প্রকাশ: রোববার, ৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:০১ পিএম (ভিজিট : ৮১)

পূর্ব সুন্দরবনে পর্যটকবাহী জাহাজে ডাকাতির চেষ্টা চালিয়েছে একদল বনদস্যু। তবে বনরক্ষীদের প্রতিরোধের মুখে দস্যুরা পালিয়ে যায় বলে জানিয়েছে বন বিভাগ। ঘটনাটি শনিবার (৩ অক্টোবর) রাত ৯টার দিকে শরণখোলা রেঞ্জের কটকা পর্যটন কেন্দ্রের নদীতে।
কটকা অভয়ারণ্য কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফরেষ্টার তানভির হাসান ইমরান রাত সাড়ে ৯টায় মোবাইল ফোনে জানিয়েছেন, অজ্ঞাত পরিচয়ের বনদস্যু গ্রুপ একটি ইঞ্জিন চালিত ট্রলারযোগে রাত ৯টার দিকে কটকা নদীতে নোঙর করে থাকা পর্যটকবাহী জাহাজের দিকে আসছিলো। দস্যুদের প্রবেশের বিষয়টি টের পেয়ে কটকার মোহনায় অবস্থানরত জেলেরা মোবাইল ফোনে জানান বনরক্ষীদের। সঙ্গে সঙ্গে বনরক্ষীরা টহল বোট নিয়ে কটকা নদীর প্রবেশমুখে অবস্থান নেন। এসময় দস্যুরা ট্রলার নিয়ে পর্যটকবাহী জাহাজের দিকে আসার চেষ্টা করলে বনদস্যুদের লক্ষ্য করে কয়েক রাউণ্ড গুলি বর্ষণ করা হয়। একপর্যায়ে গুলির মুখে বনদস্যুরা তাদের ট্রলারের গতিপথ ঘুরিয়ে দ্রুত গতিতে ট্রলার চালিয়ে সাগরের দিকে চলে যায়। বনরক্ষীরা ৪ রাউন্ড গুলি করেছে বলে ঐ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন।
কটকা নদীতে নোঙর করে থাকা পর্যটকবাহী জাহাজ ‘দি ওয়েভ-২’ এর মাষ্টার মো. শামিম আলম মোবাইল ফোনে জানান, জাহাজের দিকে ডাকাত আসছে বলে বনরক্ষীরা আগেই তাকে জানিয়েছেন । কটকায় বর্তমানে তাদের ওয়েভ-২ এবং ‘আরাল সী’ নামে পর্যটকবাহী দুটি কটকায় অবস্থান করছে। দুটি জাহাজে দেশি-বিদেশি মিলিয়ে ৯৭ জন পর্যটক রয়েছেন বলে ওয়েভ-২ এর মাষ্টার জানান। বনরক্ষীদের কঠোর এবং সাহসী ভুমিকায় পর্ষটকরা রক্ষা পেয়েছেন বলে জানান ওই জাহাজ মাষ্টার। দস্যুদের নাম শুনে পর্যটকদের মধ্যে তাৎক্ষণিক একটা আতঙ্ক তৈরি হয়েছিল।
সুন্দরবন পূর্ব বিভাগে বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. রেজাউল করিম চৌধুরী কটকায় পর্যটকবাহী জাহাজে বনদস্যুতার চেষ্টা খবরটি নিশ্চিত করেছেন। ডিএফও রাত সাড়ে ১০টার দিকে মোবাইল ফোনে বলেছেন, সুন্দরবনে এখন পর্যন্ত পর্যটকবাহী জাহাজে ডাকাতির ঘটনা ঘটেনি। পর্যটকবাহী জাহাজে এটাই ছিল দস্যুদের প্রথম চেষ্টা। তবে জেলেদের মাধ্যমে আগাম খবর পাওয়ায় কটকার বনরক্ষীরা দস্যুদের অপচেষ্টা নস্যাৎ করতে সক্ষম হয়েছে। বনরক্ষীরা দস্যুদের লক্ষ্য করে চার রাউণ্ড গুলি ছুড়েছে। কটকা নদীতে টহল জোরদারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ডিএফও রেজাউল করিম চৌধুরী আরো বলেন সম্প্রতি সুন্দরবনে বনদস্যুদের অপতৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে। দস্যুরা জেলেদের ধরে নিয়ে জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায় করছে। দস্যু দমনে সুন্দরবনে কোষ্টগার্ডের রাত্রিকালীন টহল চালু করা দরকার।