
সংগৃহীত ছবি
ভারতের মধ্যপ্রদেশের উজ্জয়িনীতে ২০২৮ সালের সিংহস্থ কুম্ভ মেলার আগে সড়ক সম্প্রসারণের জন্য ঐতিহাসিক শাহি মসজিদের একাংশ ভেঙে ফেলার উদ্যোগ নিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। তবে স্থানীয় মুসলিমদের দাবি, মসজিদটির বয়স ৬০০ বছরেরও বেশি।
রোববার গভীর রাতে বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করে মসজিদটি ভাঙতে বুলডোজার নিয়ে আসে প্রশাসন। খবর পেয়ে স্থানীয় মুসলিমরা সেখানে জড়ো হয়ে উচ্ছেদ কার্যক্রমে বাধা দেন। পরে মসজিদের ভেতরে অবস্থান নেন অনেকে। পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রশাসন আপাতত উচ্ছেদ অভিযান স্থগিত রেখেছে।
২০২৮ সালের সিংহস্থ মেলাকে সামনে রেখে উজ্জয়িনী মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন ওই এলাকার একটি সড়ক ১৫ মিটার পর্যন্ত প্রশস্ত করার পরিকল্পনা করেছে। প্রস্তাবিত সড়কের সীমানার মধ্যে মসজিদের একটি অংশ পড়েছে বলে সেটি সরিয়ে ফেলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রশ্ন, মসজিদের বিপরীত পাশে থাকা ভবন সরিয়ে রাস্তা সম্প্রসারণ করা সম্ভব কি না।
উজ্জয়িনীর পুলিশ সুপার প্রদীপ শর্মা দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে বলেন, বিষয়টি আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা চলছে। তিনি জানান, মসজিদ কমিটির সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে আইনি বিষয়গুলো ব্যাখ্যা করা হয়েছে এবং স্থাপনাটি নিজেদের উদ্যোগে সরিয়ে নেওয়ার জন্য তাদের বোঝানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
এদিকে মসজিদ কর্তৃপক্ষের দায়ের করা একটি পিটিশনের ওপর মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টে শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে মসজিদটি ভাঙার উদ্যোগের বিরুদ্ধে দায়ের করা দুটি পিটিশন ৯ সেপ্টেম্বর খারিজ করে দিয়েছিল আদালত।
মসজিদের ইমাম মোহাম্মদ ইব্রাহিম দাবি করেন, মসজিদটি ৬৩৬ বছরের পুরনো এবং ১৩৯০ সালে এটি নির্মিত হয়। তার মতে, উজ্জয়িনী একটি ধর্মীয় শহর হওয়ায় সড়ক সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে ধর্মীয় স্থাপনাগুলোকে বাদ দেওয়া উচিত।
ইব্রাহিম বলেন, মসজিদটি ওয়াকফ সম্পত্তি হিসেবে নিবন্ধিত। এ বিষয়ে তারা হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চে পিটিশন করেছেন এবং আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মসজিদটি রক্ষার চেষ্টা করছেন।
মুসলিম রিপ্রেজেন্টেটিভ কমিটির সদস্য মোহাম্মদ জাকির বলেন, মসজিদ রক্ষায় স্থানীয় মুসলিমরা সেখানে অবস্থান নিয়েছেন। কোনো অবস্থাতেই তারা মসজিদটি ভেঙে ফেলতে দিতে চান না।
মসজিদটি ভাঙার উদ্যোগ নিয়ে রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়াও দেখা দিয়েছে। এআইএমআইএম প্রধান আসাদউদ্দিন ওয়াইসি দাবি করেছেন, মুসলিমরা অহিংস বা ‘গান্ধীবাদী’ পদ্ধতিতে এর প্রতিবাদ করছেন। তার ভাষ্য, কোনো মসজিদ বা ধর্মীয় সম্পত্তি এভাবে ভেঙে ফেলা উচিত নয়।
এর আগে মসজিদ কমিটির পক্ষ থেকে করা মামলায় বলা হয়েছিল, উচ্ছেদ কার্যক্রম বাস্তবায়িত হলে মূল নামাজকক্ষের একটি অংশ, প্রায় ১২০ ফুট উঁচু একটি মিনার এবং মাযহার চক শাহি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। আবেদনকারীরা সংবিধানের ১৪, ২৫ ও ২৬ অনুচ্ছেদ এবং সম্পত্তির অধিকারসংক্রান্ত ৩০০এ অনুচ্ছেদের বিষয়ও আদালতে তুলে ধরেছিলেন।
তবে মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টের আগের আদেশে বলা হয়, মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই কাজ করেছে এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষকে আপত্তি জানানোর সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। আদালত সড়ক সম্প্রসারণ প্রকল্পের বৃহত্তর জনস্বার্থের বিষয়টিও বিবেচনায় নেয়।
কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, ২০২৮ সালের সিংহস্থ কুম্ভ মেলা, শাহি সওয়ারি ও পেশওয়াইয়ের সময় বিপুলসংখ্যক মানুষের সমাগম হবে। তাই যান চলাচল, জননিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার জন্য সড়ক সম্প্রসারণ প্রয়োজন।
আদালতও মসজিদটির অবস্থান বিবেচনায় নেয়। মসজিদটি মহাকালেশ্বর মন্দিরের কাছাকাছি এবং শিপ্রা নদীর নিকটে অবস্থিত হওয়ায় সিংহস্থ মেলার সময় ওই এলাকায় বিপুল ভিড় হতে পারে বলে আদালতের পর্যবেক্ষণে উঠে আসে।
তবে আদালতের আগের সিদ্ধান্তের পরও মসজিদটি নিয়ে বিরোধের অবসান হয়নি। মসজিদ কমিটি বৃহত্তর বেঞ্চের দ্বারস্থ হয়েছে। স্থানীয় মুসলিমরা জানিয়েছেন, হাইকোর্টে প্রতিকার না পেলে তারা সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার বিষয়টিও বিবেচনা করবেন।