
সংগৃহীত ছবি
জীবিকার সন্ধানে প্রতিদিন লাখো মানুষ রাজধানী ঢাকায় আসেন। ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার চাপ, অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও সড়ক দখলের কারণে নগরজীবনে ভোগান্তি বাড়ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সরকারের জন্যও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদের ‘ওয়ার্ল্ড আরবানাইজেশন প্রস্পেক্টাস ২০২৫’-এর তথ্য অনুযায়ী, গত ২৫ বছরে জনসংখ্যার দিক থেকে ঢাকা সাত ধাপ এগিয়ে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম নগরীতে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে ঢাকার সামনে রয়েছে শুধু জাকার্তা। প্রতিবেদনের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ২৫ বছরে জনসংখ্যার দিক থেকে জাকার্তাকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে ঢাকা। বর্তমানে রাজধানীতে প্রায় ৩ কোটি ৬৬ লাখ মানুষের বসবাস এবং জনসংখ্যা বৃদ্ধির বার্ষিক হার ২ দশমিক ৯৬ শতাংশ।
সীমিত পরিসরের সড়ক ব্যবস্থায় অবৈধ দখল ও ফুটপাতের ব্যবসা নগরবাসীর চলাচলে বাড়তি চাপ তৈরি করছে। এতে সড়কের ব্যবহারযোগ্য পরিসর কমার পাশাপাশি পথচারীদের ভোগান্তি বাড়ছে।
নগরবাসীর অভিযোগ, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত যানজট তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে গুলিস্তানসহ ব্যস্ত এলাকাগুলোতে সড়ক ও ফুটপাত দখলের কারণে চলাচলে সমস্যায় পড়তে হয় তাঁদের। এ সমস্যা সমাধানে কার্যকর উদ্যোগের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
গত বৃহস্পতিবার নগরবাসীর ভোগান্তি কমাতে ধলপুর এলাকায় ফুটপাত দখলমুক্ত করতে অভিযান চালায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। প্রশাসকের নেতৃত্বে পরিচালিত ওই অভিযানে বেশ কয়েকটি অবৈধ স্থাপনা ও দোকান উচ্ছেদ করা হয়।
তবে উচ্ছেদের পরও ফুটপাতের ব্যবসায়ীদের অনেকেই ফের সেখানে বসছেন। তাঁদের ভাষ্য, বিকল্প ব্যবস্থা না করে বারবার উচ্ছেদ করা হলে তাঁদের জীবিকা অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে। তাঁদের জন্য নির্ধারিত জায়গার ব্যবস্থা করে টেকসই সমাধানের দাবি জানিয়েছেন হকাররা।
একজন হকার বলেন, “অভিযান চালায়, তাঁরা চলে গেলে আমরা আবার বসি। কী করব? আমরাও জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করে বাঁচতে চাই না। আমাদের জন্য সঠিক ও টেকসই একটি ব্যবস্থা করে দেওয়া হোক।”
উচ্ছেদের এক সপ্তাহ না পেরোতেই রাজধানীর জিরোপয়েন্ট থেকে সদরঘাট পর্যন্ত সড়কের বিভিন্ন অংশে আবারও হকারদের বসতে দেখা গেছে। গোলাপ শাহ মাজার থেকে স্টেডিয়াম মার্কেট পর্যন্ত এলাকাতেও ফুটপাত ও সড়কের বিভিন্ন অংশে হকারদের উপস্থিতি দেখা যায়।
এ বিষয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুস সালাম কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, জিরোপয়েন্ট থেকে সদরঘাট পর্যন্ত সড়কটি দখলমুক্ত রাখতে হবে। কেউ সেখানে বসলে আবারও উচ্ছেদ করা হবে এবং ভবিষ্যতে মামলা করা হবে বলেও জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, নিবন্ধিত হকার ছাড়া ঢাকার সড়ক ও ফুটপাত দখল করে ব্যবসা করার সুযোগ দেওয়া হবে না।
নগর বিশেষজ্ঞ ও বাসিন্দারা বলছেন, শুধু উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে দীর্ঘমেয়াদে এ সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। হকারদের পুনর্বাসন, বিকল্প কর্মস্থলের ব্যবস্থা এবং সড়ক ব্যবস্থাপনায় সমন্বিত উদ্যোগের পাশাপাশি ঢাকার পরিকল্পিত নগরায়ণে মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা প্রয়োজন।