
সংগৃহীত ছবি
আমাদের আশপাশে এমন অনেক মানুষ আছেন, যাঁদের দেখে মনে হয় তাঁরা বেশ ভালো আছেন। হাসছেন, সবার সঙ্গে কথা বলছেন, নিয়মিত কাজ করছেন এবং নিজেদের দায়িত্বও পালন করছেন। অথচ তাঁদের মনের ভেতর জমে থাকতে পারে অনেক না বলা কষ্ট।
মানসিক আঘাত সব সময় বাইরে থেকে বোঝা যায় না। কেউ কেঁদে নিজের কষ্ট প্রকাশ করেন, কেউ কাছের মানুষের সঙ্গে তা ভাগ করে নেন। আবার কেউ হাসিমুখে সবকিছু সামলে নেওয়ার চেষ্টা করেন। ফলে বাইরে থেকে তাঁদের দেখে বোঝা কঠিন হতে পারে, ভেতরে ভেতরে তাঁরা কীসের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন।
অতীতের কঠিন অভিজ্ঞতা মানুষের আচরণ, সম্পর্ক গড়ে তোলার ধরন এবং দৈনন্দিন জীবনযাপনে প্রভাব ফেলতে পারে। কখনো তা প্রকাশ পায় অতিরিক্ত সতর্কতায়, কখনো অনুভূতি লুকিয়ে রাখার অভ্যাসে, আবার কখনো সবাইকে খুশি রাখার চেষ্টায়।
তবে মনে রাখা জরুরি, এসব আচরণ দেখেই কাউকে মানসিক আঘাতের শিকার বলে ধরে নেওয়া যায় না। একই আচরণের পেছনে ভিন্ন ভিন্ন কারণ থাকতে পারে। তারপরও কাছের মানুষের আচরণে কিছু পরিবর্তন লক্ষ করলে তাঁকে বিচার না করে বোঝার চেষ্টা করা যেতে পারে। চলুন, জেনে নেওয়া যাক এমন নয়টি আচরণ, যেগুলোর পেছনে কখনো কখনো লুকিয়ে থাকতে পারে মানসিক কষ্ট।
১. সবকিছু একাই সামলানোর চেষ্টা করেন
কিছু মানুষ বড় সমস্যায় পড়লেও অন্যের সাহায্য নিতে চান না। নিজের কষ্ট নিজের মধ্যে রেখে সবকিছু একাই সামলানোর চেষ্টা করেন। বাইরে থেকে তাঁদের আত্মনির্ভরশীল ও দৃঢ় মানসিকতার মানুষ মনে হতে পারে।
কিন্তু সব সময় এর পেছনে আত্মবিশ্বাসই কাজ করে, এমন নয়। অতীতে প্রয়োজনের সময় সাহায্য না পাওয়া, অবহেলার শিকার হওয়া কিংবা বিশ্বাস করে কষ্ট পাওয়ার অভিজ্ঞতা কাউকে এমন করে তুলতে পারে। তখন অন্যের ওপর নির্ভর করাকে তাঁরা ঝুঁকিপূর্ণ মনে করতে শুরু করেন।
ধীরে ধীরে তাঁদের মনে ধারণা তৈরি হতে পারে, নিজের সমস্যা নিজেকেই সমাধান করতে হবে। অন্যের কাছে সাহায্য চাইলে বরং আরও কষ্ট পেতে পারেন।
নিজের কাজ নিজে করতে পারা অবশ্যই ভালো গুণ। কিন্তু সব সময় অন্যের সাহায্য এড়িয়ে চললে সম্পর্কের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হতে পারে এবং নিজের কষ্ট ভাগ করে নেওয়ার সুযোগও কমে যায়। পরিচিত কেউ এমন আচরণ করলে তাঁকে একগুঁয়ে বা অহংকারী ভাবার আগে তাঁর পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা করুন। জোর না করে পাশে থাকার আশ্বাস দিন। মনে করিয়ে দিন, সাহায্য চাওয়া দুর্বলতার লক্ষণ নয়।
২. নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে চান না
