বৃহস্পতিবার ● ১ অক্টোবর ২০২৬ ● ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩

শিরোনাম: আউটসোর্সিংয়ের সংশোধিত নীতিমালা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট   নিজ নির্বাচনী এলাকায় না জানিয়ে উচ্ছেদ অভিযান, বিস্ময় প্রকাশ জামায়াত আমিরের   ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষনা   লোহাগড়া উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে আলোচনায় সোহেল রানা লাক্সমি   মরিয়মের মৃত্যুর মামলায় আপস, এমপি গাজী নজরুলের জামিনে আপত্তি নেই   মিয়ানমার জান্তার বিমান হামলা, বাংলাদেশের সীমান্তের কাছে নিহত ৫০   নিউগিনি প্রপার্টিজে হামলা: অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল গোলাম মহিউদ্দিন গ্রেপ্তার   
হামলা-ভাঙচুর ও দখলের ঘটনায় বিব্রত সরকার, তদন্তে বিএনপি
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:১৬ পিএম   (ভিজিট : ৭৪)

সংগৃহীত ছবি

সংগৃহীত ছবি

রাজধানীর মিরপুরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার ভাঙচুর, ইসিবি চত্বরে কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও-কার্যালয়ে হামলা ও লুটপাটসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সাম্প্রতিক হামলা, ভাঙচুর ও দখলের ঘটনায় বিব্রত সরকার। এসব ঘটনায় ক্ষমতাসীন দলের নেতা-কর্মীদের নাম আসায় সরকারের পাশাপাশি বিএনপির মধ্যেও বিষয়টি নিয়ে অস্বস্তি তৈরি হয়েছে।

বিভিন্ন স্থানে ভূমি ও বাড়ি দখল, খাসজমি দখল, হামলা ও চাঁদাবাজির অভিযোগে নাগরিক সমাজের বিভিন্ন ব্যক্তি উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এসব ঘটনায় সমালোচনা চলছে। এ ঘটনায় কয়েকটি থানায় মামলা হয়েছে এবং ইতোমধ্যে বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে পুলিশ তৎপর রয়েছে।

বিএনপির একাধিক দায়িত্বশীল নেতা জানিয়েছেন, দলের শীর্ষ নেতৃত্বের নির্দেশে সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোতে দলের কারা জড়িত এবং কারও ইন্ধন ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে অভ্যন্তরীণভাবে তদন্ত চলছে। তদন্তে দলের কোনো নেতা-কর্মীর সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও তারা জানান।

প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান মঙ্গলবার সচিবালয়ে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে সাম্প্রতিক হামলা, ভাঙচুর ও অবৈধ দখলের ঘটনায় সরকার দুঃখিত এবং বিব্রত। প্রতিটি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনাটি বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে। পুলিশ এ ঘটনায় স্থানীয় বিএনপির কয়েকজনের সম্পৃক্ততার অভিযোগ তদন্ত করছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী, শ্রমমন্ত্রীসহ স্থানীয় বিএনপির নেতারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। প্রশাসনের সহযোগিতায় সেখানে টিকাদান কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। স্থাপনা মেরামতের কাজও শুরু হয়েছে।

ইসিবি চত্বরে সালমান মুক্তাদিরের ‘ব্রাউনফিশ স্টুডিও’তে হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনাও গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। সরকারের নির্দেশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া শুরু করেছেন। এ ছাড়া মোহাম্মদপুরের চাঁদ উদ্যান ও আদাবরের শেখেরটেকে জমি ও বাড়ি দখলকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ ও ভাঙচুরের ঘটনায়ও কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলার ঘটনায় পুলিশ এখন পর্যন্ত ১০ জনের বেশি ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে। দায়িত্বে অবহেলার প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়ার কথা জানিয়ে রবিবার শাহ আলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর আলমকে প্রত্যাহার করা হয়।

মামলার এজাহার ও প্রাথমিক তদন্তের তথ্য অনুযায়ী, হামলার আগে অভিযুক্তদের কয়েকজন শাহ আলী থানা ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক আবুল কালাম আজাদ ওরফে লেলিন এবং বিএনপি নেতা হানিফ মিয়ার কার্যালয়ের সামনে জড়ো হয়েছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে তারা রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যান। হামলার সময় হানিফ মিয়া, আবুল কালাম ও ঢাকা মহানগর যুবদলের সাবেক সদস্যসচিব মোস্তফা জগলুল পাশা ওরফে পাপেলসহ কয়েকজন ঘটনাস্থলের আশপাশে অবস্থান করে নির্দেশনা দিয়েছেন বলেও প্রাথমিক তদন্তে তথ্য পাওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ।

এজাহার ও পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ভাঙচুর ও লুটপাটে নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে শাহ আলী থানা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আওলাদ হোসেন ওরফে নাডা আওলাদ এবং ৯৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মো. ইলিয়াসের বিরুদ্ধে। ভাঙচুরে ব্যবহৃত এক্সক্যাভেটর জোগাড়ের সঙ্গে শাহ আলী থানা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক মারুফের সম্পৃক্ততার তথ্যও তদন্তে এসেছে বলে জানা গেছে।

অভিযুক্ত ব্যক্তিদের কয়েকজন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির ঘনিষ্ঠ হিসেবে এলাকায় পরিচিত বলে স্থানীয় সূত্রে দাবি করা হয়েছে। তবে ফেরদৌসী আহমেদ শুরু থেকেই রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলার সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) এক বিবৃতিতে দেশের বিভিন্ন স্থানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা ও দখলের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সংস্থাটি বলেছে, এসব ঘটনা শাসক দল ও সরকারের ভাবমূর্তির জন্য সংকট তৈরি করছে।

সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী, পুলিশ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় দলীয় পরিচয় বিবেচনা না করে মাদক ব্যবসায়ী, সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সভায় পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির বলেন, অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে হবে এবং এ ক্ষেত্রে দলীয় পরিচয় বিবেচনার সুযোগ নেই।

এদিকে দেশের ৩৮ জন বিশিষ্ট নাগরিক এক যৌথ বিবৃতিতে সাম্প্রতিক হামলা, ভাঙচুর ও দখলের ঘটনায় উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তারা এসব ঘটনার উচ্চপর্যায়ের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের শনাক্ত করে আইন অনুযায়ী শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। বিবৃতিতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রভাবশালী ব্যক্তি, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যসহ বিভিন্ন পক্ষের সম্পৃক্ততার অভিযোগও তুলে ধরা হয়। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য আলাদাভাবে পাওয়া যায়নি।











  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ


সম্পাদক ও প্রকাশক: ড. কাজী এরতেজা হাসান
সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
সাউথ ওয়েস্টার্ন মিডিয়া গ্রুপ


©ডেইলি ভোরের পাতা ডটকম


©ডেইলি ভোরের পাতা ডটকম

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫।
ফোন:৮৮-০২-৪১০১০০৮৭, ৪১০১০০৮৬, বিজ্ঞাপন বিভাগ: ৪১০১০০৮৪, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৪১০১০০৮৫
অনলাইন ইমেইল: [email protected] বার্তা ইমেইল:[email protected] বিজ্ঞাপন ইমেইল:[email protected]