিতা ও তথ্য বিনিময়বিষয়ক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের উদ্যোগ নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে বৈঠকের কার্যপত্রে।

পাশাপাশি দুই দেশের ব্যবসায়ী সংগঠন, শিল্পোদ্যোক্তা ও প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সম্ভাবনাময় বিনিয়োগ প্রকল্পের তথ্য বিনিময়ের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশি ও রুশ অংশীদারদের মধ্যে যৌথ বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি করতে চায় উভয় পক্ষ।

বাংলাদেশের পক্ষ থেকে তৈরি পোশাকের পাশাপাশি ওষুধ, চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, সিরামিক এবং জনশক্তি রপ্তানির সম্ভাবনা কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

বাণিজ্য সম্প্রসারণে শুল্কসংক্রান্ত সহযোগিতাও বাড়াতে চায় দুই দেশ। এ লক্ষ্যে শুল্কবিষয়ক সহযোগিতা ও পারস্পরিক সহায়তা চুক্তি স্বাক্ষরের প্রস্তুতি জোরদার করার বিষয়ে একমত হয়েছে উভয় পক্ষ।

শিক্ষা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি খাতেও সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এর মধ্যে রাশিয়ার উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য কোটা বরাদ্দ, উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে অভিজ্ঞতা বিনিময়ের বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে।









  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ


সম্পাদক ও প্রকাশক: ড. কাজী এরতেজা হাসান
সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
সাউথ ওয়েস্টার্ন মিডিয়া গ্রুপ


©ডেইলি ভোরের পাতা ডটকম


©ডেইলি ভোরের পাতা ডটকম

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫।
ফোন:৮৮-০২-৪১০১০০৮৭, ৪১০১০০৮৬, বিজ্ঞাপন বিভাগ: ৪১০১০০৮৪, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৪১০১০০৮৫
অনলাইন ইমেইল: [email protected] বার্তা ইমেইল:[email protected] বিজ্ঞাপন ইমেইল:[email protected]