
ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় গত এক বছরে দৃশ্যমান পরিবর্তন এসেছে। বিশেষ করে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর তত্ত্বাবধানে দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান ঢাকা প্যাসিফিক লিমিটেড দক্ষতা, পরিকল্পনা ও আন্তরিকতার মাধ্যমে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোর পরিচ্ছন্নতা রক্ষায় প্রশংসনীয় ভূমিকা রেখে চলেছে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম সংকটের মুখে পড়লে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার জরুরি ভিত্তিতে ডেলিগেটেড মেথডে বাংলাদেশ নৌবাহিনীকে এই কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্ব প্রদান করে। পরবর্তীতে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর অধীনে ঢাকা প্যাসিফিক লিমিটেডসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব গ্রহণ করে।
প্রথম পর্যায়ে ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি ১৩টি ওয়ার্ডে ছয় মাসের জন্য দায়িত্ব পেয়ে ঢাকা প্যাসিফিক লিমিটেড সফলভাবে বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম পরিচালনা করে। তাদের কার্যক্রমে সন্তুষ্ট হয়ে দ্বিতীয় পর্যায়ে আরও বৃহৎ পরিসরে দায়িত্ব প্রদান করা হয়। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি ঢাকা উত্তর সিটির ২০টি ওয়ার্ডে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
বনানী, গুলশান, বারিধারা, মহাখালী, তেজগাঁও, উত্তরা, উত্তরখান ও দক্ষিণখানের মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে প্রতিদিন নিয়মিত বর্জ্য অপসারণ, পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিতকরণ এবং সেবার মানোন্নয়নে প্রতিষ্ঠানটির কর্মীরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সিআই, এসিডব্লিউএমও ও নগর ভবনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সার্বিক তদারকি ও সহযোগিতায় ঢাকা প্যাসিফিক লিমিটেডের কার্যক্রম আরও গতিশীল হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, বর্তমান সময়ে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় অধিক সুশৃঙ্খল ও কার্যকরভাবে পরিচালিত হচ্ছে।
বর্তমান প্রশাসক দায়িত্ব নেবার পর থেকে তার নেতৃত্বে ডিএনসিসির বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় এসেছে নতুন গতি। গত ৮ জুন ২০২৬ তারিখে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী দুই শিফটে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম পরিচালনার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে ঢাকা প্যাসিফিক লিমিটেড পরদিন থেকেই নিজস্ব উদ্যোগে অতিরিক্ত জনবল নিয়োগ করে দ্বিতীয় শিফটের কার্যক্রম শুরু করে, যা তাদের দায়িত্বশীলতা ও সেবার প্রতি অঙ্গীকারের প্রতিফলন।
এছাড়া ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষে প্রতি বছরের মতো ডিএনসিসির ৭২ ঘণ্টার বিশেষ কোরবানির বর্জ্য অপসারণ অভিযানেও ঠিকাদারদের কার্যক্রম নিবিড়ভাবে তদারকি করা হয়। রাজধানীকে পরিচ্ছন্ন রাখতে সংশ্লিষ্ট সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টা নগরবাসীর কাছে ইতোমধ্যেই প্রশংসিত হয়েছে।
সার্বিকভাবে বলা যায়, বাংলাদেশ নৌবাহিনীর নির্দেশনা ও ডিএনসিসি প্রশাসনের সহযোগিতায় ঢাকা প্যাসিফিক লিমিটেড রাজধানীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা, সময়ানুবর্তিতা ও সেবার মানের একটি ইতিবাচক উদাহরণ তৈরি করেছে।