প্রকাশ: সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:২৬ পিএম (ভিজিট : ৮৩)

বাগেরহাটের রামপাল উপজেলা ভূমি অফিসে নামজারি মামলার প্রতিবেদন দেওয়ার বিনিময়ে সেবাগ্রহীতার কাছ থেকে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক কানুনগোর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সরকারি বিধি অনুযায়ী বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
অভিযুক্ত কর্মকর্তা হলেন মো. আবুল বশার, রামপাল উপজেলা ভূমি অফিসের কানুনগো। তার বিরুদ্ধে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর বিধি ৩(খ) অনুযায়ী ‘অসদাচরণ’-এর অভিযোগ আনা হয়েছে।
রামপাল উপজেলা ভূমি অফিস থেকে ১২ আগস্ট ২০২৬ তারিখে জারি করা অভিযোগ বিবরণী ও অভিযোগনামা সংক্রান্ত নথিতে এসব তথ্য উঠে এসেছে। বাগেরহাট জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের এসএ শাখা থেকে ৬ আগস্ট ২০২৬ তারিখে পাঠানো একটি স্মারকের পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট নথি প্রস্তুত করা হয়।
নথিতে অভিযোগ করা হয়েছে, নামজারি মামলার প্রতিবেদন দেওয়ার ক্ষেত্রে সেবাগ্রহীতাদের কাছ থেকে নিয়মবহির্ভূতভাবে অর্থ বা উৎকোচ গ্রহণ করেছেন আবুল বশার। অভিযোগের সঙ্গে এর সমর্থনে দুটি ভিডিও ক্লিপের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে একটি ভিডিওর দৈর্ঘ্য ৩ মিনিট ৫৬ সেকেন্ড এবং অন্যটির দৈর্ঘ্য ৫ মিনিট ২২ সেকেন্ড।
অভিযোগ বিবরণীতে আরও বলা হয়েছে, দাপ্তরিক দায়িত্ব পালনের সময় নিজ অফিস কক্ষে বসে নামজারি মামলার প্রতিবেদন দেওয়ার বিনিময়ে নগদ অর্থ গ্রহণের অভিযোগ রয়েছে ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।
এ বিষয়ে ভিডিও ক্লিপের প্রেক্ষাপটে অভিযুক্ত কর্মকর্তার কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হলে তার দেওয়া জবাব কর্তৃপক্ষের কাছে সন্তোষজনক মনে হয়নি বলে নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগের ধরন সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর বিধি ৩(খ)-এর আওতায় ‘অসদাচরণ’ হিসেবে বিবেচিত হওয়ায় আবুল বশারের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগনামা প্রস্তুত করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট নথির সঙ্গে অভিযোগের পক্ষে থাকা দুটি ভিডিও ক্লিপ, অভিযোগ বিবরণী এবং অভিযোগনামা সংযুক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে।
রামপাল উপজেলা ভূমি অফিসের সহকারী কমিশনার (ভূমি) অভিজিৎ চক্রবর্তী স্বাক্ষরিত নথিতে অভিযোগটি বিধি অনুযায়ী পরবর্তী কার্যক্রমের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানোর বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে।