প্রকাশ: রোববার, ৭ জুন, ২০২৬, ১২:৪৭ পিএম (ভিজিট : ৫৫)

বাংলাদেশের উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলীয় সীমান্ত এলাকাগুলোতে হঠাৎ করেই ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বা বিএসএফ কর্তৃক ‘পুশ ইন’ বা জোরপূর্বক মানুষ ঠেলে পাঠানোর তৎপরতা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। গত কয়েক দিনে চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ, মেহেরপুর এবং পঞ্চগড় সীমান্ত দিয়ে নারী, শিশুসহ শতাধিক বাংলাদেশে পাঠানোর অপচেষ্টা চালিয়েছে বিএসএফ।
গতকাল শনিবারও মেহেরপুরের সীমান্ত দিয়ে পুশ ইনের চেষ্টা করা হয়েছে। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) কঠোর অবস্থান এবং স্থানীয় গ্রামবাসীর সজাগ পাহারার মুখে এই অপচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। তবে মেহেরপুর সীমান্ত দিয়ে অন্তত সাতজন বাংলাদেশে ঢুকে পড়ার খবরও পাওয়া গেছে। অন্যদিকে পঞ্চগড় সীমান্তে ১০ জন মানুষ গত ৩২ ঘণ্টা ধরে খোলা আকাশের নিচে রোদ-বৃষ্টিতে ভিজে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন।
অন্যদিকে কয়েকটি এলাকায় পুশ ইনের জন্য জড়ো করা ব্যক্তিদের বিএসএফ ফিরিয়ে নিয়েছে বলে জানা গেছে। এ ছাড়া সিলেট সীমান্তের গোয়াইনঘাট এলাকায় পুশ ইন ঠেকাতে সতর্কতামূলক মাইকিং করেছে বিজিবি।
গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় বিজিবি সদর দপ্তর জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন সীমান্তে বিএসএফ কর্তৃক অবৈধভাবে পুশ ইনের আটটি পৃথক অপচেষ্টা সফলভাবে প্রতিহত করেছে বিজিবি। এসব এলাকা দিয়ে ৭৯ জনকে পুশ ইন করার অপচেষ্টা হচ্ছিল।
এর মধ্যে ঝিনাইদহের মহেশপুরের যাদবপুর সীমান্তে তিনজন, নওগাঁর করমুডাঙ্গা সীমান্ত এলাকায় ১৭ জন, তিস্তা ব্যাটালিয়নের (৬১ বিজিবি) দায়িত্বপূর্ণ বড়খাতা ও পঁয়ষট্টিবাড়ী এলাকায় ২১ জন, লালমনিরহাট ব্যাটালিয়নের (১৫ বিজিবি) দিঘলটারী সীমান্ত এলাকায় সাতজন ও দুর্গাপুর সীমান্ত এলাকায় চারজন, পঞ্চগড়ের বড়বাড়ী প্রধানপাড়া সীমান্ত এলাকায় ১০ জন, নেত্রকোনা ব্যাটালিয়নের (৩১ বিজিবি) কচুগড়া সীমান্তে ১৬-১৭ জনকে পুশ ইনের চেষ্টা করা হয়।
বিজিবি বলেছে, ‘আন্তর্জাতিক সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, বিদ্যমান আইন এবং বাংলাদেশ-ভারত দ্বিপক্ষীয় সমঝোতার পরিপন্থী কোনো ধরনের পুশ ইন প্রচেষ্টা গ্রহণযোগ্য নয়। সীমান্ত দিয়ে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। দেশের সার্বভৌমত্ব ও সীমান্ত নিরাপত্তা রক্ষায় বিজিবি সর্বদা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ এবং যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবেলায় সম্পূর্ণ প্রস্তুত।’ অন্য এক তথ্যে আনসার-ভিডিপি জানায়, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে গত শুক্রবার থেকে বিজিবির সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আনসার-ভিডিপি সদস্যরা।