
সংগৃহীত ছবি
রাজধানীর বাংলামোটরে কথা-কাটাকাটির জেরে সোহান (৪৫) নামে এক ব্যক্তিকে মাথায় আঘাত করে রক্তাক্ত করার অভিযোগ উঠেছে হাতিরঝিল থানা যুবদলের সাবেক আহ্বায়ক ও বহিষ্কৃত নেতা ফেরদৌস আহাম্মেদ সাইমনের বিরুদ্ধে। এ সময় কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ার অভিযোগও পাওয়া গেছে। পরে এলাকাবাসীর ধাওয়া ও আটকে রাখার পর সাইমনসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আহত সোহান ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে বর্তমানে বাসায় রয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) রাত ৮টা ১০ মিনিটে হাতিরঝিল থানার বাংলামোটর মোড়ের উত্তর পাশে একটি গলিতে এ ঘটনা ঘটে।
হাতিরঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসাদুজ্জামান আসাদ যুগান্তরকে বলেন, কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে মারধরের ঘটনা ঘটে। পরে এলাকাবাসী কয়েকজনকে ধাওয়া করে একটি ভবনের ভেতরে আটকে রেখে পুলিশকে খবর দেয়।
তিনি বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে এলাকাবাসীর মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে অতিরিক্ত পুলিশ ও গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সদস্যরা সেখানে যান। পরে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠলে এসআরবি ও সোয়াত সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে সাইমনসহ চারজনকে উদ্ধার করে গ্রেপ্তার করেন। পরে তাঁদের থানায় নেওয়া হয়।
ওসি আরও বলেন, অভিযুক্তদের নিয়ে যাওয়ার সময় পুলিশকে বেগ পেতে হয়। ব্যারিকেডের সামনে এলাকাবাসীর একাংশ পুলিশের ওপর হামলা এবং আটক ব্যক্তিদের মারধরের চেষ্টা করে। ঘটনাস্থল ও আশপাশে তল্লাশি চালিয়ে উল্লেখযোগ্য কিছু পাওয়া যায়নি। তবে এ ঘটনায় আরও তল্লাশি ও তদন্ত চলছে। গ্রেপ্তার বাকি তিনজনের পরিচয় এখনো শনাক্ত করা যায়নি। তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানানো হবে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, সোহানের সঙ্গে সাইমনের কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে তাঁকে মাথায় আঘাত করা হয়। এতে তাঁর মাথা ফেটে রক্তাক্ত হয়। পরে সাইমন কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে ঘটনাস্থল ত্যাগের চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ। এ সময় এলাকাবাসী তাঁদের ধাওয়া করে আটকে দেয়।
ভুক্তভোগী সোহান অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে সাইমন, তাঁর ভাইসহ একটি গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে এলাকায় চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা ও আধিপত্য বিস্তারের অভিযোগ রয়েছে। গাড়ি পার্কিংসহ বিভিন্ন ক্ষেত্র থেকেও চাঁদা আদায়ের অভিযোগ করেন তিনি।
সোহানের ভাষ্য, বৃহস্পতিবার একটি তুচ্ছ বিষয় নিয়ে গলির মধ্যে সাইমনের সঙ্গে তাঁর কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে সাইমনের সঙ্গে থাকা পাঁচ থেকে সাতজন তাঁকে মারধর করেন। এতে তাঁর মাথা ফেটে যায়। পরে সাইমনসহ কয়েকজন মোটরসাইকেলে করে পালানোর চেষ্টা করলে স্থানীয়রা তাঁদের ধাওয়া করে আটকে দেয়।
এলাকার বাসিন্দা মুক্তারও সাইমন, তাঁর ভাই ওমর ও মিজানসহ পরিবারের কয়েকজনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, মারামারি, আধিপত্য বিস্তার ও মাদক কারবারে জড়িত থাকার অভিযোগ করেন। তাঁর দাবি, এসব কর্মকাণ্ডে অতিষ্ঠ হয়ে এলাকাবাসী প্রতিবাদ জানিয়ে তাঁদের পুলিশের হাতে তুলে দেয়।
স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, সাইমনের সঙ্গে থাকা আরও চার থেকে পাঁচজন একটি ভবনের ভেতরে ছিলেন। তাঁদের পরিচয় জানা যায়নি। এ সময় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী সাইমনের ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেয় বলে জানা গেছে। পরে পুলিশ, ডিবি, এসআরবি ও সোয়াত সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান।
স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সাইমন ৩৫ নম্বর ওয়ার্ডের যুবদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক এবং বহিষ্কৃত নেতা। তিনি বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা সাইফুল আলম নীরবের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
আহত সোহান মৃত শামসুদ্দিনের ছেলে। তাঁর বাসা ৬২/এ নিউ ইস্কাটন, হাতিরঝিল, ঢাকা।