
সংগৃহীত ছবি
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন ইশরাক হোসেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিছু মানুষকে তাঁর পদত্যাগের খবর নিয়ে উল্লাস প্রকাশ করতে দেখেছেন। ভবিষ্যতে আন্দোলন-সংগ্রামের প্রয়োজন হলে তাঁরা যেন জাতীয়তাবাদী আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে বিদেশ থেকে দেশে এসে সেই আন্দোলনে যোগ দেন, এমন প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন তিনি।
ইশরাক লেখেন, ‘এবার সংসদ সদস্য বা প্রতিমন্ত্রী হিসেবে নয়, একজন বিএনপির কর্মী হিসেবে মাদকের বিরুদ্ধে শতগুণ বেশি উদ্দীপনা নিয়ে কাজ করব, ইনশাআল্লাহ।’ পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি আরও জোরদার করা এবং দেশব্যাপী প্রজন্ম দলের সাংগঠনিক শক্তি বাড়াতে বিভিন্ন জেলা সফরের কথাও উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, ‘মন্ত্রী নয়, মাদক নির্মূল! মাদক নির্মূল, মাদক নির্মূল!’
এর আগে রোববার রাত ১২টা ৩৫ মিনিটে দেওয়া এক ফেসবুক পোস্টে পদত্যাগের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন ইশরাক। সেখানে তিনি উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে মন্ত্রিসভার কোনো সদস্যকে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হলে তা কার্যকর করার বিষয়ে তৃতীয় বা চতুর্থ কোনো ব্যক্তির মাধ্যমে তথ্য যাচাইয়ের প্রয়োজন নেই। তাঁর ক্ষেত্রে এমন কোনো সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে দ্রুততম সময়ে সংবাদ সম্মেলন করে দেশবাসীকে বিস্তারিত জানানো হবে বলেও জানান তিনি।
এর আগে শনিবার আগ্নেয়াস্ত্র হাতে মাদকবিরোধী অভিযানে অংশ নিয়ে বিতর্কের জন্ম দেন ইশরাক হোসেন। এ ঘটনার পর রোববার মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁকে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছেন বলে খবর ছড়িয়ে পড়ে। তবে গণমাধ্যমে পাঠানো এক অডিও বার্তায় ইশরাক ওই খবরকে ‘গুজব ও ভিত্তিহীন’ বলে দাবি করেছিলেন।
গত শনিবার বিকেলে রাজধানীর গেণ্ডারিয়া রেলস্টেশনসংলগ্ন দয়াগঞ্জ ঘুণ্টিঘর রেলগেট এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানে যান ইশরাক হোসেন। তাঁর নিজের ফেসবুক পেজে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, গাড়ি থেকে নেমে আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে তিনি চিৎকার করে লোকজনকে ধরার নির্দেশ দিচ্ছেন। এ সময় তাঁর পাশ থেকে একজনকে গুলি করার হুমকি দিতেও শোনা যায়।
ভিডিওতে প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে থাকা দেহরক্ষীদের কয়েকজনকে লোকজনকে ধরতে দৌড়াতে দেখা যায়। তাঁদের একজনকে এক তরুণকে লাথি মারতেও দেখা যায়। এ সময় কয়েকজনকে নিজেদের নির্দোষ দাবি করতে শোনা যায়।
অন্য একটি ভিডিওতে আটক ব্যক্তিদের পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ার দৃশ্য দেখা যায়। ঘটনাস্থলে ইশরাকের নিয়োগ দেওয়া দুই দেহরক্ষী তোফাজ্জল হোসেন ও লাভলুর পাশাপাশি একজন সরকারি দেহরক্ষীও উপস্থিত ছিলেন। তাঁর ব্যক্তিগত দেহরক্ষীদের কাছেও অস্ত্র ছিল।
ভিডিওর কিছু অংশে ইশরাকের হাতে থাকা পিস্তল অস্পষ্ট করা হলেও অন্য অংশে অস্ত্রটি স্পষ্ট দেখা যায়। তবে গুলি করার হুমকি দেওয়া ব্যক্তির পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি।