বৃহস্পতিবার ● ২২ অক্টোবর ২০২৬ ● ৬ কার্তিক ১৪৩৩

শিরোনাম: ওমান থেকে আসা ৩ সহযাত্রীর লাগেজ চুরি, যুবক গ্রেফতার   শরণখোলায় ইঁদুর মারার বৈদ্যুতিক ফাঁদে প্রাণ গেল কৃষকের   প্রেসক্লাব নকলার সাংগঠনিক সম্পাদক হলেন রাকিব   উত্তরায় ‘দে লাড়া’ কিশোরগ্যাং গ্রুপের মূলহোতা পিচ্চি সানি গ্রেপ্তার   হিমছড়ি সৈকতে আরও এক পর্যটকের মরদেহ উদ্ধার, প্রাণহানি বেড়ে ৪   জামায়াতের সঙ্গে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের সম্পর্ক প্রমাণিত: রিজভী   জনগণ আওয়ামী লীগকে আর রাজনীতি করতে দেবে না: স্পিকার   
দাম্পত্যের মনোমালিন্য দূর করতে মেনে চলুন ৭টি কৌশল
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৩৮ পিএম   (ভিজিট : ৩৭)

সংগৃহীত ছবি

সংগৃহীত ছবি

দাম্পত্য জীবনে মতের অমিল, ভুল-বোঝাবুঝি কিংবা মনোমালিন্য হওয়া স্বাভাবিক। দুজন মানুষের চিন্তাভাবনা, অভ্যাস ও দৃষ্টিভঙ্গিতে পার্থক্য থাকতেই পারে। তবে এসব মতপার্থক্য কীভাবে সামাল দেওয়া হচ্ছে, তার ওপর নির্ভর করে সম্পর্কের স্থায়িত্ব ও মানসিক প্রশান্তি। সময়মতো ভুল-বোঝাবুঝি দূর করতে না পারলে ছোটখাটো সমস্যাও একসময় বড় দূরত্ব তৈরি করতে পারে।

পারস্পরিক শ্রদ্ধা, ধৈর্য ও খোলামেলা যোগাযোগের মাধ্যমে দাম্পত্য জীবনের অনেক বিরোধই এড়ানো সম্ভব। সম্পর্কের সৌন্দর্য বজায় রাখতে এবং মনোমালিন্য কমাতে মেনে চলতে পারেন সাতটি কার্যকর কৌশল।

১. সঙ্গীর কথা মনোযোগ দিয়ে শুনুন

মতবিরোধের সময় অনেকেই নিজের বক্তব্য তুলে ধরতে এতটাই ব্যস্ত হয়ে পড়েন যে সঙ্গীর কথা শোনার সুযোগ থাকে না। অথচ সমস্যা সমাধানের প্রথম ধাপ হলো পরস্পরের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা।

সঙ্গী কোনো অভিযোগ বা কষ্টের কথা জানালে মাঝপথে বাধা না দিয়ে তাঁর বক্তব্য বোঝার চেষ্টা করুন। সঙ্গে সঙ্গে পাল্টা যুক্তি না দেখিয়ে তাঁর অনুভূতিকে গুরুত্ব দিন। এতে ভুল-বোঝাবুঝি কমার পাশাপাশি পারস্পরিক আস্থা ও বোঝাপড়া বাড়ে।

২. সঙ্গীর দৃষ্টিভঙ্গি বোঝার চেষ্টা করুন

একই ঘটনা দুজন মানুষ ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করতে পারেন। তাই নিজের মতামতকেই একমাত্র সঠিক মনে না করে সঙ্গীর অবস্থান থেকেও পরিস্থিতি বিবেচনা করা জরুরি।

কোনো ঘটনায় সঙ্গী কেন কষ্ট পেয়েছেন কিংবা তাঁর প্রতিক্রিয়ার পেছনে কী কারণ রয়েছে, তা বোঝার চেষ্টা করুন। প্রয়োজনে তাঁকে আশ্বস্ত করে বলতে পারেন, ‘তোমার জায়গা থেকে বিষয়টি কেন কষ্টের, তা আমি বুঝতে পারছি।’ এমন আন্তরিক মনোভাব উত্তেজনা কমাতে এবং সম্পর্কের দূরত্ব ঘোচাতে সাহায্য করে।

৩. উত্তেজিত অবস্থায় আলোচনা থেকে বিরতি নিন

রাগের মাথায় অনেক সময় মানুষ এমন কথা বলে ফেলেন, যা পরে সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তাই তর্ক বাড়তে থাকলে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নেওয়া কিংবা কঠিন কথা বলার পরিবর্তে কিছুটা সময় নেওয়া ভালো।

দুজনের কেউ উত্তেজিত হয়ে পড়লে সাময়িক বিরতি নিতে পারেন। তবে বিরতিকে সমস্যা এড়িয়ে যাওয়ার অজুহাত বানানো উচিত নয়। মন শান্ত হলে আবার আলোচনায় ফিরে আসুন। এতে আবেগের বশে পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আশঙ্কা কমে।

