প্রকাশ: শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:২৯ এএম (ভিজিট : ৩৯)

সংগৃহীত ছবি
ঢাকার সাভারের আশুলিয়ায় একটি তালাবদ্ধ ভাড়া বাসা থেকে একই পরিবারের বলে ধারণা করা তিনজনের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহতদের মধ্যে একজন পুরুষ, একজন নারী ও সদ্য ভূমিষ্ঠ একটি নবজাতক রয়েছে।
পুরুষের গলায় গামছা পেঁচানো অবস্থায় মরদেহ পাওয়ায় ঘটনাটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড হতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) ভোরে আশুলিয়ার মধ্য জামগড়া এলাকার হাজী হযরত আলীর মালিকানাধীন একটি চারতলা ভবনের দ্বিতীয় তলার তালাবদ্ধ একটি কক্ষ থেকে মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই নারী-পুরুষ গত ৯ আগস্ট স্বামী-স্ত্রীর পরিচয়ে বাসাটির কক্ষটি ভাড়া নেন। এরপর থেকে কক্ষটির দরজা-জানালা প্রায় সবসময় বন্ধ থাকত। শুক্রবার রাতে ওই কক্ষ থেকে তীব্র পচা দুর্গন্ধ বের হতে থাকলে প্রতিবেশীদের সন্দেহ হয়। পরে তারা আশুলিয়া থানায় খবর দেন।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে কক্ষটি বাইরে থেকে তালাবদ্ধ অবস্থায় দেখতে পায়। পরে তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মরদেহগুলো অর্ধগলিত অবস্থায় ছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে।
আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম জানান, উদ্ধার হওয়া তিনজনের পরিচয় এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তারা স্বামী-স্ত্রী ও তাদের সন্তান। পুরুষের গলায় গামছা পেঁচানো থাকায় ঘটনাটি হত্যাকাণ্ড বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
পুলিশ জানায়, ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে তদন্ত শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে সিআইডির ফরেনসিক টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছে। পাশাপাশি ঢাকা উত্তর গোয়েন্দা পুলিশ ও আশুলিয়া থানা পুলিশও ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় খতিয়ে দেখছে।
নিহতদের পরিচয়, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে কারা জড়িত এবং কেন তাদের হত্যা করা হয়েছে এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে তদন্ত চলছে। ময়নাতদন্ত ও ফরেনসিক পরীক্ষার প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
ঘটনাটি জানাজানি হলে আশপাশের এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহের পাশাপাশি নিহতদের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা করছে।
সর্বশেষ তথ্য: এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত নিহত তিনজনের নাম-পরিচয় আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে।