
সংগৃহীত ছবি
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রয়াত প্রধান সম্পাদক তৌফিক ইমরোজ খালিদীর মৃত্যু এখনও অবিশ্বাস্য মনে হচ্ছে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী আবদুল মঈন খানের কাছে। শেষ শ্রদ্ধা জানাতে গিয়েও তাঁর মনে হয়েছে, খালিদী যেন এখনও জীবন্ত হয়ে সামনে দাঁড়িয়ে আছেন।
শনিবার দুপুরে রাজধানীর বনানীর ওল্ড ডিওএইচএসের খেলার মাঠে তৌফিক ইমরোজ খালিদীর জানাজার আগে তাঁকে শেষ শ্রদ্ধা জানান বন্ধু, স্বজন, সহকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীরা। তাঁদের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান।
এ সময় তিনি বলেন, “কিছু বলব, সে কারণে আসিনি এবং সেটা করাও খুব কঠিন।”
খালিদীর সঙ্গে নিজের সম্পর্কের স্মৃতিচারণা করে মঈন খান বলেন, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের সূত্র ধরেই তাঁদের পরিচয় হয়েছিল। একপর্যায়ে সেই পরিচয় বন্ধুত্বে রূপ নেয়।
বাংলাদেশের সাংবাদিকতায় তৌফিক ইমরোজ খালিদীর অবদানের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রচলিত ছাপা সংবাদপত্রের বাইরে ইন্টারনেটের মাধ্যমে সংবাদ পরিবেশনের যে নতুন ধারা গড়ে উঠেছে, খালিদী ছিলেন তার অন্যতম পথিকৃৎ।
মঈন খানের ভাষ্য, খালিদীর নেতৃত্বে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম দেশের মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছে গেছে। এমনকি বহুল প্রচারিত ছাপা সংবাদপত্রগুলোও একইভাবে মানুষের কাছে পৌঁছাতে পেরেছে কি না, তা নিয়েও তাঁর সংশয় রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, তৌফিক ইমরোজ খালিদী কেবল সংবাদ পরিবেশনের মধ্যেই নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখেননি। বাংলাদেশের সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তাঁর বিশ্লেষণও দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অবদান হিসেবে বিবেচিত হবে।
খালিদীর মৃত্যুসংবাদ পাওয়ার পর নিজের প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে মঈন খান বলেন, “তার মৃত্যুর সংবাদটি যখন পেয়েছি, আমি অবাক হয়ে গিয়েছি। আজকে পর্যন্ত বিশ্বাস করতে পারিনি। তার মুখের দিকে যখন একটু আগে তাকিয়েছি, আমার মনে হচ্ছে তিনি জীবন্ত হয়ে আমার সামনে উপস্থিত হয়েছেন।”
এ সময় তিনি প্রয়াত সাংবাদিকের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।
ব্যক্তিগত সফরে লন্ডনে থাকা তৌফিক ইমরোজ খালিদী গত ১ অক্টোবর রাতে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাঁকে সেইন্ট বার্থোলমিউ’স হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা জানান, তাঁর মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হয়েছে। পরদিন স্থানীয় সময় দুপুর ২টা ২৩ মিনিটে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
এরপর ৮ অক্টোবর জোহরের নামাজের পর পূর্ব লন্ডনের ব্রিকলেইন মসজিদে তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে সাবেক সহকর্মী ও স্থানীয় বাংলাদেশি কমিউনিটির প্রতিনিধিরা তাঁকে শেষ শ্রদ্ধা জানান।
শনিবার বেলা ১১টার দিকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে তৌফিক ইমরোজ খালিদীর মরদেহ ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়।
বিমানবন্দর থেকে মরদেহ নেওয়া হয় বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের কার্যালয়ে। সেখানে দুপুর ১২টা থেকে ১২টা ২০ মিনিট পর্যন্ত তাঁর মরদেহ রাখা হয়। এরপর নেওয়া হয় বাসায়, যেখানে পরিবারের সদস্য ও স্বজনেরা তাঁকে শেষবারের মতো দেখেন।
পরে শেষ শ্রদ্ধা জানানোর জন্য তাঁর মরদেহ নেওয়া হয় বনানীর ওল্ড ডিওএইচএসের খেলার মাঠে। সেখানে জানাজা শেষে বিকেল ৫টার দিকে মিরপুরের শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে তাঁকে সমাহিত করা হয়।