
শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেছেন দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। শুক্রবার (২৪ জুলাই) দেওয়া পদত্যাগপত্রে তিনি পাঁচটি জটিল শারীরিক সমস্যার কথা উল্লেখ করেছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে ‘অটোনমিক নিউরোপ্যাথি’ (Autonomic Neuropathy) নামের স্নায়বিক রোগটি।
চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায়, অটোনমিক নিউরোপ্যাথি এমন একটি জটিল রোগ, যা শরীরের স্বয়ংক্রিয় স্নায়ুতন্ত্রকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। এই স্নায়ুতন্ত্র হৃদস্পন্দন, রক্তচাপ, শ্বাস-প্রশ্বাস, হজম, ঘাম ও মূত্রাশয়ের কার্যক্রমের মতো গুরুত্বপূর্ণ শারীরিক প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে।
পদত্যাগপত্রে মো. সাহাবুদ্দিন উল্লেখ করেন, এ রোগের কারণে তিনি মাঝেমধ্যেই হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে যান। এছাড়া দীর্ঘদিন ধরে তিনি হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও কিডনি জটিলতায় ভুগছেন। তার হৃদযন্ত্রে বাইপাস সার্জারিও হয়েছে। এসব শারীরিক সমস্যার কারণে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করা আর তার পক্ষে সম্ভব নয় বলেও জানান তিনি।
২০২২ সালে জার্নাল অব ডায়াবেটিস অ্যান্ড ইটস কমপ্লিকেশনস-এ প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা যায়, টাইপ-১ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত প্রতি পাঁচজন প্রাপ্তবয়স্কের একজন অটোনমিক নিউরোপ্যাথিতে ভুগে থাকেন। একইভাবে, টি১ডি এক্সচেঞ্জ ক্লিনিক রেজিস্ট্রির তথ্য অনুযায়ী, এ রোগে আক্রান্তদের মধ্যে হৃদরোগ, ডায়াবেটিক পেরিফেরাল নিউরোপ্যাথি, বিষণ্নতা ও ওপিওয়েড ব্যবহারের ঝুঁকিও তুলনামূলক বেশি।
অটোনমিক নিউরোপ্যাথি হলো এমন একটি স্নায়বিক রোগ, যেখানে শরীরের স্বয়ংক্রিয় স্নায়ুতন্ত্র স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে পারে না। এর ফলে দাঁড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে রক্তচাপ হঠাৎ কমে যাওয়া, মাথা ঘোরা বা অজ্ঞান হয়ে যাওয়া, অনিয়মিত হৃদস্পন্দন, হজমে সমস্যা, ঘামের অস্বাভাবিকতা, মূত্রত্যাগে জটিলতা এবং যৌনস্বাস্থ্যের সমস্যাসহ বিভিন্ন উপসর্গ দেখা দিতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিন অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস এ রোগের প্রধান কারণ। এছাড়া কিছু অটোইমিউন রোগ, স্নায়বিক সমস্যা, সংক্রমণ কিংবা নির্দিষ্ট কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াতেও এটি হতে পারে।
শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেছেন দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। শুক্রবার (২৪ জুলাই) দেওয়া পদত্যাগপত্রে তিনি পাঁচটি জটিল শারীরিক সমস্যার কথা উল্লেখ করেছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে ‘অটোনমিক নিউরোপ্যাথি’ (Autonomic Neuropathy) নামের স্নায়বিক রোগটি।
অটোনমিক নিউরোপ্যাথির স্থায়ী কোনো চিকিৎসা নেই। চিকিৎসার মূল লক্ষ্য হলো রোগের কারণ নিয়ন্ত্রণ করা এবং উপসর্গ কমিয়ে রোগীর স্বাভাবিক জীবনযাপন নিশ্চিত করা। ডায়াবেটিসজনিত ক্ষেত্রে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী ওষুধ, খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাপনে পরিবর্তন, পর্যাপ্ত পানি পান এবং নিয়মিত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার ওপর জোর দেন বিশেষজ্ঞরা।
চিকিৎসকদের মতে, সময়মতো রোগ শনাক্ত করে যথাযথ চিকিৎসা নিলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই উপসর্গ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। তবে গুরুতর অবস্থায় বারবার অজ্ঞান হয়ে যাওয়া বা রক্তচাপের বড় ধরনের ওঠানামা রোগীর দৈনন্দিন জীবন ও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।