
সংগৃহীত ছবি
রাজধানী ঢাকার ছয়টি রুটে আজ রোববার থেকে চালু হচ্ছে কোম্পানিভিত্তিক বাস চলাচল ব্যবস্থা বা বাস রুট রেশনালাইজেশন। ২০১৫ সালে এ উদ্যোগ নেওয়ার ১১ বছর পর বড় পরিসরে এ পদ্ধতি চালু হচ্ছে। এর আগে ২০২১ সালের ডিসেম্বরে ঘাটারচর থেকে সাইনবোর্ড পর্যন্ত পরীক্ষামূলকভাবে ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক বাস চলাচল শুরু হলেও উদ্যোগটি সফল হয়নি।
গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ফেরাতে গত ৮ অক্টোবর এক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ছয় মাসের মধ্যে বাস রুট রেশনালাইজেশন সম্পন্ন করার নির্দেশ দেন। এ পরিকল্পনার আওতায় রাজধানীর বিদ্যমান ৯৮টি বাস রুট পুনর্বিন্যাস করে ৩২টিতে নামিয়ে আনা হবে। প্রতিটি রুটে একটি নির্দিষ্ট কোম্পানির বাস চলবে। বর্তমানে যেসব কোম্পানি এসব রুটে বাস পরিচালনা করছে, সেগুলোকে একীভূত করে গঠন করা হবে একটি কোম্পানি।
প্রস্তাবিত সূচি অনুযায়ী, আজ বেলা ১১টায় রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ থেকে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হবে। এতে পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। পরিবহন খাতের এ শ্রমিক নেতা পরিবহন মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের প্রধান সমন্বয়কারী।
শিমুল বিশ্বাস সমকালকে বলেন, প্রাথমিকভাবে ছয়টি রুটে কোম্পানিভিত্তিক বাস চালু করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশিত সময়ের মধ্যেই ৩২টি রুটে এ ব্যবস্থা চালু করা হবে।
প্রস্তাবিত ছয়টি রুট হলো গাজীপুরের শিববাড়ী থেকে ঢাকার আজিমপুর, মিরপুর থেকে কেরানীগঞ্জ, কেরানীগঞ্জের ঘাটারচর থেকে ডেমরা, ঘাটারচর থেকে কাঁচপুর, ঘাটারচর থেকে ধউর এবং টঙ্গী থেকে আজিমপুর। রুটভেদে ২০ থেকে ২৫৩টি বাস পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে।
এর মধ্যে শিববাড়ী থেকে আজিমপুর পর্যন্ত ২৬ দশমিক ৪৭ কিলোমিটার রুটে ২৫৩টি নন-এসি বাস পরিচালনা করবে ভিআইপি পরিবহন। বর্তমানে এ রুটে ভিআইপি ও বিকাশ পরিবহনের বাস চলাচল করছে।
রাজধানীতে যানজট ও সড়ক দখলের অন্যতম কারণ হিসেবে একই রুটে একাধিক কোম্পানির বাসের মধ্যে প্রতিযোগিতাকে চিহ্নিত করা হয়। এ সমস্যা সমাধানে ২০১৫ সালে একটি রুটে একটি কোম্পানির বাস পরিচালনার লক্ষ্যে কমিটি গঠন করে সরকার। ২০০৪ সালে কৌশলগত পরিবহন পরিকল্পনায় (এসটিপি) প্রস্তাবিত ‘বাস ফ্র্যাঞ্চাইজি পদ্ধতি’ (বিএফএস) চালুর দায়িত্ব দেওয়া হয় ওই কমিটিকে।
তবে এক দশকের বেশি সময়েও পরিকল্পনাটি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। ২০২১ সালের ডিসেম্বরে ঘাটারচর থেকে সাইনবোর্ড পর্যন্ত ২৬ নম্বর রুটে পরীক্ষামূলকভাবে ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক বাস চালু করা হয়। বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ট্রান্স সিলভা ও রাষ্ট্রায়ত্ত বিআরটিসি যৌথভাবে এ কার্যক্রম পরিচালনা করে। এতে কাউন্টারভিত্তিক ই-টিকিটিং ব্যবস্থা চালু ছিল। যাত্রীদের নির্ধারিত স্টপেজ থেকে টিকিট সংগ্রহ করে নির্দিষ্ট গন্তব্যে নামতে হতো।
তবে ওই রুটের অন্য পরিবহন কোম্পানিগুলোর বাস একীভূত করা সম্ভব না হওয়ায় উদ্যোগটি বন্ধ হয়ে যায়। কয়েক কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত যাত্রীছাউনিগুলোও বর্তমানে অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। কয়েকটির সরঞ্জাম চুরি হয়ে গেছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েও বাস মালিকদের সাড়া না পাওয়ায় এ পদ্ধতি চালুর উদ্যোগ সফল হয়নি। তবে তারেক রহমানের সরকার নতুন করে বাস রুট ফ্র্যাঞ্চাইজি ব্যবস্থা বাস্তবায়নে গুরুত্ব দিচ্ছে।
সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির হিসাবে, রাজধানীতে অনুমোদিত বাস রুটের সংখ্যা ৪১৮টি এবং পরিবহন কোম্পানি রয়েছে ১২০টি। এসব রুটে সাত হাজারের বেশি বাস চলাচলের অনুমোদন রয়েছে। তবে বর্তমানে সচল রুট ৯৮টি এবং সক্রিয় কোম্পানির সংখ্যা ৬৬। একই রুটে আট থেকে ১০টি পর্যন্ত কোম্পানির বাস চলাচল করে।
যাত্রী সংগ্রহের প্রতিযোগিতায় এসব বাস পথে পথে থামে। এক কোম্পানির বাস অন্য কোম্পানির বাসকে চলাচলের সুযোগ না দিয়ে পথ আটকে দাঁড়িয়ে থাকে। এতে সড়কের একাধিক লেন বন্ধ হয়ে যানজট সৃষ্টি হয়।
ফ্র্যাঞ্চাইজি পদ্ধতিতে একই রুটে চলাচলকারী বিভিন্ন কোম্পানির বাস একীভূত করে একটি কোম্পানির অধীনে পরিচালনা করা হবে। বিনিয়োগের অনুপাতে মালিকরা মুনাফা পাবেন। চালক ও শ্রমিকদের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের পরিবর্তে কোম্পানির মাসিক বেতনভুক্ত করা হবে।
এ ব্যবস্থায় বাসগুলো নির্ধারিত সময়ে যাত্রা শুরু করবে এবং নির্দিষ্ট স্টপেজে থেমে যাত্রী ওঠানামা করাবে। একটি বাস অন্য বাসকে ওভারটেক করতে পারবে না। ফলে বাসের মধ্যে অসুস্থ প্রতিযোগিতা কমিয়ে সড়কে শৃঙ্খলা ফেরানো সম্ভব হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।