৪. দোষারোপ না করে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করুন

সঙ্গীকে সরাসরি দোষারোপ করলে তিনি নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে বা আত্মপক্ষ সমর্থন করতে ব্যস্ত হয়ে পড়তে পারেন। এতে মূল সমস্যার সমাধান না হয়ে তর্ক আরও দীর্ঘ হতে পারে।

যেমন, ‘তুমি কখনোই আমাকে সাহায্য করো না’ বলার পরিবর্তে বলা যায়, ‘সব দায়িত্ব একা সামলাতে গিয়ে আমি ক্লান্ত বোধ করছি।’ এভাবে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করলে সঙ্গী অভিযোগের বদলে সমস্যাটি বোঝার সুযোগ পান।

৫. কথোপকথনে ‘আমি’ দিয়ে নিজের অনুভূতি বোঝান

‘তুমি সব সময় এমন করো’ কিংবা ‘তোমার জন্যই সব সমস্যা হচ্ছে’—এ ধরনের কথা সঙ্গীর মনে আঘাত করতে পারে। ফলে তিনি নিজেকে আক্রান্ত মনে করে আলোচনায় নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারেন।

এর পরিবর্তে নিজের অনুভূতি ও অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব দিয়ে কথা বলুন। যেমন, ‘তোমার সঙ্গে সময় কাটাতে না পারলে আমার খারাপ লাগে।’ এমনভাবে কথা বললে অভিযোগের পরিবর্তে অনুভূতি প্রকাশ পায় এবং খোলামেলা আলোচনার পরিবেশ তৈরি হয়।

৬. সব বিষয়ে একমত হওয়ার প্রত্যাশা করবেন না

দাম্পত্য সম্পর্কে দুজনের সব পছন্দ, চিন্তাভাবনা কিংবা সিদ্ধান্ত এক হবে—এমন প্রত্যাশা বাস্তবসম্মত নয়। ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা, মূল্যবোধ ও দৃষ্টিভঙ্গির কারণে মতপার্থক্য থাকতেই পারে।

প্রতিটি বিষয়ে একমত হওয়ার চেষ্টা না করে ভিন্নমতকে সম্মান করতে শিখুন। কোনো বিষয়ে সমাধানে পৌঁছানো সম্ভব না হলে পারস্পরিক গ্রহণযোগ্যতা ও সমঝোতার পথ খুঁজুন। মতের অমিল থাকা সত্ত্বেও একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধা বজায় রাখাই সুস্থ সম্পর্কের অন্যতম ভিত্তি।

৭. ভুল স্বীকার করুন, কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করুন

সম্পর্কে নিজের ভুল স্বীকার করা দুর্বলতার পরিচয় নয়; বরং নিজের আচরণের দায়িত্ব নেওয়ার প্রমাণ। ভুল হলে আন্তরিকভাবে ক্ষমা চান এবং ভবিষ্যতে একই ভুলের পুনরাবৃত্তি এড়ানোর চেষ্টা করুন।

পাশাপাশি সঙ্গীর ছোট ছোট ভালো কাজের প্রশংসা করুন। ‘ধন্যবাদ’, ‘দুঃখিত’ কিংবা ‘তোমাকে ভালোবাসি’—এ ধরনের আন্তরিক শব্দ সম্পর্ককে আরও উষ্ণ করে তুলতে পারে। শুধু কথায় নয়, প্রতিদিনের আচরণেও যত্ন, ভালোবাসা ও সম্মানের প্রকাশ থাকা জরুরি।

সম্পর্ক ভালো রাখতে প্রয়োজন পারস্পরিক বোঝাপড়া

দাম্পত্য জীবনে মতবিরোধ থাকতেই পারে। তবে মতের অমিলের সময় একে অপরের সঙ্গে কেমন আচরণ করা হচ্ছে, সেটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। মনোযোগ দিয়ে শোনা, আবেগ নিয়ন্ত্রণ, অনুভূতি স্পষ্টভাবে প্রকাশ এবং ভুল স্বীকার করার অভ্যাস সম্পর্কের দূরত্ব কমাতে সাহায্য করে। পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও আন্তরিকতার চর্চা অব্যাহত রাখলে দাম্পত্য জীবন হয়ে উঠতে পারে আরও সুন্দর, শান্তিপূর্ণ ও আনন্দময়।










  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ


সম্পাদক ও প্রকাশক: ড. কাজী এরতেজা হাসান
সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
সাউথ ওয়েস্টার্ন মিডিয়া গ্রুপ


©ডেইলি ভোরের পাতা ডটকম


©ডেইলি ভোরের পাতা ডটকম

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫।
ফোন:৮৮-০২-৪১০১০০৮৭, ৪১০১০০৮৬, বিজ্ঞাপন বিভাগ: ৪১০১০০৮৪, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৪১০১০০৮৫
অনলাইন ইমেইল: [email protected] বার্তা ইমেইল:[email protected] বিজ্ঞাপন ইমেইল:[email protected]