
যশোরের ঝিকরগাছায় বিদেশে পাঠানোর নামে একাধিক ব্যক্তির কাছ থেকে প্রতারণামূলক ভাবে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে প্রতারক খন্দকার হামিদূর রশিদ সোহেল-সেতু দম্পতির বিরুদ্ধে। মোটা অংকের অর্থ প্রতারণার শিকার পরিবারগুলো দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।পথে বসার উপক্রম হয়েছে অনেকের পরিবার। সংবাদ সম্মেলনে এমনটাই দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা।
শনিবার (০৬জুন)বিকালে ঝিকরগাছা প্রেসক্লাব কার্যালয়ে প্রতারণার শিকার ভুক্তভোগীরা এ ব্যাপারে প্রশাসনের কাছে প্রতিকার দাবি করে এক সংবাদ সম্মেলন করেছেন। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন, আনিসুর রহমান।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়, খন্দকার হামিদুর রশিদ সোহেল, পিং খন্দকার শরিফুল ইসলাম,সাং উড়ানী (মধ্যপল্লী)থানা ও জেলা নড়াইল ও তার স্ত্রী আফরোজা আক্তার সেতু উভয় ধূর্ত প্রতারক ও অর্থ আত্মসাতকারী।
উল্লেখিত ব্যক্তি ও তার স্ত্রী আফরোজা আক্তার সেতু বিভিন্ন সময়ে ও তারিখে আমাদের সাথে সশরীরে এবং বিভিন্ন মাধ্যমে যোগাযোগ পূর্বক বিদেশে উচ্চ বেতনে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে নানাভাবে প্রলুদ্ধ করতে থাকেন। কানাডায় তার মা'সহ নিকট আত্মীয়-স্বজন দীর্ঘদিন আছেন এবং তারা সে দেশের স্থায়ী নাগরিক। এ কারণে কানাডায় লোক পাঠানো তাদের জন্য কোন ব্যাপার না। এমন প্রস্তাবে আমাদের প্রত্যেকের কাছ থেকে জনপ্রতি ১৫/১৬ লাখ টাকা করে হাতিয়া নেয়া হয়। এ পর্যায়ে আমরা কানাডা যাওয়ার প্রত্যাশায় তার চটকদার কথার প্রতি সরল বিশ্বাসে নগদ ও তার ব্যাংক হিসাব (নং ১৬৩১০১০০৭৮৫৭৬)ডাচ বাংলা ব্যাংক যশোর ও ঝিকরগাছা শাখার হিসাবের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ টাকা দেই। অতঃপর আমাদের ৫জনসহ কয়েকজনকে পাসপোর্ট,কানাডার ভিসা ও মেডিকেল রিপোর্ট প্রস্তুত করত: আরো অতিরিক্ত টাকা হাতিয়া নেই। শুধু তাই নয়, ঢাকাস্থ কানাডিয়ান দূতাবাসে ব্যাংক সলভেন্সি দেখাতে প্রত্যেককে তিনটি করে নিজ একাউন্টের ব্ল্যাংক চেক জমা দিতে হবে বলে স্বাক্ষরিত চেকের পাতা হাতিয়ে নেন।
লিখিত বক্তব্যে আরও উল্লেখ করা হয়,উক্ত ব্যক্তি ও তার স্ত্রী কানাডার যে ভিসার কাগজপত্র তাদের দিয়েছেন তা সম্পূর্ণ ভুয়া ও জালজালিয়াতিমূলক। শুধু তাই নয়, তৈরিকৃত (রেডিমেড) বস্ত্র ব্যবসার নামে মোটা অংকের লাভের প্রলোভন দেখিয়ে রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংকের কোটি টাকার ভুয়া ব্যাংক চালানোর মাধ্যমে প্রতারণামূলক ও ছলচাতুরির আশ্রয় নিয়ে হাতিয়ে নিয়েছেন বিপুল পরিমাণ টাকা।
জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়, প্রতারণার বিষয়টি জানাজানি হওয়ার এক পর্যায়ে প্রতারক খন্দকার হামিদুর রশিদ প্রথমে গাঢাকা দেন। এ পর্যায়ে আমরা তার প্রকৃত ঠিকানায় গিয়ে তার নিকট আমাদের প্রদত্ত টাকা ফেরত চাইলে তিনি নানা অজুহাত,টালবাহানা ও ছলচাতুরির আশ্রয় নেন। এমতাবস্থায় আমরা তাকে দেওয়া আমাদের পাওনা টাকা ফেরত পেতে সশরীরে ও তার আত্মীয়-স্বজনকে বহুবার অবহিতপূর্বক অনুনয়,বিনয়,আবেদন নিবেদন করি। কিন্তু তার মন গলেনি। আমাদের টাকা ফেরত দিতে সে কেবল অস্বীকারই করিনি উল্টো ব্যবসার নামে আগাম নেয়া কয়েকটি চেক ডিজনার দেখিয়ে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর চেষ্টা করেছে। তার এসব অভিনব প্রতারণায় আমরা হয়রানি,দিশেহারা ও অনন্যোপায় হয়ে পড়েছি। অতঃপর আমাদের প্রাপ্য টাকা ফেরত পাওয়ার ব্যাপারে বিভিন্ন সময়ে সামাজিক বিচারসহ বিভিন্নভাবে দেনদরবার করে আসছি। কিন্তু,অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় এই যে,অদ্যবধি আমাদের পাওনা টাকা ফেরত পাইনি। উপরন্ত আমাদের পাওনা টাকা চাইতে গেলে প্রতারক খন্দকার হামিদুর রশিদ আমাদেরকে খুন জখমের হুমকি দিয়ে আসছেন। এমতাবস্থায় আমরা আমাদের প্রাপ্য টাকা ফেরত পাওয়ার ব্যাপারে অনিশ্চয়তার পাশাপাশি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।
উপস্থিত সম্মানিত সাংবাদিকবৃন্দ,আপনাদের অবগতির জন্য এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, আমরা যারা কানাডায় যাওয়ার জন্য আর্থিকভাবে প্রতারিত হয়েছি সে ব্যাপারটি কেউ কারো জানা ছিল না। প্রতারক সুচতুর খন্দকার হামিদুর রশিদ ও তার স্ত্রী অত্যন্ত সুকৌশলে একে অপরের তথ্য গোপন করে পর্যায়ক্রমে প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নেন প্রায় ২কোটি ৩০লাখ টাকা। যা পরে জানাজানি হয়। প্রতারিতদের মধ্যে উপজেলার পুরন্দরপুর গ্রামের হাফিজুর রহমানের ছেলে মোঃ সুমন হোসেন ১৪লাখ ২৫হাজার টাকা, মল্লিকপুর গ্রামে আব্দুল আজিজের ছেলে মোঃ সাগর হোসেনের কাছ থেকে ৫লাখ ৮০হাজার টাকা, হাজের আলী গ্রামের মোহাম্মদ আকবর আলী সরদারের ছেলে রফিকুল ইসলামের কাছ থেকে ১২লাখ ৪৫হাজার টাকা, আবুবক্কার গাজীর ছেলে মোঃ আরমান হোসেন এর কাছ থেকে ৫লাখ ও পুরন্দরপুর পারবাজার এলাকার মৃত খন্দকার হাফিজুর রহমানের ছেলে আনিসুর রহমানের কাছ থেকে সাড়ে ১৬লাখ টাকা হাতিয়ে নেন। এদের মধ্যে সাগর, সুমন ও রফিকুলের কাছ থেকে পৃথক তিনটি করে ব্ল্যাংক চেক নেয়া হয়।এ ব্যাপারে ঝিকরগাছা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়। যার নং ৪৪৬তাং ১১/০৫/২৬ ইং।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে দাবি করা হয়, অনেকেই বিদেশ যাওয়া সংক্রান্তে উভয় পক্ষের মধ্যে শর্তসাপেক্ষে নন জুডিশিয়াল স্টাম্পে চুক্তিনামা যা নোটারি পাবলিক (যশোর) কার্যালয়ের মাধ্যমে এফিডেভিট করা আছে। তাছাড়া ডাচ বাংলা ব্যাংকে তার দেয়া সঞ্চয়ী হিসাব নাম্বারে টাকা জমা প্রদানের মানি রিসিটসহ অন্যান্য তথ্যপ্রমাণাদি সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরা হয়। এ ব্যাপারে অভিযুক্ত হামিদুর রশিদের সাথে তার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার সংযোগ পাওয়া যায়নি।