কিছু মানুষকে দেখে মনে হয়, কোনো কিছুতেই তাঁদের তেমন প্রতিক্রিয়া নেই। ভালো খবরেও খুব একটা আনন্দ প্রকাশ করেন না, আবার দুঃখের ঘটনাতেও তাঁদের চোখেমুখে তেমন পরিবর্তন দেখা যায় না।
এর অর্থ এই নয় যে তাঁদের অনুভূতি নেই। দীর্ঘদিনের মানসিক চাপ কিংবা কঠিন অভিজ্ঞতার কারণে কেউ কেউ নিজের আবেগ প্রকাশ করা থেকে দূরে সরে যেতে পারেন। কষ্ট সামলানো কঠিন হয়ে উঠলে অনুভূতি চেপে রাখাই তাঁদের কাছে নিরাপদ মনে হতে পারে।
এ কারণে তাঁরা দৈনন্দিন কাজ চালিয়ে যান, সবার সঙ্গে কথা বলেন, এমনকি হাসেনও। কিন্তু ভেতরে ভেতরে আনন্দ, দুঃখ কিংবা অন্যান্য অনুভূতি আগের মতো স্পষ্টভাবে উপলব্ধি করতে অসুবিধা হতে পারে।
এমন মানুষের সঙ্গে কথা বলার সময় ধৈর্য ধরুন। জোর করে মনের কথা জানতে চাইবেন না। বরং এমন পরিবেশ তৈরি করুন, যেখানে তাঁরা বিচার বা উপহাসের ভয় ছাড়াই নিজেদের অনুভূতি প্রকাশ করতে পারেন।
৩. সব সময় বিপদের আশঙ্কায় থাকেন
কোনো ঘরে ঢুকেই চারপাশ ভালো করে দেখা, সামান্য শব্দে চমকে ওঠা কিংবা অন্যের আচরণের ছোট পরিবর্তনও খেয়াল করা—কিছু মানুষের মধ্যে এমন প্রবণতা দেখা যায়। পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলেও তাঁরা যেন সব সময় সতর্ক থাকেন।
মনোবিজ্ঞানে অতিরিক্ত সতর্ক অবস্থাকে বলা হয় ‘হাইপারভিজিল্যান্স’ (Hypervigilance)। অতীতের ভয়াবহ অভিজ্ঞতা, দীর্ঘদিনের অনিরাপত্তা কিংবা মানসিক আঘাতের সঙ্গে কখনো কখনো এর সম্পর্ক থাকতে পারে।
যাঁরা দীর্ঘদিন অনিরাপদ পরিবেশে থেকেছেন, তাঁদের কাছে চারপাশের সবকিছু খেয়াল রাখা একসময় নিজেকে রক্ষা করার উপায় হয়ে উঠতে পারে। পরবর্তী সময়ে নিরাপদ পরিবেশেও সেই অভ্যাস থেকে যেতে পারে। ফলে শান্ত পরিবেশেও তাঁরা স্বস্তি অনুভব করতে পারেন না এবং সব সময় সতর্ক থাকতে গিয়ে মানসিকভাবে ক্লান্ত হয়ে পড়েন।
এমন কাউকে অকারণে ভয় পাচ্ছেন বা বেশি ভাবছেন বলে উপহাস না করে তাঁর অস্বস্তিকে গুরুত্ব দিন। তাঁকে আশ্বস্ত করুন, তবে তাঁর ভয়কে তুচ্ছ করবেন না। নিরাপদ বোধ করতে সময়, বোঝাপড়া ও সহায়তার প্রয়োজন হতে পারে।
৪. সবাইকে খুশি রাখতে চান, বারবার ক্ষমা চান
কিছু মানুষ সামান্য বিষয়েও বারবার ‘দুঃখিত’ বলেন। নিজের কোনো দোষ না থাকলেও ক্ষমা চান। অন্য কারও মন খারাপ হতে পারে—এই আশঙ্কায় নিজের ইচ্ছা বা মতামত প্রকাশ করতেও দ্বিধা করেন।
অন্যকে খুশি রাখার এই প্রবণতাকে অনেক সময় ‘পিপল প্লিজিং’ (People pleasing) বলা হয়। কখনো কখনো এর পেছনে থাকে প্রত্যাখ্যাত হওয়ার ভয়। ছোটবেলা থেকে কেউ যদি শিখে থাকেন যে অন্যদের অসন্তুষ্ট করলে বকাঝকা, অবহেলা কিংবা শাস্তির মুখে পড়তে হয়, তাহলে বড় হয়েও তিনি সবার মন জুগিয়ে চলার চেষ্টা করতে পারেন।
তাঁর কাছে অন্যকে খুশি রাখা শুধু ভালো ব্যবহার নয়, বরং সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার একটি উপায় হয়ে দাঁড়াতে পারে। ফলে নিজের প্রয়োজনকে গুরুত্ব দেওয়া, মতের অমিল মেনে নেওয়া কিংবা প্রয়োজনে ‘না’ বলা কঠিন হয়ে পড়ে।
তবে সুস্থ সম্পর্কে নিজের মতামত প্রকাশ করা এবং ব্যক্তিগত সীমারেখা বজায় রাখার সুযোগ থাকে। সবাইকে সব সময় খুশি রাখা সম্ভব নয়। কাছের কেউ এমন আচরণ করলে তাঁকে নিজের কথা বলতে উৎসাহ দিন। বোঝান, মতের অমিল হলেই সম্পর্ক নষ্ট হয়ে যায় না।
৫. অন্যকে সহজে বিশ্বাস করতে পারেন না
সম্পর্কের মধ্যে বিশ্বাস তৈরি হতে সময় লাগে। তবে অতীতে কাছের মানুষের কাছ থেকে কষ্ট পেলে কাউকে বিশ্বাস করা আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
এমন মানুষ নিজের ব্যক্তিগত কথা সহজে কাউকে বলতে চান না। ভয়, দুর্বলতা কিংবা কষ্টের অভিজ্ঞতা গোপন রাখেন। এমনকি যাঁরা সত্যিকার অর্থে তাঁদের যত্ন নেন, তাঁদের কাছেও পুরোপুরি মনের কথা খুলে বলতে পারেন না।
বাইরে থেকে সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ মনে হলেও তাঁরা ভেতরে ভেতরে কিছুটা দূরত্ব বজায় রাখতে পারেন। যেন প্রয়োজন হলে সহজেই নিজেকে গুটিয়ে নিতে পারেন।
বিশেষ করে ছোটবেলায় অবহেলা, বিশ্বাসভঙ্গ কিংবা পরিত্যক্ত হওয়ার অভিজ্ঞতা থাকলে কারও কারও মধ্যে এমন প্রবণতা তৈরি হতে পারে। তাঁরা মনে করতে পারেন, কাউকে বেশি কাছে আসতে দিলে আবারও কষ্ট পেতে হবে।
এ ধরনের মানুষের সঙ্গে বিশ্বাসের সম্পর্ক গড়তে কথা ও কাজের মধ্যে মিল রাখা, ব্যক্তিগত বিষয় গোপন রাখা এবং তাঁদের সীমারেখাকে সম্মান করা গুরুত্বপূর্ণ। কাউকে বিশ্বাস করতে বাধ্য করা যায় না। তাঁকে নিজের গতিতে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ দেওয়াও যত্নের অংশ।
৬. সামান্য ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখান
কেউ একটু জোরে কথা বললেন, কোনো মন্তব্য করলেন কিংবা আগে থেকে ঠিক করা পরিকল্পনা বাতিল করলেন। অন্যদের কাছে বিষয়টি সাধারণ মনে হলেও কেউ কেউ এতে হঠাৎ খুব কষ্ট পেতে পারেন, রেগে যেতে পারেন কিংবা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়তে পারেন।
কখনো বর্তমানের কোনো ঘটনা অতীতের কষ্টদায়ক অভিজ্ঞতার কথা মনে করিয়ে দেয়। ফলে মানুষটি শুধু বর্তমান পরিস্থিতির প্রতিই প্রতিক্রিয়া দেখান না, পুরোনো অনুভূতিও ফিরে আসতে পারে।
যেমন, কারও উচ্চ স্বরে কথা বলা অতীতের ভয়ংকর অভিজ্ঞতার স্মৃতি জাগিয়ে তুলতে পারে। আবার কাছের কেউ হঠাৎ যোগাযোগ বন্ধ করে দিলে পরিত্যক্ত হওয়ার পুরোনো ভয় ফিরে আসতে পারে। এ কারণে প্রতিক্রিয়াটি অন্যদের কাছে অতিরিক্ত মনে হলেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির কাছে সেটি বাস্তব ও তীব্র হতে পারে।
অবশ্য সব আবেগপ্রবণ প্রতিক্রিয়ার পেছনে মানসিক আঘাত থাকে না। ক্লান্তি, মানসিক চাপ কিংবা অন্য সমস্যাও এর কারণ হতে পারে।
তাই কাউকে ‘অতিরিক্ত নাটক করছেন’ বলে উড়িয়ে না দিয়ে তাঁর অনুভূতি বোঝার চেষ্টা করুন। শান্তভাবে জানতে চান, কোন বিষয়টি তাঁকে কষ্ট দিয়েছে। তাঁর কথা মন দিয়ে শুনুন এবং একই সঙ্গে নিজের সীমারেখাও বজায় রাখুন।
৭. পরিবার বা অতীতের কথা এড়িয়ে চলেন
পরিবারের কথা উঠলেই কেউ প্রসঙ্গ বদলে ফেলেন। শৈশবের স্মৃতি নিয়ে জানতে চাইলে সংক্ষিপ্ত উত্তর দেন। আবার কেউ অতীতের কোনো ঘটনা নিয়ে কথা বলতেই চান না।
এর পেছনে নানা কারণ থাকতে পারে। কারও পারিবারিক অভিজ্ঞতা সুখের, আবার কারও জন্য তা বেদনাদায়ক। অবহেলা, নির্যাতন, পারিবারিক দ্বন্দ্ব কিংবা প্রিয়জনকে হারানোর স্মৃতি অনেকের জন্য কষ্টের কারণ হতে পারে।
কখনো এসব অভিজ্ঞতা নিয়ে কথা বলার মতো মানসিক প্রস্তুতি থাকে না। আবার কেউ নিজের ব্যক্তিগত জীবন অন্যের সঙ্গে ভাগ করে নিতেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন না।
তাই কেউ অতীতের কথা বলতে না চাইলে তাঁকে জোর করা ঠিক নয়। বারবার প্রশ্ন করা কিংবা নিজের মতো করে তাঁর অভিজ্ঞতার ব্যাখ্যা দাঁড় করানোও উচিত নয়। বরং তাঁকে বোঝান, চাইলে তিনি কথা বলতে পারেন, আবার না চাইলে সেটিও গ্রহণযোগ্য।
কখন, কতটুকু এবং কার সঙ্গে নিজের অভিজ্ঞতা ভাগ করবেন, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার তাঁর রয়েছে। কখনো কখনো নীরবে পাশে থাকাটাই বড় সহায়তা হয়ে উঠতে পারে।
৮. অন্যের অনুভূতি সহজেই বুঝতে পারেন
কিছু মানুষ অন্যের অনুভূতির প্রতি অত্যন্ত সংবেদনশীল হন। কারও মুখের অভিব্যক্তি, কথা বলার ধরন কিংবা আচরণের সামান্য পরিবর্তন দেখেই তাঁরা বুঝতে পারেন, কিছু একটা ঠিক নেই।
বিশেষ করে যাঁরা ছোটবেলায় অনিশ্চিত বা অস্থিতিশীল পরিবেশে বড় হয়েছেন, তাঁদের কেউ কেউ আশপাশের মানুষের মেজাজ বুঝে চলতে অভ্যস্ত হয়ে পড়েন। কখন কার মন খারাপ, কে রেগে আছেন কিংবা কখন পরিস্থিতি খারাপ হতে পারে—এসব বোঝার চেষ্টা তাঁদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
বড় হওয়ার পরও সেই অভ্যাস থেকে যেতে পারে। ফলে তাঁরা অন্যের কষ্ট সহজে বুঝতে পারেন এবং সহানুভূতির সঙ্গে পাশে দাঁড়ান। এটি অবশ্যই মূল্যবান একটি গুণ। তবে সব সময় অন্যের অনুভূতির দিকে নজর রাখতে গিয়ে তাঁরা নিজের প্রয়োজন ভুলে যেতে পারেন।
অন্যের মন খারাপ হলে নিজেরও খারাপ লাগা, সবাইকে ভালো রাখার দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেওয়া কিংবা অন্যের সমস্যা নিয়ে অতিরিক্ত চিন্তা করা তাঁদের মানসিকভাবে ক্লান্ত করে তুলতে পারে।
তাই যাঁরা সব সময় অন্যদের অনুভূতি বোঝার চেষ্টা করেন, তাঁদেরও নিজের যত্ন নেওয়া প্রয়োজন। অন্যকে সাহায্য করার পাশাপাশি নিজের বিশ্রাম, মানসিক শান্তি ও ব্যক্তিগত সীমারেখাকেও গুরুত্ব দিতে হবে।
৯. কষ্টের কথা বলতে গিয়ে রসিকতার আশ্রয় নেন
কেউ কেউ নিজের জীবনের কঠিন অভিজ্ঞতাগুলোও হাসতে হাসতে বলে ফেলেন। কখনো তীক্ষ্ণ রসিকতা করেন, কখনো ব্যঙ্গের আশ্রয় নেন। শুনে মনে হয়, বিষয়গুলো তাঁদের কাছে খুব একটা গুরুতর নয়।
কিন্তু সব সময় হাসির অর্থ আনন্দ নয়। কখনো কখনো হাসি হয়ে উঠতে পারে মানসিক কষ্ট সামলানোর একটি উপায়। মনোবিজ্ঞানে এ ধরনের কৌশলকে ‘কোপিং মেকানিজম’ (Coping mechanism) বলা হয়।
কঠিন অভিজ্ঞতা নিয়ে রসিকতা করলে কেউ কেউ সেই ঘটনার সঙ্গে কিছুটা মানসিক দূরত্ব তৈরি করতে পারেন। যে বিষয়টি একসময় তাঁকে অসহায় করে তুলেছিল, সেটি নিয়ে নিজের মতো করে কথা বলার সুযোগও পান।
বিশেষ করে যাঁরা ছোটবেলায় কাঁদলে উপহাসের শিকার হয়েছেন কিংবা নিজের কষ্ট প্রকাশ করে সমর্থন পাননি, তাঁদের কারও কারও কাছে হাসির আড়ালে অনুভূতি লুকিয়ে রাখাই সহজ মনে হতে পারে।
তবে কালো রসিকতা বা ব্যঙ্গ করলেই যে কেউ মানসিক কষ্ট লুকাচ্ছেন, তা নয়। অনেকের কাছে এটি নিছক রসবোধ কিংবা যোগাযোগের একটি ধরন।
তাই কারও রসিকতাকে অকারণে বিশ্লেষণ না করে তাঁর সামগ্রিক আচরণ বোঝার চেষ্টা করুন। তিনি কখনো নিজের কষ্টের কথা বলতে চাইলে যেন নিশ্চিন্তে বলতে পারেন, সেই সুযোগ তৈরি করে দিন।
শেষ কথা
মানুষের মনের কষ্ট সব সময় প্রকাশ্যে আসে না। কেউ সাহায্য চান না, কেউ অনুভূতি লুকিয়ে রাখেন, আবার কেউ হাসি-রসিকতার আড়ালে নিজের কষ্ট ঢেকে রাখেন। এসব আচরণের পেছনে থাকতে পারে অতীতের অভিজ্ঞতা, বর্তমানের মানসিক চাপ কিংবা এমন কোনো ব্যক্তিগত কারণ, যা অন্যদের জানা নেই।
তবে এসব লক্ষণ দেখেই কাউকে মানসিক আঘাতের শিকার বলে চিহ্নিত করা উচিত নয়। একই আচরণের পেছনে ভিন্ন ভিন্ন কারণ থাকতে পারে। তাই অনুমান করে সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর চেয়ে মন দিয়ে শোনা, বিচার না করে বোঝার চেষ্টা করা এবং প্রয়োজনের সময় পাশে দাঁড়ানো বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
কেউ দীর্ঘদিন মানসিক কষ্টে ভুগলে বা দৈনন্দিন জীবন সামলাতে সমস্যায় পড়লে মানসিক স্বাস্থ্য পেশাজীবীর সহায়তা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া যেতে পারে। মনে রাখবেন, সহমর্মিতা, নিরাপদ পরিবেশ এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা একজন মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।