প্রকাশ: সোমবার, ২৭ জুলাই, ২০২৬, ১২:১৭ এএম (ভিজিট : ৩৪)

ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পর এবার পাঞ্জাবের শিক্ষামন্ত্রী হরজট সিং বাইসের পদত্যাগের দাবিতে নতুন রাজনৈতিক সংঘাতে জড়িয়েছে বিজেপি ও আম আদমি পার্টি। রাজধানী দিল্লিতে নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের জেরে দীর্ঘ এক মাসের আন্দোলনের মুখে ধর্মেন্দ্র প্রধান কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করার পরেই এই রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়িয়ে পড়ে।
এই পরিস্থিতিতে বিজেপির জাতীয় মুখপাত্র প্রদীপ ভাণ্ডারী প্রশ্ন তুলেছেন যে নৈতিকতার খাতিরে আপ প্রধান অরবিন্দ কেজরিওয়াল কবে পাঞ্জাবের শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করবেন এবং পাঞ্জাবের শিক্ষামন্ত্রী ঠিক কবে পদত্যাগ করছেন।
বিজেপির পক্ষ থেকে পিএসইবি দ্বাদশ শ্রেণির ইংরেজি বোর্ড পরীক্ষা, পাঞ্জাব স্টেট টিচার এলিজিবিলিটি টেস্ট এবং এগ্রিকালচার ডেভেলপমেন্ট অফিসার পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ তোলা হয়েছে। পাশাপাশি পিএসএসএসবি গ্রুপ-বি এবং কম্বাইন্ড রিক্রুটমেন্ট, নাইব তেহসিলদার ও ফার্মেসি অফিসার নিয়োগ পরীক্ষাসহ এক্সাইজ অ্যান্ড ট্যাক্সেশন ইন্সপেকশন মেধা তালিকায় ভুয়া নাম থাকার অভিযোগও এনেছে দলটি। একই সুরে পাঞ্জাব প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অমরিন্দর সিং রাজা ওয়ারিং গত চার বছরে রাজ্যে ছয়টি বড় ধরনের প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ তুলে সরকারের কাছে জবাবদিহিতা দাবি করেছেন।
বিরোধী দলগুলোর এসব অভিযোগকে সম্পূর্ণ ‘ভুয়া খবর’ ও ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে আম আদমি পার্টি। পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মান দৃঢ়তার সাথে ঘোষণা করেছেন যে বিগত সাড়ে চার বছরে পাঞ্জাবে একটিও প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা ঘটেনি এবং ভবিষ্যতে প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধ করার ব্যাপারে তিনি শতভাগ গ্যারান্টি দিচ্ছেন।
তিনি জানান, মাত্র দুটি স্থানে পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বনের চেষ্টা করা হয়েছিল এবং খবর পাওয়ার মাত্র দশ মিনিটের মধ্যে সেই জালিয়াতি চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আপ নেতা বলতেজ পান্নু বলেন, একটি ঘটনায় প্রার্থীরা গ্যাজেট বা ডিভাইস ব্যবহার করে ধরা পড়ার পর তাদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল, তবে কোনো প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়নি।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিগত শাসনকালগুলোতে নিজেদের আমলের কেলেঙ্কারি ও প্রশ্নপত্র ফাঁসের আসল সমস্যা থেকে মানুষের নজর ঘোটাতেই বিজেপি ও কংগ্রেস এই ধরনের মিথ্যা প্রচার চালাচ্ছে।