প্রকাশ: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ১০:৪৭ এএম (ভিজিট : ৫৬)

সংগৃহীত ছবি
খুলনার দিঘলিয়া উপজেলায় ঘরের বাইরে পড়ে থাকা একটি পলিথিনের প্যাকেট মুড়ির প্যাকেট ভেবে কুড়িয়ে ঘরে নেওয়ার পর বিস্ফোরণে মারাত্মক দগ্ধ হয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর এক নেতা।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) ভোরে উপজেলার সেনহাটী ইউনিয়নের কলেরপুকুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহত মনিরুল ইসলাম সেনহাটী ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের একটি ইউনিটের সভাপতি। দিঘলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অরূপ কুমার চৌধুরী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ফজরের নামাজ শেষে বাড়ি ফিরে ঘরের দরজার সামনে একটি পলিথিনের প্যাকেটে মুড়ি দেখতে পান মনিরুল ইসলাম। কেউ ভুল করে প্যাকেটটি রেখে গেছে মনে করে তিনি সেটি ঘরে নিয়ে যান। পরে প্যাকেটটি হাতে নিয়ে পরীক্ষা করার সময় বিস্ফোরণ ঘটে। এতে তার হাত ও পায়ের বিভিন্ন অংশ দগ্ধ হয়।
বিস্ফোরণে ঘরের আসবাবপত্রেও আগুন ধরে যায়। পরে স্থানীয়রা আগুন নিয়ন্ত্রণে এনে আহত মনিরুলকে উদ্ধার করেন। তাকে দিঘলিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। বর্তমানে সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন তিনি।
মনিরুল ইসলামের সাংগঠনিক পরিচয় নিশ্চিত করে দিঘলিয়া উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি মুশফিকুর রহমান বলেন, আহত মনিরুল ইসলাম জামায়াতের একটি ইউনিটের সভাপতি। তার ছোট ভাই এম এম রকিব উদ্দিন সেনহাটি ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডে জামায়াত মনোনীত সদস্য পদপ্রার্থী।
মুশফিকুর রহমানের ধারণা, ওই প্রার্থীকে ভয় দেখানোর উদ্দেশ্যে দুর্বৃত্তরা প্যাকেটে বোমা রেখে যেতে পারে। তবে ভুলবশত প্যাকেটটি রকিব উদ্দিনের ঘরের পরিবর্তে মনিরুল ইসলামের ঘরের দরজার সামনে রেখে যাওয়া হয়ে থাকতে পারে।
ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে মুশফিকুর রহমান জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের দাবি জানান।
ওসি অরূপ কুমার চৌধুরী জানান, মনিরুল ইসলাম একটি মাদ্রাসার অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক। মঙ্গলবার ভোরে ফজরের নামাজ শেষে সকাল পৌনে ৬টার দিকে বাড়ি ফিরে গেটের পাশে একটি পলিথিনের ব্যাগ দেখতে পান তিনি। পরে সেটি ঘরে নিয়ে হাতে নিয়ে পরীক্ষা করার সময় ভেতরে থাকা হাতে তৈরি ককটেলটির বিস্ফোরণ ঘটে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে এবং বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। বিস্ফোরণের কারণ ও এর সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে।