| শিরোনাম: |

রাজধানীর অভিজাত এলাকা গুলশানের বাসিন্দা নাসরিন আক্তার মৌ (৪৬), সহ- সভাপতি গুলশান থানা যুব মহিলা লীগ,ঢাকা মহানগর উত্তর এর বিরুদ্ধে প্রায় ২৫০০ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন, অর্থপাচার, প্রতারণা, ভূমিদস্যুতা, অস্ত্র ও মাদক ব্যবসাসহ নানা গুরুতর অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সংশ্ল্লিষ্ট দপ্তরে বিস্তারিত লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে বলে একাধিক সূত্রে জানা গেছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, নাসরিন আক্তার মৌয়ের দৃশ্যমান কোনো বৈধ আয়ের উৎস না থাকলেও তিনি ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে-বেনামে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিপুল পরিমাণ স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের মালিক হয়েছেন। অভিযোগে বলা হয়, অতীতে বিভিন্ন গার্মেন্টস ও কসমেটিক প্রতিষ্ঠানে চাকরির আড়ালে প্রভাবশালী মহল ও প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সখ্য গড়ে তুলে প্রতারণা, দালালি ও তদবির বাণিজ্যের মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জন করেন তিনি।

লিখিত অভিযোগে দাবি করা হয়েছে, ১/১১-এর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় থেকে শুরু করে বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক ব্যক্তি, ব্যবসায়ী ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের নাম ব্যবহার করে বিদেশে লোক পাঠানো, সরকারি দপ্তরে কাজ পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস, মামলা থেকে রেহাই দেওয়ার প্রতিশ্রুতি এবং জমি ক্রয়-বিক্রয়ের নামে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে।
এছাড়াও তার বিরুদ্ধে ভয়ভীতি দেখিয়ে জমি দখল, জালিয়াতির মাধ্যমে ভুয়া দলিল সৃষ্টি, মধুচক্র পরিচালনা এবং অস্ত্র ও মাদক ব্যবসার মতো ভয়াবহ অভিযোগও আনা হয়েছে। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, গুলশান, বনানী, বারিধারা, উত্তরা, বসুন্ধরা, ধানমন্ডি, পূর্বাচলসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় তার ও তার স্বজনদের নামে শতাধিক প্লট, ফ্ল্যাট, মার্কেট ও বাণিজ্যিক সম্পত্তির সন্ধান পাওয়া গেছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব ও ভল্টে কোটি কোটি টাকা, স্বর্ণালঙ্কার ও ডায়মন্ড গচ্ছিত রয়েছে। একইসঙ্গে দুবাই, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচারের অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে। সব মিলিয়ে এসব সম্পদের পরিমাণ প্রায় ২৫০০ কোটি টাকার বেশি বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন অভিযোগকারীরা।
তবে এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে নাসরিন আক্তার মৌয়ের ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
ঘটনার আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য নিয়ে প্রকাশিত হবে দ্বিতীয় পর্ব। চোখ রাখুন ‘ভোরের পাতা’-য়।