
সংগৃহীত ছবি
ঝিনাইদহ শহরের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকায় বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্যে জুতার মালা ঝোলানোর অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি ছবিতে ভাস্কর্যটির গলায় জুতার মালা দেখা যায়।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর মুক্তিযোদ্ধা, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ ও নিন্দার সৃষ্টি হয়। সম্প্রতি হামিদুর রহমান চত্বর ও ভাস্কর্যটি অপসারণের চেষ্টার অভিযোগ ওঠার পর নতুন করে এ ঘটনা ঘটল।
জেলা প্রশাসক নোমান হোসেন জানান, বিষয়টি জানার পর রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের পরিবারের সদস্যদের নিয়ে জরুরি বৈঠক করা হয়েছে। পুলিশকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার জন্য বলা হয়েছে। ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার আশ্বাস দেন তিনি।
ঝিনাইদহ সিপিবির সাধারণ সম্পাদক আবু তোয়াব অপু বলেন, ফেসবুকে বিষয়টি দেখে বেলা ১১টার দিকে তিনি ঘটনাস্থলে যান। সেখানে ভাস্কর্যটির গলায় জুতার মালা দেখতে পান এবং ঘটনাস্থল থেকেই জেলা প্রশাসককে বিষয়টি জানান।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সম্প্রতি ভাস্কর্যটিতে সাদা রং করা হয়েছে। সকালে তারা ভাস্কর্যটির গলায় জুতার মালা ঝোলানো অবস্থায় দেখতে পান। পরে খবর পেয়ে সেখানে স্থানীয়রা জড়ো হন।
জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা কামালুজ্জামান বলেন, খবর পেয়ে দুপুরে হামিদুর রহমান চত্বরে গিয়ে তিনি জুতার মালা দেখতে পাননি। স্থানীয় দোকানদারদের কাছ থেকে জানতে পেরেছেন, রাতে দুর্বৃত্তরা এ ঘটনা ঘটিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সভা করে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করা হবে।
বাসদের ঝিনাইদহের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট আসাদুল ইসলাম অভিযোগ করেন, একটি চক্র ভাস্কর্যটি এখানে রাখতে চায় না। তাদের কেউ রাতের আঁধারে এ ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারে বলে তিনি দাবি করেন। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাতিজা হাফিজুর রহমান ঘটনাটিকে দুঃখজনক উল্লেখ করে সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানান। তাঁর আশঙ্কা, ভাস্কর্যটি ঘিরে রাজনৈতিক পক্ষ-বিপক্ষ তৈরি হয়েছে। কেউ ভাস্কর্যটি ক্ষতিগ্রস্ত করে অন্য পক্ষের ওপর দায় চাপানোর চেষ্টা করতে পারে। এ কারণে চত্বরে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের দাবিও জানান তিনি।
২০১৯ সালের ২৬ মার্চ ঝিনাইদহ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালের প্রবেশমুখে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান চত্বর উদ্বোধন করা হয়। সেখানে হামিদুর রহমানের ভাস্কর্যের পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধকালীন বাংলাদেশের পতাকা ও মুষ্টিবদ্ধ হাতের ভাস্কর্য নির্মাণ করা হয়।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দুই দফায় ভাস্কর্যটি ভাঙচুর করা হয় বলে জানা গেছে। পরে গত ১৩ জুলাই থেকে কয়েক দিন ধরে আবারও ভাস্কর্যটি ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে। এ নিয়ে ১৬ জুলাই প্রতিবেদন প্রকাশের পর জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ভাঙচুর বন্ধ করা হয়।