| শিরোনাম: |
সংগৃহীত ছবি
ইউএনজিএ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভাষণ: সুশীল সমাজ ও সাধারণ মানুষের প্রশংসা
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দেওয়া প্রথম ভাষণটি দেশীয় সুশীল সমাজের প্রতিনিধি থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়েছে। ১৭ মিনিটের এই বাংলা ভাষণে তিনি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক পুনর্গঠন, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা এবং বৈশ্বিক শান্তি ও সহযোগিতায় দেশের ভূমিকা নিয়ে একটি সুনির্দিষ্ট ও বিস্তৃত পথরেখা তুলে ধরেন।
অর্থনীতি ও 'থ্রি-আর' কৌশলবিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক জাতীয় অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ বলেন, দেড় দশকের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক শোষণে ভেঙে পড়া দেশ পুনর্গঠনে প্রধানমন্ত্রী আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে সরকারের ‘থ্রি-আর’ (রিকভারি, রেস্টোরেশন ও রিকনস্ট্রাকশন) কৌশল উপস্থাপন করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, এটি কোনো বিদেশি সহায়তানির্ভর কৌশল নয়, বরং ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতির ওপর ভিত্তি করে নিজের দায়িত্বশীলতার ওপর জোর দেওয়ার প্রয়াস। তবে ঋণ পরিশোধের চাপ ও মূল্যস্ফীতি সামলে উন্নয়ন অর্থায়নে কর-জিডিপি অনুপাত আরও ৩ শতাংশীয় পয়েন্ট বাড়ানো এবং ব্যাংকিং খাতের সংস্কার প্রয়োজন বলে তিনি মত দেন।
রোহিঙ্গা সংকট ও আঞ্চলিক নিরাপত্তাভাষণে রোহিঙ্গা সংকটের স্পষ্ট উপস্থাপনাকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন ড. মাহবুব উল্লাহ, অধ্যাপক ড. মো. নুরুল আমিন বেপারী এবং ড. কাজী মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান। বিশেষজ্ঞরা বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানে মিয়ানমারকেই প্রধান ভূমিকা রাখতে হবে। অতীতের নানা আশ্বাস সত্ত্বেও কার্যকর সমাধান না আসায় এটি এখন একটি বড় নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পরিণত হয়েছে। জাতিসংঘে এই বিষয়টি জোরালোভাবে তোলার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের অবস্থান অত্যন্ত স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।
বিশ্বশান্তি, ফিলিস্তিন ও রাজনৈতিক বার্তাদৈনিক ‘প্রতিদিনের বাংলাদেশ’-এর সম্পাদক মারুফ কামাল খান প্রধানমন্ত্রীর ভাষণকে বিশ্বশান্তির আকাঙ্ক্ষার জোরালো প্রকাশ হিসেবে অভিহিত করেন। প্রধানমন্ত্রীর উক্তি—“ঘাতক অস্ত্র নয়, পৃথিবী বদলাবে মানবতায়”—উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, এটি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক উত্তরাধিকারেরই প্রতিফলন। এছাড়া, স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের প্রতি সমর্থন, পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ, জলবায়ু পরিবর্তন, নারী শিক্ষা ও ক্ষমতায়ন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দায়িত্বশীল ব্যবহারের প্রতি আহ্বান বিশ্বমঞ্চে প্রশংসিত হয়েছে।
গণতন্ত্র ও পরিবারের ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতাপ্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ জানান, প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে জুলাই আন্দোলন এবং গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্র ও আইনের শাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠার বিষয়টি বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরেছেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন, ১৯৮০ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং ১৯৯৩ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার পর জিয়া পরিবারের সদস্য হিসেবে জাতিসংঘে বাংলায় দেওয়া এটি তৃতীয় ভাষণ, যা বৈশ্বিক প্রতিনিধিত্বে এই পরিবারের ঐতিহাসিক সম্পৃক্ততাকে স্মরণ করিয়ে দেয়।
জনমত ও তরুণদের উচ্ছ্বাসজাতিসংঘে বাংলায় বক্তব্য প্রদান করায় দেশের সাধারণ মানুষ ও তরুণ সমাজ গর্ব প্রকাশ করেছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তামজিদ বলেন, এ ভাষণটি তাঁদের তরুণ প্রজন্মের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটিয়েছে। রাজধানীর সাধারণ ব্যবসায়ী ও পথচারীরাও দেশের মর্যাদা, অর্থনৈতিক পুনর্গঠন এবং রোহিঙ্গা সংকটের সঠিক উপস্থাপনকে সাধুবাদ জানিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রীর এই ভাষণ সামরিক শক্তির পরিবর্তে কূটনৈতিক সংলাপের গুরুত্ব ফুটিয়ে তোলার পাশাপাশি দেশি-বিদেশি বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি এবং প্রতিবেশীদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে যেকোনো সমস্যা সমাধানের এক ইতিবাচক অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে।