
সংগৃহীত ছবি
মাত্র ৯ বছর বয়সে টানা ৪০ দিনের পরিশ্রমে পবিত্র কুরআন শরিফের সম্পূর্ণ অংশ নিজের হাতে লিখেছিল খুলনার শিশু শিক্ষার্থী অরিনা সাফা খান। জীবনের অন্যতম সেরা কাজ হিসেবে বিবেচিত সেই হাতে লেখা কুরআন এবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে উপহার দিয়েছে পঞ্চম শ্রেণির এই শিক্ষার্থী।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার সুযোগ পেয়ে নিজের হাতে লেখা কুরআন শরিফটি তাঁকে উপহার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় অরিনা।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) খুলনা জেলা স্টেডিয়ামে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আগে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সে। এ সময় অরিনার হাতে লেখা কুরআন শরিফটি সাদরে গ্রহণ করেন প্রধানমন্ত্রী। পরে একই দিন স্টেডিয়ামে চ্যানেল টোয়েন্টিফোরকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে কুরআন লেখার অভিজ্ঞতা ও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের অনুভূতি জানায় অরিনা।
অরিনার বাড়ি খুলনার মুজগুন্নী এলাকায়, আরাফাত মসজিদসংলগ্ন সড়কের খোকন মুন্সীর বাড়িতে। তার বাবা শুকুর আলী খান এবং মা রাশিদা বেগম। দুই সন্তানের মধ্যে অরিনা একজন। চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ার সময় মাত্র ৯ বছর বয়সে পবিত্র কুরআন লেখা শুরু করে সে। প্রায় ৪০ দিনের মধ্যেই পুরো কুরআন হাতে লেখা শেষ করে অরিনা।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান খুলনায় আসবেন জানতে পেরে তাঁকে কী উপহার দেওয়া যায়, তা নিয়ে ভাবতে শুরু করে অরিনা। পরে নিজের হাতে লেখা কুরআন শরিফটিই উপহার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। কারণ, তার কাছে এটি কেবল একটি উপহার নয়, বরং জীবনের অন্যতম মূল্যবান অর্জন।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) চ্যানেল টোয়েন্টিফোরকে অরিনা বলে, ‘আমি যে কুরআন শরিফটি হাতে লিখেছি, সেটিই প্রধানমন্ত্রীকে উপহার দেওয়ার কথা ভাবলাম। পরে না হয় আমি আবার একটি লিখে নিতে পারব।’
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে প্রথমবার দেখা করার অভিজ্ঞতা জানাতে গিয়ে অরিনা বলে, শুরুতে কিছুটা নার্ভাস লাগছিল, ভয়ও করছিল। তবে প্রধানমন্ত্রী আপনজনের মতো আন্তরিকভাবে কথা বলায় তার ভয় ও অস্বস্তি কেটে যায়। অরিনার ভাষায়, ‘আলহামদুলিল্লাহ, অনেক ভালো লাগছে আমার।’
জানা গেছে, অরিনা খুলনার বাংলাদেশ নৌবাহিনী স্কুল অ্যান্ড কলেজের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী। পড়াশোনার পাশাপাশি শিশু শিল্পী হিসেবেও পরিচিত সে। ইসলামি সংগীত পরিবেশনায়ও রয়েছে তার দক্ষতা। তার প্রতিভা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন খালিশপুরের কনটেন্ট ক্রিয়েটর নাঈম হাসান।
মাত্র ৯ বছর বয়সে পবিত্র কুরআন হাতে লেখার অসাধারণ অভিজ্ঞতা অরিনার জীবনে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। সেই সঙ্গে নিজের হাতে লেখা কুরআন দেশের প্রধানমন্ত্রীর হাতে তুলে দেওয়ার মুহূর্তটিও তার জীবনের বিশেষ এক অর্জন হয়ে থাকবে।