প্রকাশ: রোববার, ৭ জুন, ২০২৬, ২:৩৬ পিএম (ভিজিট : ৫৪)

রামিসা ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ড জাতির কাছে এটি গভীর দুঃখ ও বেদনার ঘটনা বলে মন্তব্য করেছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেছেন, রামিসা ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের মতো ঘটনায় সরকার সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়েছে, যদিও ভুক্তভোগীকে আর ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয় এবং তাকে তার বাবা-মায়ের কাছে ফেরানোও যাবে না।
রোববার (৭ জুন) দুপুরে সচিবালয়ে রায়-পরবর্তী প্রতিক্রিয়ায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী এক মাসের মধ্যে বিচার সম্পন্ন করার বিষয়ে সরকারের প্রতিশ্রুতির কথা বলেছিলেন এবং সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে।
আইনমন্ত্রী বলেন, ন্যায়বিচার নিয়ে যেন কোনো প্রশ্ন না থাকে, সেজন্য রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আসামিদের জন্য আইনজীবী নিয়োগ করা হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, মাত্র ছয় কার্যদিবসের মধ্যে এমন একটি জঘন্য ঘটনার বিচার সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে, যা দেশের বিচারিক ইতিহাসে নজিরবিহীন। এর তুলনায় তিনি উপমহাদেশের ১৮৮২ সালে নদীয়ায় একদিনে একটি হত্যার বিচার সম্পন্ন হওয়ার উদাহরণ টানেন।
তিনি বলেন, ঘোষিত রায়ে তারা আপাতত সন্তুষ্ট এবং আশা করছেন উচ্চ আদালতেও এই রায় বহাল থাকবে। আইনগত প্রক্রিয়া অনুযায়ী ডেথ রেফারেন্স সাত দিনের মধ্যে হাইকোর্ট বিভাগে যাবে। সেখানে পেপারবুক প্রস্তুতের কাজ সম্পন্ন হয় সুপ্রিম কোর্টের তত্ত্বাবধানে। এরপর সুপ্রিম কোর্ট ধারাবাহিকভাবে মৃত্যুদণ্ড সংক্রান্ত মামলাগুলো নিষ্পত্তি করে।
আইনমন্ত্রী আরও জানান, আছিয়া, রাজন, রাকিব ও রামিসার মতো মামলাগুলোর ডেথ রেফারেন্স দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য প্রধান বিচারপতি আরও ফোকাসড উদ্যোগ নেয়ার কথা বলেছেন। তিনি নিজেও এ বিষয়ে কাজ চালিয়ে যাবেন এবং যত দ্রুত সম্ভব উচ্চ আদালতে রামিসা হত্যা মামলার নিষ্পত্তির চেষ্টা করবেন।
তিনি অভিযোগ করেন, সোহেলরা মানসিকভাবে অপরাধী এবং তারা বিচার প্রক্রিয়াকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে অন্য একজনকে জড়িয়ে এনে মামলাকে বিলম্বিত করার চেষ্টা করেছে। তবে বিচার প্রক্রিয়া সঠিক পথেই এগিয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
সমাজ ও রাষ্ট্র থেকে এ ধরনের জঘন্য অপরাধ নির্মূল করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে আইনমন্ত্রী বলেন, সংশ্লিষ্ট সুপ্রিম কোর্ট বেঞ্চ যদি মামলাটিকে অগ্রাধিকার দিয়ে শুনানি করে, তাহলে আগামী তিন মাসের মধ্যে রায় কার্যকর করা সম্ভব হবে।