| শিরোনাম: |
সংগৃহীত ছবি
কিশোরগঞ্জ জেলা কারাগারে থাকা অবস্থায় অসুস্থ হয়ে খাইরুল আমিন রুহুল সরকার (৫০) নামে কটিয়াদী উপজেলা কার্যক্রম নিষিদ্ধ স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মারা গেছেন।
শনিবার দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে ঢাকার জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তার বড় ভাই নুরুল আমিন।
পরিবারের অভিযোগ, কারাগারে থাকা অবস্থায় শারীরিক অবস্থার অবনতি হলেও সময়মতো প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও ওষুধ পাননি রুহুল সরকার। তবে কারা কর্তৃপক্ষের দাবি, হঠাৎ শ্বাসকষ্ট দেখা দেওয়ার পর দ্রুত তাকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছিল।
নুরুল আমিন জানান, তার ভাই আগে থেকেই মাঝেমধ্যে বুকের ব্যথায় ভুগতেন। কারাগারে থাকা অবস্থায় কয়েক দিন ধরে তিনি অসুস্থ ছিলেন। গত দুই দিনে তার শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হলেও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও ওষুধ সময়মতো পাওয়া যায়নি বলে পরিবারের অভিযোগ।
তিনি বলেন, অবস্থার অবনতি হলে শনিবার রুহুল সরকারকে কিশোরগঞ্জের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে আইনি প্রক্রিয়ায় কয়েক ঘণ্টা বিলম্ব হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় নেওয়া হলে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
পুলিশ ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, গত ৮ সেপ্টেম্বর কটিয়াদী মডেল থানার পুলিশ রুহুল সরকারকে গ্রেপ্তার করে। পরে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলায় আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
কিশোরগঞ্জ জেলা কারাগারের ডেপুটি জেলার সেলিনা আক্তার রেখা বলেন, হঠাৎ শ্বাসকষ্ট দেখা দেওয়ায় রুহুল সরকারকে প্রথমে শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে পুলিশি ব্যবস্থাপনায় তাকে ঢাকার হাসপাতালে নেওয়া হয়।
তিনি জানান, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে পরে রুহুল সরকারকে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
পরিবারের পক্ষ থেকে আগে থেকেই অসুস্থ থাকার যে দাবি করা হয়েছে, সে বিষয়ে ডেপুটি জেলার সেলিনা আক্তার রেখা বলেন, কারা কর্তৃপক্ষকে আগে থেকে তার অসুস্থতার বিষয়ে জানানো হয়নি। মৃত্যুর আগে হঠাৎ তার শ্বাসকষ্ট তীব্র আকার ধারণ করলে প্রায় ১০ মিনিটের মধ্যেই তাকে হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়।