মঙ্গলবার ২১ জুলাই ২০২৬ ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩

শিরোনাম: স্পেনের বিশ্বকাপ জয় যেন মার্কিন-ইসরাইলবিরোধীদের উৎসব: ইরান   ভারী বৃষ্টি নিয়ে নতুন বার্তা দিল আবহাওয়া অফিস   বাধ্যতামূলক অবসরে গেলেন অতিরিক্ত ডিআইজি   মিত্রদের ধন্যবাদ জানালেন প্রধানমন্ত্রী, ৩১ দফা ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নের অঙ্গীকার   বিশ্বকাপ ট্রফি হাতে দেশে ফিরল বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন    ফের জলাবদ্ধতার আশঙ্কায় রাজধানীবাসী   অনিয়মের অভিযোগে ৪৯ রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স বাতিল   
সাতক্ষীরায় কাজী শামসুর রহমান রহ. এর মাধ্যমে যেভাবে ইসলামী আন্দোলনের গণভিত্তি রচিত হয়
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৫ মে, ২০২৬, ৮:৫৯ পিএম   (ভিজিট : ৪৩৭)

মরহুম কাজী শামসুর রহমান সাহেব সবসময় তার সাথে সাহিত্য, পত্রপত্রিকা, সহযোগী সদস্য ফরম ইত্যাদি সম্বলিত একটা ব্যাগ এবং পরিধানের উপযোগী জামা-কাপড় সাথে রাখতেন। সেই সাথে, মোমবাতি, দিয়াশালাই, কাগজ-কলম, জরুরি ঔষধপত্রসহ অনেক কিছুই তার সাথে থাকতো।

১৯৮৬ সালে প্রথমবার এমপি হওয়ার আগ পর্যন্ত তিনি বেশিরভাগ সময় বাইসাইকেলেই চলাফেরা করতেন। অনেক সময় তিনি প্রায় এক সপ্তাহ সময় বাড়ির বাইরে থেকে বিভিন্ন থানায় সাংগঠনিক সফর করতেন। যোগ্য ব্যক্তিদের খুঁজে বের করার কাজেই তিনি বেশি সময় দিতেন। তিনি এভাবে কাজ করার জন্যই সাতক্ষীরায় সংগঠন শক্তিশালী হয়।

সাতক্ষীরা জেলায় আন্দোলনকে এগিয়ে নেয়ার চিন্তাই তার জীবনের প্রধান মিশন ছিল। এই মিশনকে বাস্তবায়ন করার জন্য তিনি নির্বাচন করলেন যোগ্য সংগঠক ও ত্যাগীব্যক্তিত্ব ইজ্জত উল্লাহ ভাইকে। একইসাথে, ডা. নুরুল আমীনকে খুলনা থেকে আশাশুনিতে, মৌলভী আব্দুল জালীদ ভাইকে সাতক্ষীরায় আনা ছিল আন্দোলনের বাগিচা সুশোভিত করার ক্ষেত্রে তার অনবদ্য প্রয়াস। 

মরহুম কাজী শামসুর রহমান ছিলেন অত্যন্ত গতিশীল মানুষ। অনেক বেশি কাজ করতেন তিনি। অনেকেই তার গতির সাথে তাল মেলাতে পারতেন না। কাজে অলসতা তিনি একদমই বরদাশত করতে পারতেন না। এক অজুতে কয়েক ওয়াক্ত নামায আদায় করতেন। তাহাজ্জুদ নামাজও পড়তেন তিনি। যতই রাত করে ঘুমান না কেন, শেষ রাতের নামায-জিকির-দোয়া ছিল তার নিয়মিত অভ্যাস। সাহাবীদের চরিত্রের সাথে তার চরিত্রের ছিলো অপূর্ব মিল। এ যেন দিনের বেলায় ঘোড় সাওয়ার ও রাতের জায়নামাযের দরবেশ। 

দ্বীন কায়েমে এমন নিবেদিতপ্রাণ মর্দে মুজাহিদই আজ এদেশে বেশি বেশি দরকার। মরহুম কাজী শামসুর রহমান তিন-তিনবার এমপি ছিলেন। এরপরও আজ পর্যন্ত তার কোনো শত্রুও তার অর্থনৈতিক লেনদেনের ব্যাপারে কথা বলার সাহস পায়নি। দেশ-বিদেশ থেকে দাওয়াত এসেছে মানুষ কাজী সাহেবকে দেখার জন্য উম্মুখ হয়ে ছিল। সে সূত্রে তিনি সৌদি আরব, আমেরিকা, ইউরোপ, জাপান, ভারতসহ বহু দেশে সফর করেছেন। যাবতীয় ব্যয়ভার প্রবাসীরাই বহন করেছিলেন। এছাড়া রাষ্ট্রীয় অতিথি হয়ে তিনি হজও করেছেন।

মানুষ দোষ-ত্রুটির ঊর্ধ্বে নয়। মরহুম কাজী ভাইও দোষ-ত্রুটির ঊর্ধ্বে ছিলেন না। এখন তিনি আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন অনেক দূরে। রেখে গেছেন অসংখ্য নেক কাজ। আল্লাহ পাক তার নেক আমলগুলো কবুল করুন এবং মানবিক ঘাটতিগুলো ক্ষমা করে দিন। আর সাতক্ষীরায় ইসলামী আন্দোলনের অগ্রগতিতে কাজী ভাই-এর শূন্যতা দূর করার মতো যোগ্য লোকদের শামিল করুন, আমীন। 

লেখক: সাতক্ষীরা সদর-২ আসনের নবনির্বাচিত এমপি, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সেক্রেটারি ও সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের সাবেক আমীর মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক।










  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ


সম্পাদক ও প্রকাশক: ড. কাজী এরতেজা হাসান
সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
সাউথ ওয়েস্টার্ন মিডিয়া গ্রুপ


©ডেইলি ভোরের পাতা ডটকম


©ডেইলি ভোরের পাতা ডটকম

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫।
ফোন:৮৮-০২-৪১০১০০৮৭, ৪১০১০০৮৬, বিজ্ঞাপন বিভাগ: ৪১০১০০৮৪, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৪১০১০০৮৫
অনলাইন ইমেইল: [email protected] বার্তা ইমেইল:[email protected] বিজ্ঞাপন ইমেইল:[email protected]