
সংগৃহীত ছবি
বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী বলেছেন, বর্তমান সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের ফলে অর্থনীতি, রপ্তানি, সামাজিক সুরক্ষা ও রাষ্ট্র পরিচালনায় পরিবর্তন এসেছে। তার দাবি, সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপে ডলার ও রুপির বিপরীতে টাকা সাড়ে পাঁচ বছরের মধ্যে শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে।
তিনি বলেন, বিনিময় হার আরও স্থিতিশীল হলে বিদেশি বিনিয়োগকারী ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের আস্থা বাড়বে। একই সঙ্গে দেশের প্রতি বিদেশি ও আমদানিকারকদের ইতিবাচক মনোভাব তৈরি হবে।
সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের কারণে অপ্রচলিত বাজারে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে নতুন রেকর্ড হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের আগস্টে এসব বাজারে তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়েছে ৬৪২ দশমিক ৯৩ মিলিয়ন ডলারের, যা এক মাসে সর্বোচ্চ। যুক্তরাষ্ট্রেও বাংলাদেশি পণ্যের রপ্তানি বেড়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ব্যাংক খাতে সংস্কার ও ঋণ আদায়ে জোরদার উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন বিএফইউজে মহাসচিব। তার দাবি, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরের ৩৫ দশমিক ৭৩ শতাংশ থেকে ২০২৬ সালের জুনে খেলাপি ঋণের অনুপাত ৩২ দশমিক ৭৮ শতাংশে নেমেছে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম পাঁচ মাসে বিদেশি ঋণের আসল ও সুদ বাবদ ২০৪ কোটি ৭৬ লাখ মার্কিন ডলার পরিশোধ করেছে। তার দাবি, আগের সরকারের রেখে যাওয়া ঋণের চাপের মধ্যেও নিয়মিতভাবে এ দায় পরিশোধ করা হচ্ছে।
রাষ্ট্র পরিচালনায় পরিবর্তনের প্রসঙ্গে কাদের গনি চৌধুরী বলেন, সংসদে প্রশ্ন, পাল্টা প্রশ্ন, আলোচনা ও জবাবদিহির চর্চা ফিরে এসেছে। প্রথম অধিবেশনেই ১৩৩টি অধ্যাদেশ নিষ্পত্তির উদ্যোগকে তিনি প্রাতিষ্ঠানিক ধারায় ফেরার ইঙ্গিত হিসেবে উল্লেখ করেন।
প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহর সীমিত করা, চলাচলের সময় দীর্ঘক্ষণ সড়ক বন্ধ না রাখা, সরকারি গাড়ি কেনায় নিয়ন্ত্রণ, অপ্রয়োজনীয় বিদেশ সফর ও বৈদেশিক প্রশিক্ষণ কমানো এবং সরকারি ব্যয়ে কৃচ্ছ্রসাধনের উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর মূল বেতনের ১০ শতাংশ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে দেওয়ার সিদ্ধান্তকেও তিনি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হিসেবে উল্লেখ করেন।
সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির প্রসঙ্গে তিনি ‘ফ্যামিলি কার্ড’-এর কথা তুলে ধরেন। এ কর্মসূচির আওতায় পরীক্ষামূলকভাবে নিম্ন আয়ের নারীপ্রধান পরিবারগুলোকে মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, শুধু আর্থিক সহায়তা নয়, সামাজিক নিরাপত্তাকে আরও লক্ষ্যভিত্তিক ও প্রাতিষ্ঠানিক করার উদ্যোগ হিসেবে এ কর্মসূচিকে দেখা হচ্ছে।
কৃষকদের জন্য ‘কৃষক কার্ড’ চালু এবং ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের ঋণ ও সুদের বোঝা কমানোর উদ্যোগের কথাও উল্লেখ করেন তিনি। পাশাপাশি প্রবাসীদের জন্য ‘প্রবাসী কার্ড’, ইমাম-মুয়াজ্জিনসহ ধর্মীয় ব্যক্তিদের সম্মানী ভাতা এবং খাল খনন ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির কথাও তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, রমজান ও ঈদে কৃত্রিম সংকট ও সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করে দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল রাখা এবং শ্রমিকদের বেতন-বোনাস নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অবসরপ্রাপ্ত এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বকেয়া পরিশোধে ২ হাজার কোটি টাকা ছাড়ের বিষয়টিও তিনি উল্লেখ করেন।
শিক্ষা খাতের বিভিন্ন উদ্যোগের মধ্যে পাঠ্যক্রমে নতুন বিষয় অন্তর্ভুক্তি, মেয়েদের স্নাতক পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষা, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মিড-ডে মিল, ফ্রি ওয়াই-ফাই, শিক্ষার্থীদের সংসদে উপস্থিতির সুযোগ এবং ক্রীড়া ও উদ্ভাবনী প্রতিযোগিতার আয়োজনের কথা তুলে ধরেন তিনি।
স্বাস্থ্য খাতে ‘হেলথ কার্ড’, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ সহজলভ্য করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
পরিবেশ ও জলবায়ু বিষয়ে সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচির কথা উল্লেখ করে কাদের গনি চৌধুরী বলেন, জলবায়ু বাজেট, নবায়নযোগ্য জ্বালানি সম্প্রসারণ, নদী-খাল পুনঃখনন ও বৃক্ষরোপণের মতো উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
এ ছাড়া সংসদে বিভিন্ন অধ্যাদেশকে আইনে রূপান্তর এবং সন্ত্রাসবিরোধী সংশোধিত অধ্যাদেশের মাধ্যমে রাজনৈতিক সংগঠনের ওপর নিষেধাজ্ঞার বিষয়টিও তিনি সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের অংশ হিসেবে তুলে ধরেন।