
ঝিকরগাছা উপজেলায় স্কুল ফিডিং কর্মসূচী বাস্তাবায়নকারী এনজিও সুশীলনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগে উপজেলা শিক্ষা অফিসার কর্তৃক জেলা শিক্ষা অফিসার বরাবর একের পর এক লিখিত প্রতিবেদন দেয়া হয়েছে। জেলা শিক্ষা অফিসারের পক্ষ থেকে এনজিও কর্তৃপক্ষকে বলা হলেও তারা কোন কর্ণপাত করছেন না। বিষয়টি নিয়ে সচেতন অভিভাবক মহল ও জনমনে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে।
বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, এনজিও সুশীলনের বিভিন্ন অনিয়মের বিরুদ্ধে চলতি বছরের ১৮এপ্রিল, ২১মে ও ৩০জুলাই জেলা শিক্ষা অফিসার বরাবর ঝিকরগাছা উপজেলা শিক্ষা অফিসার মোঃ ওয়ালীয়ার রহমান স্বাক্ষরিত প্রতিবেদনে সুত্রে জানাগেছে, উপজেলার ১৩১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থীদের জন্য চালু থাকা মিড-ডে মিল কর্মসূচিতে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সরবরাহকরা কলা ও ডিমের নির্ধারিত ওজন না থাকা, নির্ধারিত সময়ের কয়েকদিন আগেই খাদ্যসামগ্রী বিদ্যালয়ে পৌঁছে দেয়া ও অত্যন্ত নিম্নমানের পাউরুটি সরবরাহের অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ বিষয়ে ঝিকরগাছা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস থেকে যশোর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে একাধিক চিঠির মাধ্যমে বিষয়টি জানানো হয়েছে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। গত ১৮ এপ্রিল, ২১মে ও ৩০জুলাই ২০২৬ তারিখে দেওয়া পৃথক চিঠিগুলোতে এসব অভিযোগ ও মাঠপর্যায়ের বিভিন্ন অনিয়মের তথ্য তুলে ধরা হয়েছে ।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ঝিকরগাছা উপজেলার ১৩১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মিড-ডে মিল কর্মসূচির আওতায় শিক্ষার্থীদের কলা, ডিম ও পাউরুটি সরবরাহ করছেন এনজিও সুশীলন। কর্মসূচি শুরু থেকেই খাদ্যসামগ্রী সরবরাহ ও বিতরণে বিভিন্ন অনিয়ম পরিলক্ষিত হচ্ছে।
অভিযোগের মধ্যে রয়েছে, বিদ্যালয়ে সরবরাহ করা প্যাকেটের গায়ে মেয়াদ উল্লেখ থাকলেও কোনো কোনো প্যাকেটের পাউরুটি নিম্নমানের ও দুর্গন্ধযুক্ত বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত ১৫ জুলাই ঝিকরগাছার একটি বিদ্যালয়ে এমন ঘটনার কথা চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে। এ সংক্রান্ত ভিডিও প্রমাণও সংযুক্ত করা হয়েছে বলে জানানো হয়।
চিঠিতে আরও বলা হয়, সরকারি বিধি অনুযায়ী সরবরাহ করা প্রতিটি কলার ওজন ১০০গ্রাম হওয়ার কথা। কিন্তু বিভিন্ন বিদ্যালয়ে সরবরাহ করা কলার ওজন মাত্র ৬০থেকে ৭০গ্রামের মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে। পাশাপাশি নির্ধারিত তারিখের বিতরণের দিনের ৩/৪ দিন আগেই অধিকাংশ বিদ্যালয়ে কলা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। এতে কলা নষ্ট হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
ডিম সরবরাহের ক্ষেত্রেও নির্ধারিত মান ও আকার বজায় না রাখার অভিযোগ উঠেছে। চিঠিতে বলা হয়, অনেক বিদ্যালয়ে সরবরাহ করা ডিমের মান ও আকার নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। একই সঙ্গে খাদ্যসামগ্রী বিদ্যালয়ে পৌঁছে দেওয়া, সংরক্ষণ ও বিতরণ ব্যবস্থাপনাতেও বিস্তর অনিয়মের অভিযোগ করা হয়েছে।
একটি চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, এসব অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্টদের অবহিত করা হলেও অভিযোগের প্রতিকারে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি লক্ষ্য করা যায়নি। এমনকি এখনো পর্যন্ত সরবরাহ করা কলা, ডিম,পাউরুটির মান নিয়ে অসন্তোষ রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
চিঠিগুলোতে শিক্ষার্থীদের জন্য সরবরাহ করা খাদ্যসামগ্রীর মান নিশ্চিত করা,নির্ধারিত ওজন ও মান বজায় রাখা এবং অভিযোগগুলোর বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
জানতে চাইলে,ঝিকরগাছা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ ওয়ালীয়ার রহমান বলেন, নষ্ট ও আকারে ছোট কলা ও ডিম, মেয়াদোত্তীর্ণ পাউরুটিসহ অন্যান্য নিম্নমানের খাদ্য সামগ্রী সরবরাহ সহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ উল্লেখ করে তার পক্ষ থেকে লিখিত ভাবে জেলায় জানানো হয়েছে। জেলা শিক্ষা অফিসারসহ তিনি কয়েকদফা এনজিও সুশীলন কর্তৃপক্ষকে অবগত করেছেন।
এ বিষয়ে এনজিও সুশীলনের প্রতিনিধি জাবেদ আলীর মোবাইলে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।