
বিশ্বকাপে ৯২ বছর আগে নিজেদের প্রথম ম্যাচে হেরেছিল ব্রাজিল, ১৯৩৪ আসরে। মরক্কো আবার সবশেষ ছয় আসরের কোনোটিতেই নিজেদের উদ্বোধনী ম্যাচে জিততে পারেনি। আজ সেই পরিসংখ্যান উল্টেপাল্টে লেখার প্রত্যয় দুদলের।
নোবডি ডিজার্ভ টু উইন। ব্রাজিল-মরক্কোর হাড্ডাহাড্ডি ম্যাচের সারাংশ হতে পারে এই বাক্য। বিশ্বকাপের ম্যাচটিতে অবশ্য সবকিছু ছিল আক্রমণ, প্রতি আক্রমণ, গোল, গতি আর উন্মাদনা। তবে খেলা থেমেছে ১-১ গোলের সমতায়।
খাতা-কলমে গ্রুপপর্বের হাইভোল্টেজ লড়াই। বাস্তবেও হতাশ করেনি ব্রাজিল-মরক্কো। মেটলাইফ স্টেডিয়ামে বড় একটি সময়জুড়ে আধিপত্য দেখিয়েছে মরক্কো। তারই ফল হিসেবে ২১তম মিনিটে দারুণ এক গোল করে দলকে এগিয়ে দেন সাইবারি।
তবে ব্রাজিলও তাদের বিশ্বমানের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছে ১০ মিনিটের মধ্যে। ৩২তম মিনিটে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র অসাধারণ এক বাঁকানো শটে বল জালে জড়িয়ে ম্যাচে সমতা ফেরান।
প্রথমার্ধ শেষে স্কোরলাইন ১-১। গেম অন!
সুযোগ তৈরি, আক্রমণের ধার আর আত্মবিশ্বাস সবকিছুতেই ব্রাজিলকে ছাপিয়ে যাচ্ছিল মরক্কো। কিন্তু ফুটবল বারবার মনে করিয়ে দেয় শ্রেণিটা কখনো হারিয়ে যায় না। ২১ মিনিটে গোল হজমের পর সেলেসাওদের নিস্তেজ মনে হয়েছিল। ১০ মিনিটের ব্যবধানে গোল শোধ দিয়ে সতীর্থদের চাঙ্গা করে দিয়েছেন ভিনিসিয়ূস জুনিয়র।
বাম দিক থেকে বল পেয়ে ভেতরে কেটে আসেন ভিনি। এরপর কোনো সুযোগ না দিয়েই দুর্দান্ত এক শটে বল জড়িয়ে দেন জালের ওপরের কোণে। গোলরক্ষকের করার কিছুই ছিল না।
কঠিন সময়ে ব্রাজিলের সবচেয়ে বড় ভরসাই হয়ে উঠলেন ভিনি। যখন দলকে দিশেহারা মনে হচ্ছিল, তখন তার জাদুকরী মুহূর্তই ম্যাচে ফিরিয়ে আনল সেলেসাওদের। গেম নাউ অন!
মরক্কোর সমর্থকেরা চাইলে স্বপ্নের জগতে ভাসতে পারেন। পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের বিপক্ষে শুরুর ২১ মিনিটের মাথায় এগিয়ে গেছে ১-০ গোলে। বল দখলেও ব্রাজিলের সমানে সমান লড়ছে আফ্রিকার চ্যাম্পিয়নরা।
ম্যাচের ২০ মিনিটে ব্রাজিলের রক্ষণভাগের মাঝখান চিরে দুর্দান্ত এক থ্রু পাস বাড়ান ব্রাহিম দিয়াজ। নিখুঁত সেই পাসে দৌড়ে গিয়ে বলের নিয়ন্ত্রণ নেন ইসমাইল সাইবারি।
দুই ব্রাজিলিয়ান সেন্টার-ব্যাকের মাঝখান দিয়ে এগিয়ে যাওয়া সাইবারির সামনে তখন গোলরক্ষক অ্যালিসনও লাইন ছেড়ে বেরিয়ে এসেছেন। কিন্তু এতটুকুও বিচলিত হননি মরক্কোর এই মিডফিল্ডার। অসাধারণ স্থিরতায় বলটিকে আলতো করে তুলে জালে পাঠান তিনি।
যে একাদশ নিয়ে খেলছে ব্রাজিল
ইনজুরি থেকে পুরোপুরি সেরে ওঠেননি নেইমার। কোচ কার্লো আনচেলত্তি আগেই জানিয়েছিলেন মরক্কোর বিপক্ষে শুরুর একাদশে থাকছেন না নেইমার। তবে ঘোষিত একাদশে আছেন ইবানিয়েজ, দগলাস সান্তোস এবং ইগর থিয়াগো।
নেইমার না থাকার কারণে ১৯৮৬ সালের পর এই প্রথম বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে ‘১০ নম্বর’ জার্সিধারীকে ছাড়াই মাঠে নামছে সেলেসাওরা। বাংলাদেশ সময় শনিবার (১৪ জুন) ভোর ৪টায় মরক্কোর বিপক্ষে মাঠে নামবে দুদল। হাইভোল্টেজ ম্যাচের জন্য দুদলই শুরুর একাদশ জানিয়েছে।
ব্রাজিলের একাদশ
আলিসন বেকার (গোলরক্ষক), ইবানিয়েজ, মার্কিনিওস, গ্যাব্রিয়েল মাগালহায়েস, দগলাস সান্তোস, কাসেমিরো, ব্রুনো গিমারেস, লুকাস পাকেতা, ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, ইগর থিয়াগো ও রাফিনিয়া।