| শিরোনাম: |
ফাইল ছবি
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের মার্চ শেষে দেশের ব্যাংকগুলোতে এক কোটি টাকার বেশি অর্থ থাকা অ্যাকাউন্টের সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৩৬ হাজার ৪৮৫টি। জুন শেষে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৪১ হাজার ৫৬২টিতে। অর্থাৎ তিন মাসে এ ধরনের অ্যাকাউন্ট বেড়েছে ৫ হাজার ৭৭টি।
এর আগে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর শেষে কোটি টাকার বেশি অর্থ থাকা ব্যাংক হিসাবের সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৩৪ হাজার ৪৪টি। অর্থাৎ গত ডিসেম্বরের পরও ধারাবাহিকভাবে এ ধরনের হিসাবের সংখ্যা বেড়েছে।
কোটি টাকার বেশি অর্থ থাকা ব্যাংক হিসাবের সংখ্যা বাড়ার পাশাপাশি এসব হিসাবে জমা অর্থের পরিমাণও বেড়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, চলতি বছরের মার্চ শেষে এসব অ্যাকাউন্টে মোট জমার পরিমাণ ছিল ৮ লাখ ৫৯ হাজার ১৬২ কোটি টাকা। জুন শেষে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮ লাখ ৭৫ হাজার ৬৬০ কোটি টাকায়। অর্থাৎ তিন মাসে কোটি টাকার বেশি অর্থ থাকা হিসাবগুলোতে জমা বেড়েছে ১৬ হাজার ৪৯৮ কোটি টাকা।
তবে ব্যাংকে এক কোটি টাকা বা তার বেশি অর্থ থাকা হিসাবের সংখ্যা দিয়ে সরাসরি কোটিপতি ব্যক্তির সংখ্যা নির্ধারণ করা যায় না বলে জানিয়েছেন খাতসংশ্লিষ্টরা।
তাদের মতে, এক কোটি টাকার বেশি অর্থ থাকা ব্যাংক হিসাবের মধ্যে ব্যক্তি ছাড়াও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, সরকারি সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের হিসাব রয়েছে। আবার একজন ব্যক্তি বা একটি প্রতিষ্ঠান একাধিক ব্যাংক হিসাব খুলতে পারে। ফলে কোটি টাকার বেশি অর্থ থাকা অ্যাকাউন্টের সংখ্যা এবং প্রকৃত কোটিপতি ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা এক নয়।
এদিকে শুধু কোটি টাকার হিসাব নয়, গত তিন মাসে দেশের ব্যাংক খাতে মোট হিসাবের সংখ্যাও বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের মার্চ শেষে দেশের ব্যাংক খাতে মোট অ্যাকাউন্ট ছিল ১৮ কোটি ২৬ লাখ ১২ হাজার ১৫টি। জুন শেষে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৮ কোটি ৬৩ লাখ ৮৪ হাজার ৫৮৮টিতে। অর্থাৎ তিন মাসে মোট ব্যাংক হিসাব বেড়েছে ৩৭ লাখ ৭২ হাজার ৫৭৩টি।
একই সময়ে ব্যাংক খাতে মোট আমানতের পরিমাণও বেড়েছে। মার্চ শেষে দেশের ব্যাংকগুলোর মোট আমানতের স্থিতি ছিল ২১ লাখ ৫৮ হাজার ২৪ কোটি টাকা। জুন শেষে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২২ লাখ ১০ হাজার ৪৪৪ কোটি টাকায়।
এপ্রিল-জুন এই তিন মাসে ব্যাংক খাতে মোট আমানত বেড়েছে ৫২ হাজার ৪১৯ কোটি টাকা।
একদিকে সাধারণ ও মোট ব্যাংক হিসাবের সংখ্যা বাড়ছে, অন্যদিকে বড় অঙ্কের আমানত থাকা হিসাব এবং এসব হিসাবে জমা অর্থও বাড়ছে। এর ফলে ব্যাংকিং খাতে আমানতের কেন্দ্রীভবন এবং সম্পদবৈষম্যের চিত্র নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠছে।