
সংগৃহীত ছবি
মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে দেশের স্বার্থ রক্ষা, কর্মীদের চাকরির নিশ্চয়তা এবং বিদেশ যেতে কত টাকা খরচ হবে—এসব বিষয় নিশ্চিত করেই কর্মী পাঠানো হবে বলে জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। তিনি বলেছেন, ‘যেমনে-তেমনে’ কর্মী পাঠানোর সুযোগ নেই। পুরো প্রক্রিয়াকে একটি শৃঙ্খলা ও নিয়ন্ত্রণের মধ্যে আনা হচ্ছে।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর ইস্কাটনে প্রবাসী কল্যাণ ভবনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক এবং সচিব মো. মোখতার আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।
মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ থেকে যেসব কর্মী বিদেশে যাবেন, তাদের চাকরির নিশ্চয়তা এবং বিদেশ যেতে কত টাকা খরচ হবে—সবকিছু নিশ্চিত করেই পাঠানো হবে। এ বিষয়ে সরকার একটি সুশৃঙ্খল ব্যবস্থা গড়ে তুলছে।
মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, দেশের স্বার্থে সবাইকে মূল বিষয়গুলোতে গুরুত্ব দিতে হবে। কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে বাংলাদেশের কিছু ঘাটতি রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, কবে নাগাদ কর্মী পাঠানো সম্ভব হবে, সে বিষয়ে নিয়মিত আপডেট নেওয়া হচ্ছে।
তিনি জানান, মালয়েশিয়ার অনলাইন প্ল্যাটফর্ম এফডব্লিউসিএমএসে বাংলাদেশ প্রয়োজনীয় তথ্য ও ইনপুট দেওয়ার কাজ করছে।
বেসরকারি রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর মাধ্যমে আসা চাহিদাপত্র যাচাই প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন বেসরকারি রিক্রুটিং এজেন্সি কর্মী নেওয়ার চাহিদাপত্র নিয়ে এসেছে। চলমান প্রক্রিয়ায় বৈধভাবে যেসব চাহিদাপত্র আসছে, সেগুলো প্রবাসী বাংলাদেশি হাইকমিশনের মাধ্যমে যাচাই করা হচ্ছে।
মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠাতে বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড—বোয়েসেলকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠানটি প্রায় প্রস্তুত। তবে বেসরকারি ব্যবস্থার মাধ্যমে কর্মী পাঠাতে তিনি আগ্রহী নন। কারণ, বেসরকারি ব্যবস্থায় কর্মী পাঠালে সরকারের নিয়ন্ত্রণ কমে যেতে পারে।
মন্ত্রী বলেন, বোয়েসেলের মাধ্যমে কর্মী পাঠানোর বিষয়ে বারবার বলা হয়েছে। মালয়েশিয়ার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ৮ অক্টোবরের মধ্যে বোয়েসেলকে প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়ায় অনিয়ম ও অতিরিক্ত ব্যয় ঠেকাতে সরকার সতর্ক রয়েছে বলেও জানান তিনি। কর্মীদের চাকরির নিশ্চয়তা, বিদেশ যাওয়ার প্রকৃত খরচ নির্ধারণ এবং পুরো প্রক্রিয়াকে নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থার মধ্যে আনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে সার্বিয়ার ভিসা পাওয়া ব্যক্তিদের আন্দোলন প্রসঙ্গেও কথা বলেন প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী। তিনি অভিযোগ করেন, কিছু ট্রাভেলস এজেন্সি শত শত যুবকের কাছ থেকে ৮ লাখ টাকা করে নিয়ে ভিসা দেওয়ার নামে প্রতারণা করেছে। এসব এজেন্সির লোকজনই আন্দোলনের জন্য মানুষ জড়ো করছে বলে দাবি করেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, যাদের ভিসা ও ওয়ার্ক পারমিট বৈধ, তারা প্রয়োজনীয় ক্লিয়ারেন্স পাবেন। তবে কাগজপত্র সঠিক না হলে সংশ্লিষ্টদের আইনের আওতায় আনা হবে।