
সংগৃহীত ছবি
ইজিবাইকে প্রচলিত সিসা-অ্যাসিড ব্যাটারির পরিবর্তে লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি ব্যবহারের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। নতুন এ প্রযুক্তির মাধ্যমে বিদ্যুতের সাশ্রয়ী ব্যবহার, পরিবেশদূষণ হ্রাস এবং চালকদের আয় বাড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টায় যশোরের সিসিটিএসের সম্মেলনকক্ষে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) যশোর জেলা শাখার দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ইজিবাইকে লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি ব্যবহার করা গেলে একবার চার্জে বেশি দূরত্ব অতিক্রম করা সম্ভব হবে। এতে চালকদের কর্মঘণ্টার কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করার পাশাপাশি আয় বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে বিদ্যুতের অপচয় কমানো এবং পরিবেশদূষণ নিয়ন্ত্রণেও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
তিনি জানান, এ প্রযুক্তির ব্যবহার সম্প্রসারণ করা গেলে একবার চার্জে একটি ইজিবাইক ৮০ থেকে ১০০ কিলোমিটার পর্যন্ত চলতে পারবে। এর ফলে চালকদের দৈনিক আয় প্রায় ২০০ টাকা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ঢাকা ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানি (ডেসকো) রাজধানীর উত্তরখানে ইজিবাইকে লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি ব্যবহারের একটি পরীক্ষামূলক প্রকল্প শুরু করেছে। এ প্রকল্পের মাধ্যমে নতুন প্রযুক্তির কার্যকারিতা ও ব্যবহারিক সুবিধা যাচাই করা হচ্ছে। পরীক্ষামূলক উদ্যোগের ফলাফল পর্যালোচনা করে পর্যায়ক্রমে এ প্রযুক্তির ব্যবহার সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।
দেশের শহর ও শহরতলির যোগাযোগব্যবস্থায় ইজিবাইকের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, স্বল্প দূরত্বে যাত্রী ও পণ্য পরিবহনে এসব যানবাহন ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। তবে ব্যাটারির কার্যক্ষমতা, চার্জ দেওয়ার খরচ ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় চালকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয়।
দেশের কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমদানি করা কয়লার পরিবর্তে দেশের ভূগর্ভে থাকা কয়লা ব্যবহারের সম্ভাবনা নিয়ে সরকার কাজ করছে। এ ক্ষেত্রে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পাশাপাশি পরিবেশ সুরক্ষাকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, দেশীয় কয়লা ব্যবহারের সম্ভাবনা যাচাই করতে উত্তোলন ব্যয়, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা, জ্বালানি নিরাপত্তা ও পরিবেশগত প্রভাব বিবেচনায় নেওয়া জরুরি। এসব বিষয় পর্যালোচনা করে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও পরিবেশ সুরক্ষার মধ্যে সমন্বয় নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খন্দকার আজিজুল হক মনি।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বাপার কেন্দ্রীয় কমিটির নগর পরিকল্পনাবিদ ইকবাল আহমেদ, যশোর জেলা পরিষদের প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন খোকন এবং জেলা বিএনপির সভাপতি সাবেরুল হক হক সাবু।