প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৯ জুন, ২০২৬, ৬:২৯ পিএম (ভিজিট : ৮৬)

কক্সবাজারের চকরিয়ায় একটি বাড়িতে সংঘটিত দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনায় মা ও তার মেয়েকে সঙ্ঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় পুলিশ স্থানীয়দের সহযোগিতায় অভিযান চালিয়ে ৬ জনকে আটক করেছে।
সোমবার (৮ জুন) রাত আনুমানিক আড়াইটা থেকে তিনটার মধ্যে এ ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ৮ থেকে ১০ জনের একটি সশস্ত্র ডাকাতদল বাড়ির জানালার গ্রিল কেটে ভেতরে প্রবেশ করে। তারা নগদ টাকা, স্বর্ণালংকারসহ মূল্যবান মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। একপর্যায়ে বাড়িতে অবস্থানরত এক নারী ও তার স্কুলছাত্রী কন্যাকে সঙ্ঘবদ্ধ ধর্ষণ করে পালিয়ে যায়।
ঘটনার পর এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে মাতামুহুরি তদন্ত কেন্দ্র ও চকরিয়া থানা পুলিশের একাধিক দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করে। পরে গুরুতর আহত ও রক্তাক্ত অবস্থায় মা ও মেয়েকে উদ্ধার করে প্রথমে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে তাদের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
ভুক্তভোগী শিশুর মামা সাইদুল ইসলাম মারুফ জানান, তার ভাগ্নির অবস্থা আশঙ্কাজনক। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে চিকিৎসকরা নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখে চিকিৎসা দিচ্ছেন।
এদিকে ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় জনতা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে। মঙ্গলবার ভোর থেকে সকাল পর্যন্ত পরিচালিত অভিযানে ৬ জনকে আটক করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
মাতামুহুরি তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং ঘটনার বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।
মাতামুহুরী তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ মোহাম্মদ মাসুদ ডাকাতি ও ধর্ষণের ঘটনা সঠিক বলে জানিয়েছেন।
চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনির হোসেন মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত এ ঘটনায় ৬ জনকে আটকের তথ্য নিশ্চিত করেছেন। অধিকতর তদন্তে তিনি ঘটনাস্থলে রয়েছেন বলে জানিয়েছেন।
ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত অপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।