প্রকাশ: রোববার, ৭ জুন, ২০২৬, ১:৪১ এএম (ভিজিট : ৫৪)

আমের রাজধানী চাঁপাইনবাবগঞ্জ। জেলায় প্রায় তিন শতাধিক জাতের আআম রয়েছে। জেলায় এমন কোন বাড়ি নেয় যেখানে দশটি ভালো জজাতের আমের ১০টি আমগাছ নেই, অর্থাৎ বাড়ি সংলগ্ন জায়গায় সুমিষ্ট জাতের আম গাছ রয়েছে। জেলার অর্থনিতির প্রধান চালিকা আম ফসল। চাঁপাইনবাবগঞ্জের আমের বাজার দেশে ও বিদেশে সমাদৃত। চলতি বছর চাঁপাইনবাবগঞ্জের আম আবারও পৌঁছাতে শুরু করেছে আন্তর্জাতিক বাজারে। চলতি মৌসুমে জেলার প্রথম আম রপ্তানির চালান হিসেবে দুই টন খিরসাপাত ও ব্যানানা ম্যাংগো ইতালিতে পাঠানো হয়েছে। শুক্রবার (৫ জুন) বিকেলে আনুষ্ঠানিকভাবে এ রপ্তানি কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়।
জানা গেছে, শিবগঞ্জ উপজেলার চককীর্তি ইউনিয়নের চাত্রা গ্রামের আমচাষি শামীম রেজা জানান চলতি বছর খিরসাপাত, গোপালভোগ ও ব্যানানা জাতের আম রয়েছে এ চালানটিতে যা ইতালিতে রপ্তানি করছেন। তার বাগানে প্রায় ৫০ টন রপ্তানিযোগ্য আম উৎপাদিত হলেও বিদেশি বাজারের সীমাবদ্ধতার কারণে সব আম রপ্তানি করা সম্ভব হয় না। ফলে কাঙ্ক্ষিত লাভ থেকে বঞ্চিত হতে হয় বলে জানান তিনি।
আমচাষি শামীম রেজা সোহাগ বলেন, ২০২২ সাল থেকে তিনি আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে রপ্তানিযোগ্য আম উৎপাদন শুরু করেন। ২০২৩ সালে প্রথমবারের মতো ১২ টন আম বিদেশে পাঠান। এরপর ২০২৫ সালে বিভিন্ন দেশে মোট ৩৫ টন আম রপ্তানি করতে সক্ষম হন। চলতি মৌসুমে দুই টন আম ইতালিতে পাঠানোর মধ্য দিয়ে নতুন মৌসুমের রপ্তানি কার্যক্রম শুরু হলো।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. ইয়াসিন আলি বলেন, নিরাপদ ও মানসম্মত আম উৎপাদনের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাজার সম্প্রসারণে কাজ করছে কৃষি বিভাগ। ইউরোপসহ বিভিন্ন দেশে চাঁপাইনবাবগঞ্জের আমের চাহিদা ক্রমেই বাড়ছে, যা স্থানীয় কৃষকদের জন্য ইতিবাচক বার্তা বহন করছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর জেলায় ৩৭ হাজার ৪৮৭ হেক্টর জমিতে আমের চাষ হয়েছে। এ মৌসুমে প্রায় ৪ লাখ ৫৮ হাজার ৯১২ মেট্রিক টন আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।