শনিবার ● ১৭ অক্টোবর ২০২৬ ● ৩১ আশ্বিন ১৪৩৩

শিরোনাম: শিক্ষাকে বাণিজ্যে পরিণত করেছিল ফ্যাসিস্ট সরকার: প্রতিমন্ত্রী টুকু   কালিয়াকৈরে পূজা মন্ডপ পরিদর্শনে গাজীপুর জেলা পুলিশ সুপার    শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে চাঁপাইনবাবগঞ্জে ১৯ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন   সখিপুরের জমি দখল ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে প্রতিবাদ ও সংবাদ সম্মেলন    তামাকজনিত মৃত্যু কমাতে সংশোধিত তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের বিধিমালা দ্রুত প্রণয়নের আহ্বান    ভারতে সরকার পরিবর্তনের আন্দোলনকে ‘বাংলাদেশের আদলে ষড়যন্ত্র’ বললেন রাজনাথ সিং   রাজনীতিতে কাউকেই বিশ্বাস করেন না ট্রাম্প, নেতানিয়াহুকে সমর্থন নিয়েও নীরব   
তামাকজনিত মৃত্যু কমাতে সংশোধিত তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের বিধিমালা দ্রুত প্রণয়নের আহ্বান
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১:১৮ এএম   (ভিজিট : ৩৯)

তামাকজনিত অসংক্রামক রোগে মৃত্যু ও অসুস্থতা কমানো, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে সংশোধিত তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০২৬-এর আলোকে দ্রুত বিধিমালা প্রণয়ন ও কার্যকর বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছেন তামাকবিরোধী আন্দোলনের প্রতিনিধিরা। তারা বলেন, আইন পাস হওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হলেও কার্যকর বিধিমালা ছাড়া আইনের প্রত্যাশিত সুফল জনগণের কাছে পৌঁছানো সম্ভব হবে না।

আজ শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বগুড়ার নবাববাড়ির হোটেল ৭১ ইন-এর যমুনা হলে উবিনীগ (উন্নয়ন বিকল্পের নীতিনির্ধারণী গবেষণা), ভেঞ্চার ফাউন্ডেশন ও তামাকবিরোধী নারী জোট (তাবিনাজ)-এর যৌথ উদ্যোগে “তামাকমুক্ত বাংলাদেশ গঠনে পরবর্তী পদক্ষেপ: সংশোধিত তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন ২০২৬-এর আলোকে দ্রুত বিধিমালা প্রণয়নের গুরুত্ব” শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে এ আহ্বান জানানো হয়। সংশোধিত তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনে তামাকজাত দ্রব্যের বিজ্ঞাপন, প্রচার ও বিক্রয়স্থলে প্রদর্শন নিষিদ্ধ, সচিত্র স্বাস্থ্য সতর্কবার্তার পরিমাণ প্যাকেটের ৭৫ শতাংশে উন্নীত, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও হাসপাতালসহ নির্দিষ্ট স্থাপনার ১০০ মিটারের মধ্যে তামাকজাত দ্রব্য বিক্রি নিষিদ্ধ এবং তামাক নিয়ন্ত্রণে বিদ্যমান বিধিনিষেধ আরও জোরদার করা হয়েছে। 

উক্ত বৈঠকে তারা আর বলেন, বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার ২০২৬-এ তামাকজনিত অসংক্রামক রোগ ও মৃত্যু কমানোর অঙ্গীকার রয়েছে। প্রথম পঞ্চবার্ষিক কৌশলগত কাঠামো (Five-Year Strategic Framework for Reform and Development (July 2026–June 2031) তে এসব রোগে মৃত্যুর সম্ভাবনা ২১ থেকে ১৬ শতাংশে নামানোর কথা বলা হয়েছে। আর টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার এসডিজি ৩.৪ অনুযায়ী ২০৩০ সালের মধ্যে এসব রোগে অকালমৃত্যু এক-তৃতীয়াংশ কমাতে হবে, এবং এসডিজি ৩.ক অনুযায়ী সব দেশে এফসিটিসি  (ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন অন টোব্যাকো কন্ট্রোল) বাস্তবায়ন জোরদার করতে হবে। এসব জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গীকার পূরণে সংশোধিত তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের আলোকে তামাক দ্রুত তামাক নিয়ন্ত্রণ বিধিমালা প্রণয়ন হতে পারে একটি কার্যকর পদক্ষেপ।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুল এন্ড কলেজের প্রিন্সিপাল আমিনুল ইসলাম বলেন, দেশে ১৫ বছর ও তদূর্ধ্ব বয়সীদের প্রায় ৩৫ শতাংশ তামাক ব্যবহার করে। তামাক ব্যবহারের কারণে প্রতিবছর প্রায় ২ লাখ মানুষের মৃত্যু হয় এবং স্বাস্থ্য, অর্থনীতি ও পরিবেশে বিপুল ক্ষয়ক্ষতি হয়ে থাকে। ক্যানসার, হৃদরোগ, স্ট্রোকসহ বিভিন্ন অসংক্রামক রোগের অন্যতম প্রধান কারণ তামাক। তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের বাস্তয়ন হলে স্বাস্থ্য ক্ষতি, অর্থনৈতিক ক্ষতি ও পরিবেশগত ক্ষতি কমানো সম্ভব হবে। আর এই আইন বাস্তবায়নের জন্য দ্রুত বিধিমালা প্রণয়ন জরুরী। 

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মোঃ মাসুদ হোসেন, বিজ্ঞ অতিরিক্ত ম্যাসেজট্রেট বলেন, ধূমপানের ক্ষতি শুধু ধূমপায়ীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না; পরোক্ষ ধূমপানের কারণে নারী, শিশু ও অধূমপায়ীরাও মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েন। তামাকজনিত মৃত্যু ও অসুস্থতার কারণে পরিবারে আর্থিক চাপ বাড়ে এবং দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থা ও অর্থনীতির ওপর অতিরিক্ত বোঝা সৃষ্টি হয়। সংশোধিত তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন ২০২৬ দেশের জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। তবে দ্রুত বিধিমালা প্রণয়ন ও কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা না গেলে আইনের পূর্ণ সুফল অর্জন সম্ভব হবে না। তাই জনস্বার্থে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সমন্বয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ দ্রুত গ্রহণের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

সভাপতির বক্তব্যে সংসদ সদস্য রেজাউল করিম বাদশা (বগুড়া-৬) বলেন, সংশোধিত তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের সুফল পেতে দ্রুত বিধিমালা প্রণয়ন জরুরি। তিনি আরো বলেন, ৩১ মে ২০২৬ বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবসে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, তামাক ও নিকোটিনের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে শিশু-কিশোরসহ ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সুরক্ষার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন। এই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের জন্য কার্যকর আইন প্রয়োগ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এর জন্য তার দিক থেকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন বলে জানান তিনি। 
 
তিনি আরও উল্লেখ করেন, চূড়ান্ত আইনে উদীয়মান তামাক ও নিকোটিনজাত পণ্য সম্পূর্ণভাবে অন্তর্ভুক্ত না হওয়ায় এসব পণ্য বর্তমানে নিয়ন্ত্রণের আওতার বাইরে রয়ে গেছে। তরুণদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার স্বার্থে এগুলো নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় নীতিগত ও আইনি উদ্যোগ গ্রহণের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে বলে তিনি ব্যক্ত করেন। 

উক্ত গোলটেবিল বৈঠকে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মোঃ মাসুদ হোসেন, বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, বগুড়া; আমিনুল ইসলাম প্রিন্সিপাল বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুল এন্ড কলেজ, রেজাউল হাসান রানু, সভাপতি, বগুড়া প্রেসক্লাব। এছাড়াও  উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র স্বাস্থ্য শিক্ষা অফিসার, সিভিল সার্জন অফিস বগুড়া; পাবলিক প্রসিকিউটর, বগুড়া জজ কোর্ট; চেয়ারম্যান ক্যাব বগুড়া; সরকারি কর্মকর্তা, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, শিক্ষক ও গণমাধ্যমকর্মী উপস্থিত ছিলেন। 













  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ


সম্পাদক ও প্রকাশক: ড. কাজী এরতেজা হাসান
সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
সাউথ ওয়েস্টার্ন মিডিয়া গ্রুপ


©ডেইলি ভোরের পাতা ডটকম


©ডেইলি ভোরের পাতা ডটকম

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫।
ফোন:৮৮-০২-৪১০১০০৮৭, ৪১০১০০৮৬, বিজ্ঞাপন বিভাগ: ৪১০১০০৮৪, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৪১০১০০৮৫
অনলাইন ইমেইল: [email protected] বার্তা ইমেইল:[email protected] বিজ্ঞাপন ইমেইল:[email protected]