
সংগৃহীত ছবি
চলমান শ্রমিক আন্দোলন ও অসন্তোষের পরিস্থিতি আগামী শনিবারের মধ্যে স্বাভাবিক না হলে পোশাক কারখানাগুলোতে ‘কাজ নেই, বেতন নেই’ (নো ওয়ার্ক, নো পে) নীতি কার্যকর করার কথা ভাবছেন মালিকরা।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বিকেলে রাজধানীর সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের কার্যালয়ে পোশাক রপ্তানিকারকদের বিভিন্ন সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে এক জরুরি বৈঠকে এ সিদ্ধান্তের বিষয়টি উঠে আসে। এ বিষয়ে সরকারের সহযোগিতাও চান ব্যবসায়ী নেতারা।
বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খানের নেতৃত্বে ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদল বৈঠকে অংশ নেয়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে পোশাকশিল্পের নেতারা বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তারা বলেন, শ্রমিক অসন্তোষ অব্যাহত থাকলে কারখানাগুলোর উৎপাদন কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।
বৈঠক সূত্রে জানা যায়, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সরকারের পক্ষ থেকে মালিকদের শনিবার পর্যন্ত অপেক্ষা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে মজুরি বৃদ্ধির দাবিকে কেন্দ্র করে যারা শিল্পাঞ্চলে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানানো হয়।
বৈঠকে অংশ নেওয়া মালিকপক্ষের নেতারা জানান, শনিবারের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে এবং শ্রমিকরা কাজে সহযোগিতা না করলে কারখানাগুলোতে ‘কাজ নেই, বেতন নেই’ নীতি ঘোষণা ও কার্যকর করা হতে পারে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানায়, পরিস্থিতির আরও অবনতি হলে সরকার কঠোর অবস্থানে যাবে। একই সঙ্গে অস্থিরতার সঙ্গে জড়িত মালিক ও শ্রমিক উভয় পক্ষের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়েও সতর্ক করা হয়েছে।
জরুরি বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি কুতুবউদ্দিন আহমেদ, কাজী মনিরুজ্জামান, আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী পারভেজ, রুবানা হক ও খন্দকার রফিকুল ইসলাম। এ ছাড়া সাবেক এফবিসিসিআই সভাপতি ও হামীম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ কে আজাদ, বিজিএমইএর জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি সেলিম রহমান এবং সহ-সভাপতি রেজওয়ান সেলিমসহ সংগঠনটির অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশ নিটওয়্যার প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিকেএমইএ) সহ-সভাপতি অমল পোদ্দার ও পরিচালক সালাহউদ্দিন আহমেদও বৈঠকে অংশ নেন।