প্রকাশ: বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:৪৯ পিএম (ভিজিট : ৯৬)

সংগৃহীত ছবি
দিনাজপুরের পার্বতীপুরে অবস্থিত দেশের একমাত্র কয়লাভিত্তিক ৫২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বিকেলে কেন্দ্রের সচল থাকা একমাত্র তৃতীয় ইউনিটটিও বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তিনটি ইউনিটের কোনোটিই এখন বিদ্যুৎ উৎপাদন করছে না।
বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে মোট তিনটি ইউনিট রয়েছে। এর মধ্যে প্রথম ও দ্বিতীয় ইউনিটের প্রতিটির উৎপাদন ক্ষমতা ১২৫ মেগাওয়াট এবং তৃতীয় ইউনিটের ক্ষমতা ২৭৫ মেগাওয়াট। যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ২০২০ সালের নভেম্বর থেকে দ্বিতীয় ইউনিটটি বন্ধ রয়েছে। এতদিন প্রথম ও তৃতীয় ইউনিট দিয়ে সীমিত পরিসরে বিদ্যুৎ উৎপাদন চলছিল।
কেন্দ্রসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার প্রথম ইউনিট থেকে প্রতিদিন গড়ে ৪৫ থেকে ৫৫ মেগাওয়াট এবং ২৭৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার তৃতীয় ইউনিট থেকে ১৬০ থেকে ১৭০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হতো।
গত সোমবার (৫ অক্টোবর) ভোর ৫টা ৫০ মিনিটে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে প্রথম ইউনিটের উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। এর পরদিন মঙ্গলবার ভোর ৫টা ৫ মিনিটে তৃতীয় ইউনিটেও একই ধরনের ত্রুটি দেখা দেয়। দিনভর ত্রুটি কাটিয়ে উৎপাদন চালুর চেষ্টা করা হলেও শেষ পর্যন্ত বিকেলে ইউনিটটি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। এতে কেন্দ্রটির সব ইউনিটের উৎপাদন বন্ধ হয়ে পড়ে।
বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী মো. আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, বন্ধ হয়ে যাওয়া দুটি ইউনিট সচল করতে ইতোমধ্যে একদল চীনা প্রকৌশলী কাজ শুরু করেছেন। তবে কেন্দ্রটি কবে নাগাদ পুরোপুরি উৎপাদনে ফিরবে, তা এখনই বলা সম্ভব নয়।
কেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে, তৃতীয় ইউনিট সচল রাখতে প্রতিদিন প্রায় ২ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন এবং প্রথম ইউনিট চালাতে ৮০০ থেকে ৯০০ মেট্রিক টন কয়লা প্রয়োজন হতো।
দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন যান্ত্রিক ত্রুটি ও সীমিত সক্ষমতার মধ্যেই বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছিল। দ্বিতীয় ইউনিটটি প্রায় পাঁচ বছর ১১ মাস ধরে বন্ধ থাকার পর এবার প্রথম ও তৃতীয় ইউনিটও বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কেন্দ্রটি পুরোপুরি অচল হয়ে পড়েছে।