
দিনাজপুরের পার্বতীপুরের হামিদপুর ইউপিতে অধিগ্রহণকৃত মাইনিং এলাকার ফুলবাড়ী হতে খয়েরপুকুর সংযোগ সড়কের ক্ষতিগ্রস্ত অংশের বিকল্প সংযোগ সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের একটি গুরুত্বপূর্ণ পাকা রাস্তা নির্মাণ কাজে ঠিকাদারের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম-দুর্নীতির সত্যতা মিলেছে। অভিযোগ ওঠার পরেও দৃশ্যমান কোন ব্যবস্থা নেয়নি পার্বতীপুর এলজিইডি'র উপজেলা প্রকৌশলী মানিক মিয়া।
অফিস সূত্রে জানা গেছে, দিনাজপুর এলজিইডি'র অর্থায়নে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স কোহিনুর এন্টারপ্রাইজ দাদপুর/লজ কাউনিয়া-প্রথম লেন বরিশাল। এই ঠিকেদারী প্রতিষ্ঠান কাজটি তারা নিজেরাই না করে গাইবান্ধার নোজেল চেয়ারম্যানকে সাব কন্টাক্ট দিয়েছে।
এ বিষয়ে রাস্তাটির সাব কন্টাক্টরের সাথে মুঠোফোনে কথা বলেও তার কোন বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
মুঠোফোনে এলজিইডি'র পার্বতীপুর উপজেলা প্রকৌশলী মানিক মিয়ার নিকট রাস্তার অনিয়মের তথ্য চাইলে তিনি তথ্য দিতে গড়িমসি করেন। শেষমেষ মুঠোফোনে এলজিইডি'র নির্বাহী প্রকৌশলীর শরণাপন্ন হলে তবেই তথ্য দিতে বাধ্য হন উপজেলা প্রকৌশলী মানিক মিয়া।
ইতিপূর্বে গত বৃহস্পতিবার (১৭ই সেপ্টেম্বর) অনিয়ম নিয়ে সরাসরি তার দপ্তরে গেলে তিনি বলেন,স্থানীয়দের অভিযোগ ও গণমাধ্যমে লেখালেখির কারণে সরেজমিনে গিয়ে নিম্নমানের খোয়া সরিয়ে এক নম্বর ইটের খোয়া বিছানো হয়েছে। এসময় তিনি আশ্বস্ত করেন, এখন ওই রাস্তার কাজ ভালো খোয়া দিয়ে করা হচ্ছে। অথচ ১৯ সেপ্টেম্বর (শনিবার) সরেজমিনে গিয়ে উপজেলা প্রকৌশলী মানিক মিয়ার কথার সাথে বাস্তবতার কোন মিল পাওয়া যায়নি।
পার্বতীপুর এলজিইডি'র উপজেলা প্রকৌশলীর এই নীরবতার সুযোগে কাজ বন্ধ না করে আরো বড় পরিসরে অনিয়মের আশ্রয় নিয়ে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানটি।এতে ক্ষুদ্ধ স্থানীয় বাসিন্দারা ফুঁসে উঠছেন।তারা জরুরী ভিত্তিতে এই অনিয়মের নিরপেক্ষ তদন্ত ও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থার নেয়ারো দাবি জানিয়েছেন।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, বৈদ্যনাথপুর থেকে বৈগ্রাম পর্যন্ত রাস্তাটিতে নিম্নমানের খোয়া বিছিয়ে রাস্তা পাকা করনের কাজটি চলছে।
এদিকে শুরু থেকেই এ কাজে সরকারি নকশা ও মানদন্ড অমান্য করে নানা অনিয়মের আশ্রয় নেয়া হচ্ছিল। এই অনিয়ম-দুর্নীতির বিরুদ্ধে এলাকাবাসী এক হয়ে কাজটি বন্ধ করে দেয়। পরবর্তীতে পার্বতীপুর উপজেলা প্রকৌশলীর আশ্বাসে কাজ ৪দিন বন্ধ থাকার পর পুনরায় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কাজটি শুরু করেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ তারা সংশোধন হওয়া তো দূরের কথা-উল্টো এলজিইডি দপ্তরের উদাসীনতা কে পুঁজি করে পুনরায় পূর্বের চেয়েও বেশি অনিয়মের মাধ্যমে তড়িঘড়ি করে রাস্তার কাজ শেষ করার চেষ্টা চলছে।কাজটি এভাবেই শেষ করা হলে রাস্তাটি বেশি দিন টিকবে না বলেও মন্তব্য করেন তারা। কাজটির প্রাক্কলিত মূল্য ধরা হয়েছে ২ কোটি ৬৩ লক্ষ ৫২ হাজার টাকা। চুক্তিমূল্য ধরা হয়েছে ২ কোটি ৪৪ লক্ষ ২৩ হাজার টাকা। ইতিমধ্যেই কাজটির প্রথম ধাপের সমাপ্তির সময়সীমা পেরিয়ে গেছে।কাজটির সর্বমোট দৈর্ঘ্য ১৮০০ মিটার।
সড়কের (ডব্লিউবিএম) স্তরে অত্যন্ত নিম্নমানের অর্থাৎ সালটি ও তিন নম্বর ইটের খোয়া ব্যবহার করা হচ্ছে।এছাড়াও সাব-বেজে খোয়ার তুলনায় অতিরিক্ত বালু মিশিয়ে দায়সারা ভাবে কাজ করা হয়েছে। সড়কের পাশে প্রয়োজনীয় সোল্ডার (মাটি ভরাট) ১ মিটার করার নিয়ম থাকলেও সেখানে মাত্র ছয় ইঞ্চি থেকে দেড় ফুট ভরাট করা হয়েছে এবং নির্ধারিত স্লোব বা ঢালও যথাযথভাবে রাখা হয়নি।
কাজটি দেখভালের দায়িত্বে থাকা এলজিইডি'র উপজেলা উপ-সহকারী প্রকৌশলী মাজহারুল ইসলাম এর সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি জানান, আমি প্রতিনিয়তও সাইটে যাচ্ছি- দেখাশোনা করছি-কাজ ভালো হচ্ছে।
এলাকাবাসী জানান, এই পুরো নির্মাণ কাজ দেখভালের দায়িত্বে থাকা উপজেলা উপ-সহকারী প্রকৌশলী মাজহারুল ইসলাম এর
চরম তদারকির ঘাটতি এবং রহস্যজনক নীরবতার কারণেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সাব কন্টাকটার এভাবে নয়- ছয় করার সাহস পাচ্ছে। এই এলাকার মানুষের বহুল কাঙ্ক্ষিত রাস্তাটির অনিয়ম সংক্রান্তে ইতোমধ্যেই জনমনে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা আরো ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এভাবে চলতে থাকলে প্রয়োজনে আবারও আমরা কাজ বন্ধ করে দেব। আমরাই তো ইতোপূর্বে কাজ বন্ধ করেছিলাম ভালো কাজের আশায়।কিন্তু কোন ব্যবস্থা নেওয়া তো হলোই না! উল্টো চোখের সামনে আরো খারাপ ভাবে কাজগুলো করা হচ্ছে। আমরা এই প্রহসন মানবো না। তারা অবিলম্বে এই নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী অপসারণ করা সহ কাজ স্থগিত করা এবং সরকারি মানদণ্ড অনুযায়ী নতুন করে সড়ক নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন। একই সাথে এই অনিয়ম-দুর্নীতির সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান।