প্রকাশ: সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:১২ পিএম (ভিজিট : ৯৬)

সংগৃহীত ছবি
বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য জাপানে কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে। দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত নতুন চুক্তির আওতায় আগামী বছরের ১ এপ্রিল থেকে বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ শুরু করবে জাপান। চুক্তির প্রাথমিক মেয়াদ পাঁচ বছর হলেও তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে আরও পাঁচ বছরের জন্য বাড়বে। ফলে চুক্তিটির মোট মেয়াদ হবে ১০ বছর।
গত শনিবার (১৭ অক্টোবর) ‘মেমোরেন্ডাম অব কো-অপারেশন অন এমপ্লয়মেন্ট স্কিলস ডেভেলপমেন্ট’ শীর্ষক এ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
বাংলাদেশের পক্ষে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। জাপানের পক্ষে দেশটির বিচার মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য, শ্রম ও কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং ন্যাশনাল পুলিশ এজেন্সির প্রতিনিধিরা এতে স্বাক্ষর করেন।
প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় জানায়, প্রায় এক বছর ধরে বাংলাদেশ ও জাপান সরকারের ধারাবাহিক প্রচেষ্টার ফলে চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এর মাধ্যমে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এবং কর্মসংস্থান সহযোগিতায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন জাপান সফরের সময় চুক্তির কপি আনুষ্ঠানিকভাবে দুই পক্ষের মধ্যে হস্তান্তর করা হবে।
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, এ চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশি কর্মীদের সর্বোচ্চ সুরক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি কর্মী পাঠানো ও গ্রহণের ক্ষেত্রে দুই দেশের সহযোগিতা আরও জোরদার হবে। জাপানে কর্মসংস্থানের সুযোগ কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশি কর্মীরা নিজেদের দক্ষতা বাড়াতে পারবেন। এর ফলে তাঁদের উচ্চ বেতন এবং দেশটিতে দীর্ঘমেয়াদে বসবাসের সুযোগ তৈরির সম্ভাবনাও বাড়বে।
মন্ত্রী আরও জানান, চুক্তির আওতায় বাংলাদেশি কর্মীরা জাপানের স্থানীয় শ্রমিকদের সমতুল্য আইনি সুরক্ষা পাবেন। কর্মক্ষেত্রে নারী ও পুরুষের সমান সুযোগ নিশ্চিত করার বিষয়টিও এতে গুরুত্ব পেয়েছে।
বিশেষ করে গর্ভাবস্থা বা সন্তান জন্মদানের কারণে নারী বিদেশি কর্মীদের চাকরিচ্যুত করা কিংবা তাঁদের সঙ্গে বৈষম্যমূলক আচরণ করা যাবে না। একই কারণে তাঁদের জোর করে দেশে ফেরত পাঠানোর বাধ্যবাধকতাও চুক্তিতে রাখা হয়নি।
সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, এ চুক্তি বাস্তবায়িত হলে জাপানে বাংলাদেশি কর্মীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ ও অধিকার সুরক্ষা আরও জোরদার হবে। পাশাপাশি দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক সুদৃঢ় হওয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।