
সংগৃহীত ছবি
রাজধানীর ইসিবি চত্বরের কাছে নিউ গিনি প্রপার্টিজ লিমিটেডের প্রকল্প এলাকায় ভাঙচুর, লুটপাট ও চুরির মামলায় জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য আব্দুল গফুরের জামাতা মিজানুর রহমানসহ ছয় আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়েছে। এদের মধ্যে তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিন দিনের রিমান্ডে পাঠানো হয়েছে। বাকি তিনজনের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।
বুধবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইসমাইল এ আদেশ দেন। প্রসিকিউশন পুলিশের এসআই তারেকুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
রিমান্ডে যাওয়া তিন আসামি হলেন মামুন, মুন্না ও শাহরিয়ার মাহমুদ। কারাগারে পাঠানো হয়েছে মিজানুর রহমান, আসলাম ও শাহ আলম অনিককে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির গুলশান জোনাল টিমের ইন্সপেক্টর জেহাদ হোসেন ছয় আসামিকে আদালতে হাজির করেন। তিনি মিজানুর রহমান, আসলাম ও শাহ আলম অনিককে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। পাশাপাশি মামুন, মুন্না ও শাহরিয়ার মাহমুদের সাত দিনের রিমান্ড চাওয়া হয়।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মুহাম্মদ শামছুদ্দোহা সুমন জানান, রিমান্ডে যাওয়া তিন আসামির পক্ষে রিমান্ড বাতিল ও জামিন এবং অপর তিন আসামির জামিন চেয়ে আবেদন করা হয়েছিল। রাষ্ট্রপক্ষ এসব আবেদনের বিরোধিতা করে। শুনানি শেষে আদালত তিন আসামির তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর এবং অপর তিনজনের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার মিজানুর রহমান, আসলাম ও শাহ আলমের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছিলেন আদালত। তার আগের দিন বুধবার মামুন, মো. আসলাম ও মো. মুন্না নামে তিন আসামিকেও তিন দিনের রিমান্ডে পাঠানো হয়।
এ মামলায় গত বুধবার দুপুর পৌনে ৩টার দিকে রাজধানীর সেগুনবাগিচার একটি বাসা থেকে অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল গোলাম মহিউদ্দিন চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। পরদিন আদালত তার তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। পরে রোববার তিনি জামিন পান।
গত ২৬ সেপ্টেম্বর রাতে ইসিবি চত্বরের দক্ষিণ মানিকদীতে নিউ গিনি প্রপার্টিজের প্রকল্প এলাকায় হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। ওই আবাসন প্রকল্পে থাকা কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের ‘ব্রাউনফিশ’ স্টুডিওতেও হামলা চালানো হয়।
এ ঘটনায় নিউ গিনি প্রপার্টিজের পরিচালক সাইফুল ইসলাম ভূঁইয়া ক্যান্টনমেন্ট থানায় মামলা করেন। মামলায় অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল গোলাম মহিউদ্দিন চৌধুরীসহ ১৩ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া পরিচয়হীন আরও ১৫০ থেকে ২০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে জমির দখল-বেদখলকে কেন্দ্র করে বিরোধের বিষয়টি সামনে এসেছে। তবে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের সুনির্দিষ্ট কারণ তদন্ত শেষে নিশ্চিত হওয়া যাবে।